
|
সুন্নতের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মাওলানা রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ
প্রকাশ:
১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|
যেসকল বুজুর্গ মনীষীর নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, মাওলানা রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ. তাঁদের অন্যতম। প্রাথমিক শিক্ষা : নাদিয়াতুল কুরআনে প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা হাসিলের পর ১৯৭১ সালে তিনি পশ্চিম বশিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে ১৯৭৫সালে পঞ্চম শ্রেণীতে বার্ষিক পরিক্ষা দিয়ে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। অতঃপর তাঁর আব্বাজান রহ. তাঁকে ধলিয়া চকবস্তা এমদাদুল উলূম মাদরাসায় মুহাদ্দিস আব্দুল মালেক সাহেব রহ. এর হাতে সোপর্দ করেন, এবং জামাতে দোয়াজদাহমে ভর্তি করান। মুহাদ্দিস সাহেব রহ বলেন, আপনি এই মাদরাসায় কেন ভর্তি করান? মাদরাসা তো অনেক আছে? তিনি (হাবিবুর রহমান রহ) বললেন, হযরত! তালীম তো কমবেশি সব জায়গায় আছে তবে আমি আপনার নাতিকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছি তারবিয়াতের জন্য। একথা শুনে হযরত খুব খুশি হলেন এবং বললেন, এমন কথা তো এখন অনেকেই জানে না।' ধলিয়া চকবস্তা মাদরাসায় তাঁর প্রিয় উস্তাদদের মধ্যে একজন ছিলেন মাও. ইয়াসীন সাহেব সন্দিপী দা. বা.। ধলিয়া মাদরাসায় এবতেদায়ী জামাত (মিজান) শেষ করার পর উস্তাদে মুহতারাম মাও.ইয়াসিন সাহেব সন্দিপী এর পরামর্শে চট্টগ্রাম মেখল মুফতীয়ে আজম মাও. ফয়জুল্লাহ সাহেব রহ প্রতিষ্ঠিত হামিউস সুন্নাহ মাদরাসায় ১৯৭৯ সালে ভর্তি হন। এবং সেখানে অত্যন্ত সুনামের সাথে ৫ বছর শরহে জামী জামাত পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। হাটহাজারীতে গমন: হাটহাজারীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় হাদীসের কিতাব এবং অন্যান্ন মশহুর কিতাবের উস্তাদবৃন্দের তালিকা: সহীহ বুখারী শরীফ ও তিরমিজি শরীফের উস্তাদ শাইখুল হাদীস আল্লামা শাহ আব্দুল আজীজ রহ, সহীহ মুসলিম শরীফের উস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদুল হক সাহেব রহ, আবু দাউদ শরীফের উস্তাদ আল্লামা আবুল কাশেম ফতেপুরী রহ., নাসায়ী শরীফ ও শামায়েলে তিরমিজী শরীফের উস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ., ইবনে মাজাহ শরীফের উস্তাদ শাইখুল আদব আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহ.,ত্বহাবী শরীফের উস্তাদ আল্লামা আবদুস সুবহান রহ., মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদের উস্তাদ আল্লামা হাফেজ কাশেম সাহেব রহ., এবং মুয়াত্তা ইমাম মালেক এর উস্তাদ আল্লামা শেখ আহমদ দা. বা. দারুল উলূম দেওবন্দে গমন: হযরত রহ তাঁর লিখিত এক পত্রে লিখেছেন, ধলিয়া চকবস্তা এমদাদুল উলূম মাদরাসায় পড়াকালীন আমার প্রিয় উস্তাদদের একজন ছিলেন মাও.ইয়াসীন সন্দীপী সাহেব। তাঁর মুখেই সর্বপ্রথম দারুল উলূম দেওবন্দের কাহিনী শুনি। সেখান থেকেই দেওবন্দ যাওয়ার স্পৃহা জাগে। এবং ধীরে ধীরে দারুল উলূম দেওবন্দ পড়া লিখা করার স্বপ্ন লালন করতে থাকি। অতঃপর ১৯৯০ সালে হাটহাজারীতে দাওরায়ে তাফসীর পড়ার শেষে ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে দারুল উলূমের দিকে রওয়ানা হই।সেখানে পৌঁছার পর শাওয়ালের প্রথম দিকে ভর্তি পরিক্ষায় কৃতকার্য হয়ে পুনরায় দাওরায়ে হাদীসে ভর্তি হই।ভর্তি পরিক্ষায় ৫০এর মধ্যে গড়ে ৪৩ নাম্বার পেয়ে ভর্তি হই। ( উপরোক্ত লেখার অধিকাংশ হযরত রহ এর স্বহস্তে লিখিত পত্র থেকে সংগৃহীত ) দারুল উলূম দেওবন্দে কোন এক বৃহস্পতিবার সন্ধায় হযরত রহ মসজিদে সাত্তায় নামাজ পড়ানোর সৌভাগ্য হয়। এবং পরের দিন জুমার নামাজ পড়ানোর সৌভাগ্য ও হয়। জুমার সময় হযরত রহ এর প্রাণপ্রিয় উস্তাদ সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ উপস্থিত ছিলেন। পালনপুরী রহ নামাজের পর হযরত রহ কে অফিসে তলব করে হযরতের ইমামতির অনেক প্রশংসা করেন, উস্তাদদের সামনে হযরত কে মসজিদে সাত্তার ইমাম ঘোষণা করলেন। হযরত রহ দারুল উলূম দেওবন্দে ইমামতি পাওয়ার এ ঘটনাকে অনেক আনন্দের সাথে বর্ণনা করতেন। হযরতের দারুল উলূম দেওবন্দে ইমামতির কারণে অনেকে হযরত রহ কে জাতীয় ইমাম বলেও প্রশংসা করতেন। দারুল উলূম দেওবন্দে তাঁর সাথীদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন : মাও. তৈয়ব সাহেব রহ (শাইখ জাকারিয়া) মুফতি এমদাদুল্লাহ সাহেব (সাবেক মুহাদ্দিস ওলামা বাজার মাদরাসা) মুফতি আবু মূসা সাহেব চৌধুরীপাড়া, ও মাও. আশরাফ আলী নিজামপুরী (মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা) কর্মজীবন : হযরত রহ. দারুল উলূম দেওবন্দে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পূনরায় দাওরায়ে হাদীস অধ্যয়নের পর ১৯৯১ ইংরেজীতে দেশে ফিরে আসেন। শিক্ষকতার জীবন : ২০০৮ সালে তাঁর সম্মানিত পিতার ইনতিকালের পর মুন্সীর হাট এলাকাবাসীর সীমাহীন অনুরোধ ও আগ্রহের কারণে স্বীয় পিতার স্থান মুন্সীর হাট জামে মসজিদে নিয়োগ হন, এবং তৎকালীন হাফেজ সুজাআ'ত আলী নূরপুরী হুজুর রহ পূর্ব প্রতিষ্ঠিত মুন্সীর হাট হাফেজিয়া মাদরাসাকে প্রতিস্থাপন করেন। ২০০৮ সালে স্বীয় শায়েখ ও মুর্শিদ আল্লামা আহমদ শফী রহ এর মাধ্যমে জামাতে ইয়াজদাহম মাধ্যমে কিতাব বিভাগ চালু করেন। ও সাবেক হাফেজিয়া মাদরাসাকে মুন্সীর হাট দারুল উলূম মাদরাসা নামে নামকরণ করেন। অতঃপর বুজুর্গ এ মহান মনীষী দারুল উলূম কে প্রতি বছর একেক জামাত খোলার মাধ্যমে দীর্ঘ দশ বছরে উক্ত প্রতিষ্ঠান কে মেশকাত জামাত পর্যন্ত মাদরাসায় রূপান্তর করেন। খেলাফতপ্রাপ্তি: হজ্ব ওমরাহর সফর: তিনি জীবনে দুইবার হজ করেন এবং তিনবার ওমরা করেন। সেখান থেকে সুস্থ হওয়ার কিছুদিন পর তার কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয় এবং টিভিতে আক্রান্ত হন। (মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয়) ফলে তিনি দীর্ঘ এক বছরের অধিক বিছানায় শোয়া ছিলেন নামাজ ইত্যাদি সবকিছু ইবাদত সবকিছুই বিছানায় করতে হতো দীর্ঘ দেড় বছর চিকিৎসা নেয়ার পর আল্লাহর রহমতে ২০২২ সালের দিকে অনেক টা সুস্থ হন ও হাঁটাচলা করতে সক্ষম হন। এবং মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর অনেকটা আগের মতোই সুস্থ জীবন যাপন করছিলেন। সুন্নতে নববীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত : হযরত রহ তাকওয়া-পরহেজগারি, দুনিয়া বিমুখতা ও বহু গুণের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন সুন্নতে নববীর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সুন্নত সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত উক্তি : হযরতের সন্তানাদি : ইন্তেকাল : যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী মাও. রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ তাঁর জীবদ্দশায় বহু খেদমত আঞ্জামদানের পর তাঁর অসংখ্য ছাত্র ও মুহিব্বীনকে রেখে ০৬/১২/১৪৪৪ হিজরী, ২৫ জুন ২০২৩ ইং মোতাবেক রবিবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে আপন মাওলায়ে পাকের সান্নিধ্যে পাড়ি জমান। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সংকলনে - এমএন/ |