
|
গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনায় উদ্বেগ প্রকাশ প্রেস সচিবের
প্রকাশ:
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি গত ১৮ মাসের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করার পরও মৌলিক সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত ‘তথ্য যাচাই’ করতে বারবার ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। একই সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেন। প্রেস সচিবের ভাষ্য, আবদুল্লাহ আল জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক- সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। শফিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেসবুক পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করে জানান, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি। সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তার অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে। সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন। এমএম/ |