
|
ফরজ গোসলে যেসব ভুল করলে ইবাদত কবুল হবে না
প্রকাশ:
২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|
||মুহিউদ্দীন মাআয|| নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পবিত্রতা ইমানের অংশ। সুতরাং পরিপূর্ণ মুমিন হতে পবিত্রতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ পবিত্রতার একটা দিক হলো ফরজ গোসল। অর্থাৎ,যার উপর গোসল ফরজ হবে সে বিশেষ পদ্ধতিতে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করবে। অনেকে এ বিশেষ নিয়ম না জানার কারণে সঠিকভাবে ফরজ গোসল করতে পারছেন না। যার ফলে তাদের মৌলিক ইবাদতগুলো পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারছে না। সতর্কতা জেনেশুনে ফরজ বিষয়ে অবহেলা করা জায়েজ নেই। তবে, অপবিত্র অবস্থায় যেসব ইবাদত জায়েজ আছে, সেগুলো করা যাবে। যেমন- কোরআন তেলাওয়াত শোনা, দোয়া পাঠ করা, দোয়ার নিয়তে বিভিন্ন আয়াত পড়া ইত্যাদি। (বুখারি: ২৯৭; মুসলিম: ৩০১; ফাতহুল কাদির: ১/১৬৮, রদ্দুল মুহতার: ১/১৭২, আহসানুল ফতোয়া: ২/৭১) ফরজ গোসলের বিধান। আমরা জানি, ফরয গোসলের সময় তিনটি ফরজ। ১. কুলি করা ২. নাকে পানি দেওয়া ৩. পুরো শরীরে পানি পৌঁছানো কোনো কোনো আলেমের মতে নিয়ত করাও ফরজ। এর একটিও বাদ গেলে পবিত্রতা অর্জন হবে না। অর্থাৎ অপবিত্র অবস্থায় থেকে যাবেন। অথচ দেখা যায়, অসতর্কতার কারণে অনেকে ফরজগুলো ঠিক মতো আদায় করেন না। এমন গোসল করার পর যেসব ইবাদতে পবিত্রতা শর্ত, সেসব ইবাদত তো কবুল হবেই না, বরং গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। না জেনে করে থাকলে সেটি আল্লাহ হয়ত ক্ষমা করবেন। ফরজ গোসল করবেন যেভাবে— প্রথমে প্রস্রাব করবেন। এতে বীর্য ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে বের হওয়া সহজ হয়। তারপর গোপন জায়গা ভেতরে-বাইরে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেবেন। দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেবেন। ভালোভাবে গড়গড়ার সাথে কুলি করবেন। নাকের ছিদ্রের ভেতর বাম হাতের আঙুল দিয়ে ভালো করে পানি পৌঁছাবেন। হাত ভিজিয়ে কানের ছিদ্র মুছবেন। নাভির ভেতর পরিষ্কার করে পানি দেবেন। নারীদের ক্ষেত্রে কান ও নাকফুল নাড়িয়ে ছিদ্রে পানি পৌঁছানো জরুরি। পুরষদের দাড়ি, চুল, গোঁফের গোড়াসমূহ ভালোভাবে পানিতে ভিজবে। কারো হাতে যদি ঘড়ি বা আংটি থাকে, তা নেড়ে ভেতরে পানি পৌঁছাতে হবে। নারীদের চুল বাঁধা থাকলে খোলা ছাড়া যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে না খুলে শুধু গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট। আর যদি চুল খোলা থাকে তাহলে পুরুষের মতো সম্পূর্ণ চুল ধৌত করা ফরজ। (বাদায়েউস সানায়ে: ১/৩৪, রদ্দুল মুহতার: ১/১৪২) নেইলপলিশ, রং বা সুপার গ্লু ইত্যাদি যা শরীরে পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়, তা উঠিয়ে নিচে পানি পৌঁছানো জরুরি, অন্যথায় গোসল শুদ্ধ হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৩) (রদ্দুল মুখতার: ১/১৪২) এরপর পানি দিয়ে মাথা ভিজিয়ে নেবেন। তারপর নামাজের অজুর মতো করে পূর্ণাঙ্গ অজু করা উত্তম। এরপর প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাম অংশে পানি ঢালবেন। তারপর সারা দেহে পানি ঢালবেন। মনে রাখবেন, বাহ্যিক অঙ্গের চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনা থাকলে ফরজ গোসল শুদ্ধ হবে না। (শরহে মুখতাসারুত তাহাভি: ১/৫১০) রাসুলুল্লাহ সা. গোসল করতেন যেভাবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মায়মুনা রা. বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সা.-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তা দিয়ে তিনি জানাবাতের (অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার) গোসল করেন। আল্লাহর নবী সা. পাত্র হাতে নিয়ে নিজের ডান হাতের ওপর কাত করে তা দুই বা তিনবার ধুয়ে নেন। অতপর তিনি তার লজ্জাস্থানের ওপর পানি ঢেলে— বাম হাত দিয়ে ধুলে নেন। পরে তিনি মাটির ওপর হাত ঘষে (দুর্গন্ধমুক্ত হওয়ার জন্য) তা পানি দিয়ে ধুয়ে নেন। অতপর তিনি কুলি করেন এবং নাক পরিষ্কার করেন। অতপর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধুয়ে নেন। এরপর তিনি নিজের মাথা ও সারা শরীরে পানি ঢালেন। পরে তিনি সেই স্থান থেকে অল্প দূরে সরে গিয়ে উভয় পা ধুয়ে ফেলেন। (আবু দাউদ: ২৪৫) এনএইচ/ |