
|
সুরা ইয়াসিনের নিয়মিত আমল যে কারণে খুবই জরুরি
প্রকাশ:
২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|
কোরআনুল করিমের মোট ১১৪ টি সুরার একটি সুরার নাম ইয়াসিন। সুরার ধারাবাহিকতায় এটি কুরআনের ৩৬ নম্বর সুরা। কোরআনের অন্যান্য আয়াত তিলাওয়াত করলে প্রতিটি অক্ষরে সওয়াব পাওয়া যায়। সুরাটির নিয়মিত তেলাওয়াত ও আমলে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। কুরআনুল কারিম ৩০ পারায় সাজানো। ২২তম পারার শেষে এ সুরাটি শুরু হয়েছে ২৩তম পারার প্রথম দিকে শেষ হয়েছে। সুরাটিতে আয়াত সংখ্যা ৮৩, পাঁচটি রুকু এবং ৭টি মুবিন রয়েছে। সুরাটি ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের অনেক বর্ণনা রয়েছে। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে আর কুরআনের হৃদয় হল সুরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সুরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (তিরমিজি) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘সুরা ইয়াসিন কুরআনের রূহ বা হৃৎপিণ্ড। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা। সুরা ইয়াসিন বুঝে পড়ায় রয়েছে অনেক উপকারিতা। এ সুরায় মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির দিকে আহ্বান করে। আর পরকালভীতিই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে। সুতরাং দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল। এ সুরার নিয়মিত আমলকারীর প্রতি থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারীর কোনো গোনাহ থাকে না। সে দিক থেকে পরকালীন কল্যাণের জন্য সুরা ইয়াসিন বুঝে পড়া খুবই জরুরি। গোনাহ মাফের মাধ্যম সুরা ইয়াসিন অভাবমুক্ত থাকার আমল সুরা ইয়াসিন মৃত্যুর যন্ত্রণা মুক্ত থাকার মাধ্যম সুরা ইয়াসিন মুমিন মুসলমানের ঘরে ঘরে সুরা ইয়াসিনের নিয়মিত অধ্যয়ন, তেলাওয়াত ও আমল খুবই জরুরি। সুরাটি ‘সুরা ইয়াসিন’ নামে প্রসিদ্ধ হলেও এর রয়েছে আরও কয়েকটি নাম। যথাক্রমে তা হলো, ‘সুরা আজিমা’, ‘সুরা মুদাফিয়া’, ‘সুরা কাজিয়া’। এ ছাড়া আসমানি গ্রন্থ তাওরাতে এ সুরাটিকে ‘মুয়িম্মাহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত প্রতিদিন সকালে অন্তত একবার এ সুরাটি তেলাওয়াত করা। কেননা এ সুরার তেলাওয়াতকারীকে ইহকাল ও পরকালে ব্যাপক কল্যাণ ও শান্তি দান করা হবে। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘এ সুরা কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে আর আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করবেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাটির নিয়মিত তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করে সে আলোকে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন। এনএইচ/ |