
|
ভারতে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন
প্রকাশ:
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:৩৩ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্ভল জেলায় তথাকথিত ‘অবৈধ দখল’ উচ্ছেদের নামে একটি মাদরাসা এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চন্দৌসি তহসিলের নারৌলি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের দাবি, নারৌলি নগর পঞ্চায়েতের বঞ্জারি কোয়ান এলাকায় অবস্থিত ‘দারুল উলুম মাদরাসা’ ২৮৫ বর্গমিটার সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজস্ব নথিতে উক্ত জমিটি আবর্জনা ফেলার গর্ত এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং পিএসি বাহিনীর উপস্থিতিতে মাদরাসাটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু মাদরাসায় নয়, এর আশেপাশে অবস্থিত ৮ থেকে ১০টি বাড়িকেও অবৈধ ঘোষণা করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চন্দৌসির মহকুমা শাসক (এসডিএম) আশুতোষ তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে দুইবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।” স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই অভিযানের সময় এবং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মাদরাসা কমিটির সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই মাদরাসাটিতে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিল। অনেক পরিবার দাবি করেছেন, তাদের বাড়িঘর বৈধ হওয়া সত্ত্বেও কোনো সঠিক শুনানি ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরো এলাকাটিকে ‘পুলিশ ক্যাম্প’-এ পরিণত করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। নারৌলি পঞ্চায়েত চেয়ারম্যান বিট্টন মালিক এই অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, তাকে বা স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মাদরাসাটি একটি ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল এবং হঠাৎ করে এভাবে ভেঙে ফেলাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। |