
|
‘প্রচলিত আইন দেশ থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেনি সামনেও পারবেনা’
প্রকাশ:
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:০৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রচলিত ৫৪ বছরে যে আইন এদেশ থেকে টাকা পাচার, খুন চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে নাই, সামনেও পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঈদগা মাদ্রাসার সামনে দক্ষিণপাড় বাস স্ট্যান্ডে হাতপাখার নির্বাচনী বিশাল এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব মন্তব্য করেন। চরমোনাই পীর বলেন, বিএনপি জোট এবং জামাতের নেতৃত্বে জোট একই কায়দার। বিএনপি যে নীতি আদর্শ পালন করতে চায় আমরা সকলেই জানি সেই আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, তিনি বলেছেন অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, এক কথায় তারা বোঝাতে চায় সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। তিনি বলেন, জামাতের নেতৃত্বে যারা রয়েছে জামাতের আমির পরিষ্কারভাবে বলেছেন তার একজন প্রার্থী হিন্দু খুলনা ১ আসনের কৃষ্ণ নন্দী, তিনি বলেছেন, আপনারা জামাতকে ইসলামিক দল বলেন কেন? তারা তো ইসলামিক দল না,একবার নয় কয়েকবারই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তার জোটভুক্ত দল কর্নেল অলি আহাম্মদ বলেছেন জামাতের আমির তাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা ইসলামিক আইনে দেশ চালাবে না, তারা প্রচলিত আইনেই দেশ চলছে সেই আইনেই চালাবে। প্রচলিত এই আইন ৫৪ বছর ধরেই চলছে, সেই আইন কোনদিন টাকা পাচার খুন চুরি ডাকাতি দুর্নীতি অনিয়ম বন্ধ করতে পারছে? নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে মিথ্যা কেচ এর মাধ্যমে তাদের সংসারকে বিলীন করে দিয়েছে, এদেশে বসে বিদেশীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে, দেশে বসে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তাতে বোঝা গেল দেশের এই নিয়ম নীতি আর আদর্শ নতুন ভাবে আমাদের কোন ভালো ফল দেওয়ার আশা করা বোকামি। আরেকটা হল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অদ্যবধি পর্যন্ত একজন এমপিও সংসদে যায় নাই, যাওয়ার সুযোগ কিন্তু অনেক ছিল বহুদল এখনো সুযোগ দিতে চায়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন কখনোই সেই গতানুগতিক যেই নীতি আদর্শের মাধ্যমে যেই নেতৃত্বের মাধ্যমে হাজার হাজার মায়ের কোল হারা হয়েছে সেই নীতি আদর্শ সেই নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তাদের সহযোগী আমরা হতে পারি না, এজন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একাই হাত পাখা নিয়ে নির্বাচন করছে। তিনি আরও বলেন, যখন ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান হলো আমি ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স করার প্রস্তাব দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন সেখানে অনেকগুলো কওমি ঘরানার দল অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, এরপর জামাতসহ দুটি দল যোগদান করে, পরবর্তীতে তারাই বড় মাতুব্বর বনে যায়, তখন নেতৃত্ব তারা হাতে নিয়ে ইসলামী শরিয়া বাস্তবায়ন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়, তারা ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে, একবার না কয়েকবার। ইসলামী আন্দোলন সেই জোটে থাকতে পারে? যা কখনোই সম্ভব না, যা দুনিয়াতেও ধ্বংস আখেরাতেও ধ্বংস, এ কারণেই আমরা বেরিয়ে এসেছি। এ জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামী আন্দোলনের ফরিদপুর-৪ এর প্রার্থী মাওলানা ইছহাক চোকদার প্রমূখ। এ সময় ফরিদপুর-৪ ও ২ এর প্রার্থীর হাতে হাতপাখা তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন এবং হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান। সবশেষে দেশ ও দেশের কল্যাণে সকলকে নিয়ে দোয়া ও মুনাজাত করেন মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)। এমএম/ |