শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

||নাজমুল হাসান||

শবে বরাত, যা ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা ‘মুক্তির রাত’ নামে পরিচিত, শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন, ক্ষমা দান করেন এবং দোয়া কবুল করেন। মুসলিম বিশ্বে এই পবিত্র রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পালন করা হয়। তবে শবে বরাতের আমলকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তিও প্রচলিত রয়েছে। তাই এ রাতে কী করা উচিত এবং কী বর্জন করা দরকার—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

শবে বরাতে করণীয়

শবে বরাতে সর্বাগ্রে ফরজ ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সে যেন পুরো রাত ইবাদতে কাটাল—এমন সওয়াব লাভ করে।

এ রাতে নফল নামাজ আদায় করা যায়। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত অনেক বেশি। পাশাপাশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম আমল, যা বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।

শবে বরাত তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। নিজের কৃত পাপ ও ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যারা এ রাতে আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

এ ছাড়া দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজন ও সমগ্র উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া করা এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।

শবে বরাতে বর্জনীয়

শবে বরাত ইবাদতের রাত; তাই এ রাতে বিদআত বা শরিয়তসম্মত নয়—এমন সব কাজ পরিহার করা জরুরি।

পটকা ফোটানো, আতশবাজি করা কিংবা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ অনুচিত। এসব কাজ ইসলামের ভাবগাম্ভীর্য ও মূল আদর্শের পরিপন্থী।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ খাবার রান্না করা কিংবা হালুয়া-রুটি আয়োজনকে আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়। ইবাদতের পরিবর্তে খাবারের আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া একটি ভুল ধারণা।

বাড়ি, মসজিদ বা ধর্মীয় স্থাপনায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা অপচয়ের শামিল হতে পারে। ইসলাম অপচয়কে সমর্থন করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা অপচয় কোরো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা বনি ইসরাইল : ২৭)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সারা রাত নফল ইবাদতে মশগুল থাকার পর ফজরের ফরজ নামাজ যেন কাজা না হয়। ফরজ ইবাদতের গুরুত্ব নফলের তুলনায় অনেক বেশি।

শবে বরাত উপলক্ষে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ইসলামের মূল শিক্ষা অনুসরণ করা এবং সব ধরনের বিদআত ও অপচয় থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। এই পুণ্যময় রাতে সঠিক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের এক মহান সুযোগ রয়েছে।

এনএইচ/