ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের আটটি প্রভাবশালী দেশ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানান।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই পরিষদে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ট্রাম্পের এই শান্তি পরিষদ মূলত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট নিয়ে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ যুদ্ধোত্তর গাজার ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে একে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনের একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

এই পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো এর সদস্যপদ ও পরিচালনা পদ্ধতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই বোর্ডের ‘আজীবন চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিটি দেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে। এর আগে মিসর, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও সৌদি আরবের নীরবতা নিয়ে জল্পনা ছিল।

ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অবশেষে রিয়াদসহ বাকি চারটি দেশ এতে যোগ দেওয়ার সম্মতি দেওয়ায় ট্রাম্পের এই উদ্যোগ বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বোর্ড অব পিসের কর্মপরিধি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এটি বছরে মাত্র কয়েকবার বৈঠকে বসবে। তবে গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ নামক একটি আলাদা উপ-কমিটি কাজ করবে।

শুক্রবার এই এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তুরস্ক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মুসলিম দেশগুলো তাদের যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র গঠনের অধিকারকে ভিত্তি করে একটি ন্যায়সংগত এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা এই পরিষদে যুক্ত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উদ্যোগের বিষয়ে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রভাব রয়েছে এমন শক্তিশালী নেতাদের এই বোর্ডে প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘ যেসব কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে, এই বোর্ড সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে এবং বিশ্বের বড় বড় সংঘাত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে কিছু দেশে এই পরিষদে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদীয় অনুমোদনের জটিলতা থাকতে পারে বলেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন।

আরএইচ/