
|
কিশোরগঞ্জ-১: দুই খেলাফতের লড়াই, পোয়াবারো বিএনপির
প্রকাশ:
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:২১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
||বিশেষ প্রতিনিধি|| কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এই আসনের ব্যাপারে কোনো সুরাহায় আসতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছে আসনটি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ফলে এই আসনে দুই খেলাফতের প্রার্থীর মধ্যে ইসলামপন্থীদের ভোট কাটাকাটি হবে। আর এই সুযোগটি নেবে বিএনপি। এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দুটি ইসলামি দলের প্রার্থীর টানাটানিতে শেষ পর্যন্ত লাভের পাল্লা ভারী হচ্ছে বিএনপির। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন মোসাদ্দেক ভূঁইয়া। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জেলা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এলাকায় তার একটি ক্লিন ইমেজও আছে। তবে জোটের স্বার্থে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান। কোনো সুরাহায় আসতে না পারায় আসনটি দুই খেলাফতের মধ্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখানে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী। আর খেলাফত মজলিস প্রার্থী করেছে দলের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীকে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংগঠনিকভাবে দুই খেলাফতের কোনোটিই এই আসনে শক্তিশালী ভিত নেই। ভোটাররা সেভাবে সংগঠন দুটিকে চিনেনও না। ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়ার মতো সামর্থ্য কোনো খেলাফতেরই নেই। তারপরও দুই দলই প্রার্থী দিয়েছে। আবার যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, এলাকায় তাদের তেমন পরিচিতিও নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ-৪ এলাকায়, ইটনা থানায়। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বিপরীতে নির্বাচনও করেছেন। তাছাড়া তিনি থাকেন ঢাকায়। এবার তিনি সদর আসনে প্রার্থী হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ শহরে পড়াশোনার সূত্রে পরিচিতি এবং স্থানীয় আলেমদের একটি বড় অংশ তার সঙ্গে থাকলেও নির্বাচনি সমীকরণে এগিয়ে থাকার মতো কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে খেলাফত মজলিস এখানে প্রথমে প্রার্থী করেছিল শহরের প্রভাবশালী আলেম মাওলানা হিফজুর রহমানকে। তিনি এলাকায় কাজও শুরু করেছিলেন। তবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী প্রার্থী করা হয়েছে এই আসনে। মূলত আহমদ আলী কাসেমী ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী ছিলেন। সেখানে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে সেই আসন ছেড়ে কিশোরগঞ্জ সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা জানান। তিনিও সদর আসনের বাসিন্দা নন। তাছাড়া তিনি ঢাকাতেই থাকেন। ফলে এলাকার সঙ্গে তারও তেমন কোনো সংযোগ নেই। এই আসনে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলনামূলক ভালো হলেও জোটের স্বার্থে দলটিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এতে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তাছাড়া জোটের একক প্রার্থী হলে তারা সক্রিয় হতেন। কিন্তু দুটি ইসলামি দলের দুজন আলেমের প্রার্থিতা তাদের আরও নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল অনেকটা ক্ষোভের সুরে বলছিলেন- ‘উনারা নিজেরা জেদাজেদি করে আসনটি নিলেন। কিন্তু তারা কিছুই করতে পারবেন না। আমরা অনেকটা হাতে ধরে আসনটি বিএনপিকে দিয়ে দিচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত নিছক হঠকারিতা।’ এদিকে দুই মজলিসের প্রার্থীই দাবি করছেন, জোটের প্রার্থী তিনি এবং জামায়াতে ইসলামী তাকেই সাপোর্ট দেবে। এমনকি জামায়াতের প্রার্থী মোসাদ্দেক ভূঁইয়ার সঙ্গে দুজনই সাক্ষাৎ করে সমর্থন চেয়েছেন। তবে জামায়াত এখানে নীরব রয়েছে। তারা কাউকে সমর্থন দিচ্ছে না। মাওলানা আহমদ আল কাসেমী গণমাধ্যমের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে দেওয়া হয়েছে। আর সদর আসন দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে। অথচ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখানে জোর করে প্রার্থী রেখে দিয়েছে। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু ‘মোরগ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবং জামায়াতের কোনো প্রার্থী না থাকায় মূলত বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনএইচ/ |