আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন। বিচারিক প্যানেলের সদস্য মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়। অপরদিকে আসামিপক্ষ তাদের মক্কেলদের খালাস চেয়ে যুক্তি তুলে ধরে।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। আসামিদের মধ্যে বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন সুজাদ মিয়া।

এর আগে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে জুলাই–আগস্টের ওই সময়কালের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

আরএইচ/