ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহতের আশঙ্কা
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৬ রাত
নিউজ ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপের পার্বত্য এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান জানান, উদ্ধারকারীরা মাউন্ট বুলুসারাউং-এর চূড়া থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি গিরিখাতে দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ পান। বিমানে থাকা বাকিদের অবস্থার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

মাকাসারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, ধ্বংসাবশেষ মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের ঢালে ঘন বনাঞ্চলের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে বিমানের মূল ফিউজলাজ ও লেজের অংশসহ বড় ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে।

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিমানের প্রধান অংশগুলো খুঁজে পাওয়ায় অনুসন্ধান এলাকা অনেকটাই সীমিত করা গেছে। এখন আমাদের যৌথ উদ্ধারকারী বাহিনী যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে জোর দিচ্ছে।’

নিখোঁজ হওয়া টার্বোপ্রপ এটিআর ৪২-৫০০ বিমানটি পরিচালনা করছিল ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট। বিমানটি জাভা দ্বীপের ইয়োগ্যাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসার যাওয়ার পথে শনিবার রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

বিমানে ছিলেন আটজন ক্রু সদস্য এবং মেরিন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ফিশারিজ মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা, যারা আকাশপথে একটি সামুদ্রিক নজরদারি মিশনে অংশ নিচ্ছিলেন।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওকো জানান, প্রবল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। তবুও রোববার দিনভর স্থল ও আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি পথ ধরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের দিকে এগোচ্ছেন।

১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিমান ও ফেরির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিমান দুর্ঘটনা ও ফেরি ডুবে যাওয়ার মতো একাধিক পরিবহন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আরএইচ/