
|
‘কারও ওপর অপবাদ দেওয়ার আগে আখেরাতের কথা চিন্তা করুন’
প্রকাশ:
০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:৪২ রাত
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী || মানুষকে কখনো খুশি করা যায় না! তাই কাজ করুন রবকে সন্তুষ্ট করতে! গতকাল আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এর বিরুদ্ধে বিষোদগার বিষয়ে প্রতিবাদ প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম। আমি এর আয়োজক নই। কেবলি একজন সাধারণ প্রতিবাদী হিসেবে গিয়েছিলাম। সাধারণত এরকম প্রোগ্রামে আমি যাই না। শুধু লেখনির প্রতিবাদেই সীমিত থাকি। কিন্তু মাদরাসাগুলো বন্ধ থাকায়, সেইসাথে নেতৃস্থানীয় উলামাগণ নিজস্ব এলাকায় ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকায় মনে হলো যাওয়া উচিত। গিয়ে যখন দেখি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাই নিজে উপস্থিত। তখন প্রথমে তার সাথে কথা বলি। তিনি আমাকে স্পষ্ট বলেন যে, ভাই আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি। আমি বললাম: তাহলে থাকেন। আমরা আমাদের বক্তব্য দেই, তারপর আপনি সবার সামনে ক্ষমা চাইলে বিষয়টা এখানেই শেষ হয়ে যাবে। মূলত এ কারণেই আমার বক্তব্যে আমি বলেছি: 'নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাই এখানে আছেন। তাকে আমাদের সামনে এসে ক্ষমার ঘোষণা দিতে হবে"। পরে আয়োজকদের সাথে কথা বললাম। তারা বললেন যে, "এখানে পাটওয়ারী ভাইকে কথা বলতে দেয়া যাবে না। আমাদের প্রোগ্রাম শেষ হবার পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি ক্ষমা চাইলে সুন্দর হবে। কারণ হলো: আমি চুপ হয়ে গেলাম। আস্তে করে সরেও গেলাম। মিছিল শুরু হলো। আমি সেই মিছিলে শরিক হইনি। কারণ, আমার দৃষ্টিতে আমি যে কারণে এসেছি। নাসীরুদ্দীন ভাই যেহেতু তাতে রাজি হয়েছেন। সুতরাং তার বিরুদ্ধে আর কোন কথা বলার যৌক্তিকতা নেই। বাইতুল মুকাররমের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে নাসীরুদ্দীন ভাইয়ের ব্রিফিং শুনছিলাম। তিনি এবং তার সাথে থাকা সাথীরা ঢালাওভাবে আজকের আয়োজনে আসা সবাইকে মির্জা আব্বাস সাহেবের লোক বলে মন্তব্য করছেন। রাজনৈতিক ফায়দা নেবার অভিযোগ তুলছেন। তখন আমি এগিয়ে গেলাম। এটাতো মিথ্যা কথা। আমার মতো আরো অনেকে আছেন, যাদের সাথে মির্জা আব্বাস সাহেবের কখনো সাক্ষাতই হয়নি। তার দালালি করা, বা তার পক্ষ থেকে আসারতো প্রশ্নই উঠে না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাইয়ের কাছাকাছি গেলে। পাটওয়ারী ভাইয়ের সাথে থাকা মাওলানা, আমি নামটা জানি না। তিনি আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দেন। তখন আমি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে কথা বলি। তিনি তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। দুঃখপ্রকাশ করেন। আমি বললাম, তাহলে এরপর আর কোন কথা থাকে না। কেউ ভুল করে ক্ষমা চাইলে তার প্রতি আর কোন ক্ষোভ রাখা যায় না। সুতরাং তাকে ক্ষমা করে দেয়া উচিত। এরপর সৌহার্দ্যতার নিদর্শন হিসেবে আমি তার পক্ষে ভোটও চাইলাম। আমরাতো ব্যক্তি বিদ্বেষ নিয়ে এখানে যাইনি। কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেও যায়নি। তাই কোন প্রকার কৃপণতা না করে তার সাথে সুন্দর ও বন্ধুত্বসূলভ আচরণ করেছি। তিনিও চমৎকার ব্যবহার করেছেন। ঘটনা এখানেই শেষ। যারা এরপরও আমাকে ও আমার মতো আরো অনেককে যারা সেই প্রতিবাদে গিয়েছেন। তাদেরকে ঢালাওভাবে মির্জা আব্বাস সাহেবের দালাল বলতেছেন। টাকা খেয়েছি বলছেন। তারা কি এ অপবাদের জবাব আল্লাহর কাছে দিতে পারবেন? আমরা মানুষকে খুশি করতে, কারো পক্ষে দালালি করতে কাজ করি না আল্লাহর রহমতে। এতে কেউ খুশি হোক বা বেজার। সঠিক ও হক মনে করলে আমরা সেই কাজটা করে ফেলি। এতে নিন্দাকারীদের নিন্দার পরোয়া করি না। আলহামদুলিল্লাহ। এমএম/ |