
|
ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু বৃহস্পতিবার
প্রকাশ:
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৩৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে যাত্রা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। ১৬২ আসনের এই উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান। ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটিই হবে ঢাকা-করাচি রুটে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট, যা দুই দেশের যাত্রী সাধারণের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করবে এবং টানা তিন ঘণ্টা আকাশপথ পাড়ি দিয়ে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। প্রথম ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রদূতগণও সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিমান বাংলাদেশকে এই রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরাসরি আকাশপথ চালুর ফলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যকার সংযোগ বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বিমান বাংলাদেশকে নির্ধারিত আকাশসীমা ও রুট কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং করাচি বিমানবন্দরে এই ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট ‘স্লট’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপারেশনাল সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য আগেভাগেই করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুই দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সরাসরি ফ্লাইটের এই সুবিধা দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি লাঘব করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০১২ সালে নানা কারণে ঢাকা-করাচি রুটে বিমানের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল, যা প্রায় ১৪ বছর পর পুনরায় আলোর মুখ দেখছে। আকাশপথের এই পুনর্জাগরণকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফলভাবে কার্যক্রম শুরু হলে পরবর্তীতে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কার্গো পরিবহনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কেবল করাচি রুটে ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে লাহোর বা ইসলামাবাদ রুটেও সরাসরি যাতায়াতের দ্বার উন্মোচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনএইচ/ |