কওমি সিলেবাস পরিমার্জনের ঘোষণা জামায়াতের, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:১৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ক্ষমতায় গেলে কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশজামায়াতে ইসলামী।

দলটির এই ঘোষণা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে দলটির এমন ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াত কখনো কওমি মাদরাসার মঙ্গল চায়নি। বরং দলটি কওমি মাদরাসা শিক্ষার বিকাশে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার তাদের এই ঘোষণার পেছনে কোনো অশুভ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে থাকা দলগুলোর অনেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারাও কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন।

গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বনানীর হোটেল শেরাটনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে, জামায়াত সরকার গঠন করলে ইবেতদায়ি মাদরাসাগুলো

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করা হবে। পরিমার্জন করা হবে কওমি শিক্ষা সিলেবাসও।

এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি

মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ারও ঘোষণা

রয়েছে ইশতেহারে।

এদিকে জামায়াতের এমন ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। যারা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং আগে থেকেই দলটির বিরোধী তারা কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, জামায়াত যেখানে কওমি মাদরাসার অস্তিত্বই মানতে চায় না, বিএনপির সঙ্গে সরকারে থাকাকালে কওমি স্বীকৃতি বাস্তবায়নে প্রধান প্রতিবন্ধক ছিল, তাদের দ্বারা কওমির কোনো উন্নতি হতে পারে না। তারা ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদরাসাকে সঙ্কুচিত এবং শিক্ষাধারা বিকৃত করার চেষ্টা চালাবে। এজন্য তারা জামায়াতের এই উদ্যোগের বিরোধিতা ও সমালোচনা করছেন।

অন্যদিকে যারা জামায়াতের প্রতি আগে থেকেই দুর্বল এবং বর্তমানে নির্বাচনি জোটে রয়েছে, কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্ট এমন ব্যক্তিদের কেউ কেউ জামায়াতের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, সময়ের প্রয়োজনে কওমি মাদরাসা সিলেবাস পরিমার্জন করা দরকার। এটার দাবি ভেতর থেকেই উঠছে। আর জামায়াত নিজেরা চাপিয়ে দেবে বলেনি, বলেছে কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আলেম ও আকাবিরকে সঙ্গে নিয়েই তারা এই কাজটি করবে।

আরএইচ/