
|
ছিন্ন হোক অপরাজনীতির বেড়াজাল, রচিত হোক ঐক্যবদ্ধ পথ
প্রকাশ:
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|
মুফতী আনোয়ার হুসাইন বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক স্বার্থ ও দুর্নীতির কারণে দেশের প্রকৃত কল্যাণ ঝুঁকিতে পড়েছে। অপরাজনীতি—সুশাসনহীনতা, স্বার্থপরতা, দুর্নীতি, অসাংবিধানিক দখল—এই বেড়াজাল কেবল দেশের প্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং মানুষের আস্থা ও নৈতিক মানও ক্ষয় করছে। দেশের কল্যাণের রাজনীতি করতে হলে একটি জাগ্রত, দায়িত্বশীল এবং নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন, যেখানে স্বার্থের চেয়ে দেশের কল্যাণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। নবী করীম (সা.) তাঁর জীবনে প্রমাণ করেছেন যে একতা ও ঐক্য ছাড়া কোনো সমাজে স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশে, যেখানে জনগণবহুল সমাজে স্বার্থপর কার্যকলাপ ও অপরাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, একতার মধ্যেই নিহিত সামাজিক শক্তি। দেশের উন্নয়নের পথে সকল শ্রেণি, বয়স, ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক মতবাদকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অপরাজনীতি কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; এটি মানুষের নৈতিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। দুর্নীতি সমাজে আস্থা নষ্ট করে, স্বার্থপর রাজনীতি মানুষের অধিকার হরণ করে, আর সিদ্ধান্তহীনতা দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দেয়। অতএব, দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ নেতৃত্ব ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব। রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লোভ নয়; এটি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন। সৎ নেতা জনগণের সেবা করে, নৈতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা জনকল্যাণে কাজ করে, এবং স্বার্থপরতা ও অবিচার প্রতিহত হয়। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনীতিকে নৈতিক ও সৎভাবে পরিচালনা করা আবশ্যক। শুধু রাজনীতি নয়, সামাজিক সংস্কার ও নৈতিক পুনর্জাগরণও অপরাজনীতির বেড়াজাল ভাঙার অংশ। জনগণকে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে, অন্যায়, দুর্নীতি ও মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধ করতে হবে, এবং সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজই নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল রাজনীতিবিদ নয়, প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেদের কর্মমুখী করতে হবে, দেশের আইন ও সংবিধান মেনে চলতে হবে এবং সৎ ও নৈতিক আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বকে প্রেরণা দিতে হবে। এ থেকে বোঝা যায়, দেশ গঠনে প্রত্যেকের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অপরিহার্য। যুব সমাজ দেশের শক্তি ও পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। তাদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে স্বচ্ছ ও সৎ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অপরাজনীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে নতুন, নৈতিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য একতাবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সৎ ও নৈতিক রাজনীতি, জনগণের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণ—এই তিনটি ভিত্তি মেনে চললেই আমরা একটি ন্যায়পরায়ণ, সমৃদ্ধশালী ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, একটি নৈতিক ও মানবিক আন্দোলন, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সহমর্মিতা ও প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে। লেখক: শিক্ষক, দারুল হিদায়া মিরপুর-২, ঢাকা এনএইচ/ |