চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনসিপির
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২০ সকাল
নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও শরিক দলের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থী মাঠে অনড় থাকা এবং এনসিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বয়কট’ স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তারা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বোয়ালখালী উপজেলায় এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনসিপির বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এলাকায় রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

নেতাদের অভিযোগ, বোয়ালখালীতে ডা. আবু নাসেরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই জোটের প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়েছে এবং সেখানে ‘এনসিপি বয়কট’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘জোটের ঐক্যের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতায় এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ সহ সারাদেশে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এনসিপি কেবল এই একটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোটের অন্য শরিকরা সরে দাঁড়ালেও জামায়াত প্রার্থী এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে, জামায়াতের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সেই শক্তির ক্ষতি করছে। আমরা জানতে চাই, চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না এবং জোটের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হচ্ছে কি না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সেলিম, বোয়ালখালী উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আবরার হাবিব, ফয়সাল রায়হান এবং যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সংগঠক সাঈদ বিন ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এনএইচ/