ইসলামি দলের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় থেকে কাদের সঙ্গে লড়ছেন
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বিশেষ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সারাদেশে চলছে ভোটের জমজমাট প্রচারযুদ্ধ। এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই ইসলামি দলগুলোও। এবারের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর রেকর্ডসংখ্যক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথম সারির দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও আছেন ভোটের লড়াইয়ে। এর আগে একসঙ্গে এতসংখ্যক আলেম-উলামা জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

সবচেয়ে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা-১৫ আসনে। রাজধানীর মিরপুরের একটি অংশ, কাফরুল এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে তিনি ২০১৮ সালেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে তখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সেই নির্বাচনে তার ভোটের পরিমাণ উল্লেখ করার মতো ছিল না। তবে এবার তিনি ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। ভোটের মাঠে তার অবস্থান বেশ দৃঢ়। তার বিপরীতে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এই আসনে অন্য প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এবার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হননি। তবে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও তার ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বরিশালের দুটি আসন থেকে। আসন দুটি হলো বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ায় তিনি লড়ছেন এককভাবে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে। দুটি আসনের মধ্যে বরিশাল সদরে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামি দলগুলো তার সম্মানে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। সদর আসনে তিনি লড়বেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং এই আসনের সাবেক একাধিকবারের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরওয়ারের বিরুদ্ধে। বরিশাল-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও শায়খে চরমোনাইয়ের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের সঙ্গে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি লড়াইয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন নিজের দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র ঢাকা-১৩ আসনটিকে। জামায়াতসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার বিপরীতে লড়ছেন বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে ববি হাজ্জাজ। এই দুজনের মধ্যেই এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এই আসনে মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে। এই আসনে তিনি আগেও একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। এবার তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। বিএনপি তাকে আসনটিতে ছাড় দিলেও দলটির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোট থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি আবুল হাসান। ধারণা করা হচ্ছে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। শেষ হাসি কে হাসবেন সেটা দেখতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসন থেকে। তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী। তার বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনটিতে ধানের শীষের সঙ্গে দেওয়াল ঘড়ির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাফেজ্জী হুজুরের দল ইসলামী খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা-৭ আসনে। তবে তার দল ১০ দলীয় জোটে থাকলেও সেই জোটের তিনি সমর্থন পাননি। ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী এনায়েতুল্লাহকে। পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী হামিদুল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকারও রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

আরএইচ/