সিলেট-৩: অবিরাম ছুটছেন মাওলানা রাজু, উজ্জ্বল হচ্ছে জয়ের সম্ভাবনা
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:৪৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বিশেষ প্রতিনিধি

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী তিনি। ধানের শীষের এম এ মালেকের সঙ্গে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নানা সমীকরণে তিনি অনেকটা এগিয়ে আছেন। 

মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু সিলেটের বিখ্যাত দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের প্রিন্সিপাল। বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের সহসভাপতি। ধর্মীয় অঙ্গনে তিনি দেশজুড়ে পরিচিত। তার বাবা শাইখুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী ছিলেন কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের প্রায় নয় বছরের চেয়ারম্যান। সারাদেশের আলেম-উলামা ও দীনদার মানুষের কাছে ‘গহরপুরী হুজুর’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।

১১ দলের সমর্থন এবং খ্যাতিমান বাবার বিশাল পরিচিতি মাওলানা রাজুকে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে। ভোটের মাঠে নবাগত হলেও তিনি ইতোমধ্যে নিজের ভিত বেশ শক্তিশালী করে তুলেছেন। সময় যত গড়াচ্ছে তার জয়ের সম্ভাবনা ততই বাড়ছে। বিএনপির প্রার্থী এবং দলটির যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি এম এ মালেকের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বড় দলের প্রার্থী হওয়ার পরও তার জয়ের সমীকরণ দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা রাজুকে প্রার্থী ঘোষণার পর প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শীর্ষ দলগুলো তেমন সক্রিয় ছিল না। তাদের দলীয় প্রার্থী থাকায় অনেকে মনোক্ষুণ্নও হয়েছিলেন। তবে দিন যত গড়াচ্ছে জামায়াতসহ অন্য দলগুলো মাওলানা রাজুর পাশে সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়াচ্ছে। যেকোনো মূল্যে তাকে বিজয়ী করতে একজোট হয়েছে।

দলীয় ও জোটের প্রভাবের পাশাপাশি মাওলানা রাজুর পারিবারিক পরিচিতি তার মাঠ দিন দিন সুসংহত করছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই ‘গহরপুরী ছাব’র ফুয়া’কে জেতাকে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনটিতে প্রবাস থেকে অনেকেই তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন। এমনকি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পদধারী অনেকেই প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তাকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রবাসীদের অনেকেই তার নির্বাচন উপলক্ষে দেশে চলে আসছেন।

এদিকে এলাকায় একটি আওয়াজ উঠেছে- ‘দেশি না বিদেশি, লন্ডনী না সিলেটি’। যেহেতু বিএনপি প্রার্থী এম এ মালেক দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসী, এজন্য এলাকাবাসী তার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। অনেকের ধারণা, তিনি বিজয়ী হলেও দেশে থাকবেন না। যদিও তিনি নিজে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি দেশেই থাকবেন।

এলাকাবাসী অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এম এ মালেক ধানের শীষের মতো জনপ্রিয় প্রতীক নিয়ে এলেও তিনি বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছেন। এলাকার রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম হতে তাকে বেগ পেতে হচ্ছে। আরও একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ফলে মনোনয়ন বঞ্চিতরা পুরোপুরি সক্রিয় হচ্ছেন না। অনেকে প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দিলেও ভেতরে ভেতরে প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করছেন। দলীয় কোন্দল এম এ মালেকের জয়ের পথে কাঁটা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

এদিকে মাওলানা রাজু এলাকাতেই অবস্থান করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক নানা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুখে-দুঃখে তাকে কাছে পাওয়া যাবে-এমনটা মনে করেন এলাকাবাসী। এজন্য এমপি হিসেবে তাকে বেছে নিতে চায় অনেকেই।

মাওলানা রাজু এবার আঁটঘাঁট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। নানা কৌশল এঁটে এগিয়ে যাচ্ছেন ভোটের মাঠে। প্রতিদিন চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনি এলাকা। তিন উপজেলার প্রতিটি জনপদে তিনি পৌঁছাতে চান নির্বাচনের আগে। এজন্য বিরামহীনভাবে ছুটছেন তিনি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ করছেন, রিকশা প্রতীকে ভোট চাইছেন। কোন এলাকার কী সমস্যা তা চিহ্নিত করে আশ্বাস দিচ্ছেন সমাধানে। এতে এলাকাবাসীও তাকে গ্রহণ করে নিচ্ছেন সহজে। ফলে দিন দিন জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে রিকশা প্রতীকের