ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্ম পুরস্কার পাচ্ছেন পাঁচ মুসলিম
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ভারতে চলতি বছর শিল্প, সাহিত্য ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে মোট ১৩৩ জন কৃতী ব্যক্তিত্বকে পদ্ম নাগরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন মুসলিম ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অবিসংবাদিত নায়ক মামুট্টিকে এ বছর পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে ৪০০-এর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই শিল্পী কেবল কেরালার নন; বরং সমগ্র ভারতের চলচ্চিত্র জগতের এক মহিরুহ। তার অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা এবং শিল্পের প্রতি নিবেদন তাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানের যোগ্য করে তুলেছে।

শিল্পকলা ও লোকসংস্কৃতি রক্ষায় রাজস্থানের গাফফারুদ্দিন মেওয়াতি যোগীর নামটিও এ তালিকায় উজ্জ্বল। তিনি বিরল ‘ভাপং’ যন্ত্রের বাদক এবং মেওয়াতি যোগী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েক প্রজন্ম ধরে মহাভারতের কাহিনি বা ‘পান্দুন কা কাদা’ গেয়ে চলেছেন। তার এ সাধনা হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।

একই ভবে গুজরাটের জুনাগড় থেকে উঠে আসা মীর হাজিভাই কাসামভাই তার ঢোলক বাদনের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন দেশবাসীকে। ‘হাজি রামাকড়ু’ নামে পরিচিত এই শিল্পী হাজার হাজার মঞ্চ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সংগীত ও গজলকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

পূর্ব ভারতের আসাম থেকে নুরুদ্দিন আহমেদ তার ভাস্কর্য ও দৃশ্যশিল্পের মাধ্যমে নতুন একটি ধারা তৈরি করেছেন। তিনি বৈষ্ণব সংস্কৃতি থেকে শুরু করে দুর্গা প্রতিমা ও আসামের জননেতাদের মূর্তি নির্মাণে যে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, তা তাকে জাতীয় স্তরে পরিচিতি দিয়েছে। শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য ও শিল্পের মাধ্যমে দর্শনের বহিঃপ্রকাশ তার কাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের প্রখ্যাত পণ্ডিত ও ভাষাবিদ অধ্যাপক শফি শৌক শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন। কাশ্মীরি ও ইংরেজি ভাষায় তার ডজনখানেক গ্রন্থ সাহিত্যভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। মূলত এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কাজ প্রমাণ করে, প্রতিভা কোনো ধর্মের সীমারেখায় আবদ্ধ নয়; বরং তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

এনএইচ/