
|
‘কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না’
প্রকাশ:
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:০৩ রাত
নিউজ ডেস্ক |
কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ। সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনি প্রচারণায় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জন করার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা ও কারিকুলামে পরিমার্জনের ঘোষণায় গভীর উব্দেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী ও যুগ্ম মহাসচিব মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসা উপমহাদেশের একটি স্বতন্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ধারার মাধ্যমে যোগ্য আলেম, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও দ্বীনি দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে। এ শিক্ষাব্যবস্থার নিজস্ব নীতিমালা, পাঠ্যক্রম, শিক্ষাদর্শ ও স্বকীয়তা রয়েছে, যা কোনো রাজনৈতিক দল বা কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন মহলের মাধ্যমে পরিবর্তনের বিষয় হতে পারে না। কওমি মাদরাসার স্বকিয়তা, শিক্ষা কারিকুলামের বিষয়টি সংসদ কর্তৃক মিমাংসিত ও আইনসিদ্ধ। আমীরে জামাত ডা. শফিকুর রহমান সাহেব বক্তব্যে বলে থাকেন, কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজার টুকরা, কওমি মাদ্রাসা থেকেই যোগ্য, মুহাক্কিক আলেম তৈরী হয়। আবার তিনি তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারে কওমি মাদরাসার শিক্ষার ও পরিমার্জনের বিষয়টি উল্লেখ করে দ্বিচারিতার প্রমান করেছেন। বিষয়টি দুর অভিসন্ধিমূলক কওমি শিক্ষাকে ধ্বংস করার নমান্তর। ২০১৮ সনের ৪৮ নং আইনটি ৮ অক্টোবর মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মতি লাভ করেছে। উক্ত আইনে ২(১) কওমি মাদরাসা “অর্থ:- আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ও দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ, মূলনীতি, মত ও পথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহয়তা উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্র। (খ) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর বাণী “আমি ও আমার সাহবীগন যে মত পথের উপর প্রতিষ্ঠিত” এর আলোকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আত এর মতাদর্শ অনুসরণে আম্বিয়া আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাসুম (নিস্পাপ) হওয়ার বিশ্বাস এবং সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমের আজমত (মর্যাদা) ও তাঁহাদের “মিয়ারে হক” (সত্যের মাপকাঠি) হওয়ার বিশ্বাস অন্তরে সুদৃঢ় করা ও তদনুসারে জীবন যাপন করা। (গ) চার মাযহাবের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরম সহিষ্ণুতার সহিত হানাফি মাযহাব অনুসরণ। আমীরে জামাত ডা. শফিকুর রহমান সাহেব এবং তার দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে আইনে স্বীকৃত উল্লেখিত বিষয় পরিমার্জিত করলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা অস্তিত্বের উপরে হস্তক্ষেপ হবে বলে আমরা মনে করি। আমরা আমিরে জামাতের পরিমার্জনের নামে অযাচিত হস্তক্ষেপ প্রত্যাখান ও নিন্দা জানাই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কওমি মাদ্রাসায় সংস্কারের প্রয়োজন হলে তা কেবল কওমি আলেম, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহের মাধ্যমেই হতে পারে। যাদের কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই দেওবন্দি আকিদার যারা অনুসারী নয়, তারা এ বিষয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার রাখেন না। বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এ শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কওমি অঙ্গন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে। |