সুন্নতের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মাওলানা রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

যেসকল বুজুর্গ মনীষীর নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, মাওলানা রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ. তাঁদের অন্যতম।  
১৯৬৪ সাল মোতাবেক ১ জানুয়ারি  ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার অন্তর্গত পশ্চিম বশিক পুর গ্রামে (আম্বরআলী মুন্সীবাড়ীর) একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব মরহুম মাওলানা হাবিবুর রহমান রহ. এর ঔরসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতার নাম রোকেয়া বেগম। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা হাবিবুর রহমান রহ সুদীর্ঘকাল মুন্সীর হাট সিনিয়র মাদরাসায় অত্যন্ত সুনামের সাথে খেদমত করেছেন, অতঃপর দীর্ঘকাল মুন্সীরহাট আলী আজম হাইস্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে দেশ ও জাতির খেদমত করেন। পাশাপাশি তিনি মুন্সীর হাট বড় জামে মসজিদে (মৃত্যু পর্যন্ত) ৪৫ বছর ইমামতি করে যান। ২০০৮ সালে তাঁর ইন্তেকালের পর এলাকাবাসীর ঐকান্তিক অনুরোধে তাঁর জৈষ্ঠপুত্র রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ. তাঁর স্থলে ইমাম হিসেবে নিয়োগ হন। পাঁচ বোন চার ভাইয়ের মধ্যে রিদওয়ান হাবীব কাসেমী ছিলেন সকলের বড়।

প্রাথমিক শিক্ষা :
রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ জীবনের সর্বপ্রথম শিক্ষা হাসিল করেন স্বীয় পিতা মাতা থেকে। অতঃপর নিজ এলাকার মক্তবে নাদিয়াতুল কুরআনে ভর্তি হন,সেখানে তাঁর উস্তাদ ছিলেন মাওলানা আবু হানিফ মুহাম্মদ শাহজাহান। তখনকার সময়ে তাঁর এলাকার বিভিন্ন মাহফিলে সুলতান আহমদ নানুপুরী রহ. সহ অনেক বুজুর্গের আগমন হতো, পিতার সাথে থেকে তাঁদের সোহবতেও তিনি নিজেকে ধন্য করতেন।  

নাদিয়াতুল কুরআনে প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা হাসিলের পর ১৯৭১ সালে তিনি পশ্চিম বশিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে ১৯৭৫সালে পঞ্চম  শ্রেণীতে বার্ষিক পরিক্ষা দিয়ে  অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে  ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। 

অতঃপর তাঁর আব্বাজান রহ. তাঁকে ধলিয়া চকবস্তা এমদাদুল উলূম মাদরাসায় মুহাদ্দিস আব্দুল মালেক সাহেব রহ. এর হাতে সোপর্দ করেন, এবং জামাতে দোয়াজদাহমে ভর্তি করান। মুহাদ্দিস সাহেব রহ বলেন, আপনি এই মাদরাসায় কেন ভর্তি করান? মাদরাসা তো অনেক আছে? তিনি (হাবিবুর রহমান রহ) বললেন, হযরত! তালীম তো কমবেশি সব জায়গায় আছে তবে আমি আপনার নাতিকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছি তারবিয়াতের জন্য। একথা  শুনে হযরত খুব খুশি হলেন এবং বললেন, এমন কথা তো এখন অনেকেই জানে না।' 

ধলিয়া চকবস্তা মাদরাসায় তাঁর প্রিয় উস্তাদদের মধ্যে একজন ছিলেন মাও. ইয়াসীন সাহেব সন্দিপী দা. বা.। ধলিয়া মাদরাসায় এবতেদায়ী জামাত (মিজান) শেষ  করার পর উস্তাদে মুহতারাম মাও.ইয়াসিন সাহেব  সন্দিপী এর পরামর্শে চট্টগ্রাম মেখল মুফতীয়ে আজম মাও. ফয়জুল্লাহ সাহেব রহ প্রতিষ্ঠিত হামিউস সুন্নাহ মাদরাসায় ১৯৭৯ সালে ভর্তি হন। এবং সেখানে অত্যন্ত সুনামের সাথে ৫ বছর শরহে জামী জামাত পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। 

হাটহাজারীতে গমন: 
অতঃপর ১৯৮৫ সালে তিনি মেখল থেকে মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় এসে শরহে বেকায়া জামাতে ভর্তি হন। এবং সেখানে ধারাবাহিকভাবে শরহে বেকায়া, হেদায়া আউয়ালাইন, আখেরাইন ও মেশকাত জামাত শেষ করেন, ও ১৯৮৮/৮৯ সালে দাওরায়ে হাদীস বা তাকমীল জামাত সমাপ্ত করেন।

হাটহাজারীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় হাদীসের কিতাব এবং অন্যান্ন মশহুর কিতাবের উস্তাদবৃন্দের তালিকা: সহীহ বুখারী শরীফ ও তিরমিজি শরীফের উস্তাদ শাইখুল হাদীস আল্লামা শাহ আব্দুল আজীজ রহ, সহীহ মুসলিম শরীফের উস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদুল হক সাহেব রহ, আবু দাউদ শরীফের উস্তাদ আল্লামা আবুল কাশেম ফতেপুরী রহ., নাসায়ী শরীফ ও শামায়েলে তিরমিজী শরীফের উস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ., ইবনে মাজাহ শরীফের উস্তাদ শাইখুল আদব আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহ.,ত্বহাবী শরীফের উস্তাদ আল্লামা আবদুস সুবহান রহ., মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদের উস্তাদ আল্লামা হাফেজ কাশেম সাহেব রহ.,  এবং মুয়াত্তা ইমাম মালেক এর উস্তাদ আল্লামা শেখ আহমদ দা. বা.
দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম  হাটহাজারীতে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করার পর হযরত রহ সেখানেই আবার দাওরায়ে তাফসীর ও এক বছরে অধ্যয়ন করেন।

দারুল উলূম দেওবন্দে গমন: হযরত রহ তাঁর লিখিত এক পত্রে লিখেছেন, ধলিয়া চকবস্তা এমদাদুল উলূম মাদরাসায় পড়াকালীন আমার  প্রিয় উস্তাদদের একজন ছিলেন মাও.ইয়াসীন সন্দীপী সাহেব। তাঁর মুখেই  সর্বপ্রথম দারুল উলূম দেওবন্দের কাহিনী শুনি। সেখান থেকেই দেওবন্দ যাওয়ার স্পৃহা জাগে। এবং ধীরে ধীরে দারুল উলূম দেওবন্দ পড়া লিখা করার স্বপ্ন লালন করতে থাকি। অতঃপর ১৯৯০ সালে হাটহাজারীতে দাওরায়ে তাফসীর পড়ার শেষে ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে দারুল উলূমের দিকে রওয়ানা হই।সেখানে পৌঁছার পর শাওয়ালের প্রথম দিকে ভর্তি পরিক্ষায় কৃতকার্য হয়ে পুনরায় দাওরায়ে হাদীসে ভর্তি হই।ভর্তি পরিক্ষায় ৫০এর মধ্যে গড়ে ৪৩ নাম্বার পেয়ে ভর্তি হই। ( উপরোক্ত লেখার অধিকাংশ হযরত রহ এর স্বহস্তে লিখিত পত্র থেকে সংগৃহীত )

দারুল উলূম দেওবন্দে কোন এক বৃহস্পতিবার সন্ধায় হযরত রহ মসজিদে সাত্তায় নামাজ পড়ানোর সৌভাগ্য হয়। এবং পরের দিন জুমার নামাজ পড়ানোর সৌভাগ্য ও হয়। জুমার সময় হযরত রহ এর প্রাণপ্রিয় উস্তাদ সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ উপস্থিত ছিলেন। পালনপুরী রহ নামাজের পর হযরত রহ কে অফিসে তলব করে হযরতের ইমামতির অনেক প্রশংসা করেন, উস্তাদদের সামনে হযরত কে মসজিদে সাত্তার ইমাম ঘোষণা করলেন। হযরত রহ দারুল উলূম দেওবন্দে ইমামতি পাওয়ার এ ঘটনাকে অনেক আনন্দের সাথে বর্ণনা করতেন। হযরতের দারুল উলূম দেওবন্দে ইমামতির কারণে অনেকে হযরত রহ কে জাতীয় ইমাম বলেও প্রশংসা করতেন।

দারুল উলূম দেওবন্দে তাঁর সাথীদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন : মাও. তৈয়ব সাহেব রহ (শাইখ জাকারিয়া) মুফতি এমদাদুল্লাহ সাহেব (সাবেক মুহাদ্দিস ওলামা বাজার মাদরাসা) মুফতি আবু মূসা সাহেব চৌধুরীপাড়া, ও মাও. আশরাফ আলী নিজামপুরী (মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা)

কর্মজীবন : হযরত রহ. দারুল উলূম দেওবন্দে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পূনরায় দাওরায়ে হাদীস অধ্যয়নের পর  ১৯৯১ ইংরেজীতে দেশে ফিরে আসেন।

শিক্ষকতার জীবন : 
তার প্রাথমিক শিক্ষকতার জীবন শুরু হয় ঢাকা কামরাঙ্গীরচর নুরীয়া মাদ্রাসায় (হাফেজ্জী হুজুর রহ,) সেখানে দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই বছর খেদমতের পর ওনাদের পারিবারিক কিছু সমস্যা দেখা দেয়ায় তিনি চিন্তা ভাবনা করতে লাগলেন যে তিনি এখান থেকে চলে যাবেন, এই মুহূর্তে চৌধুরী পাড়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা ইসহাক ফরিদী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাঁকে খবর দেন যদি আপনার সুযোগ থাকে তাহলে আপনি চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসায় আসতে পারেন, তখন তিনি হুজুর কে উত্তর দিলেন হুজুর ইস্তেখারা করে দেখি। তখন তিনি  বললেন, ধুর মিয়া ভালো কাজে আবার ইস্তেখারা কিসের? আপনি চলে আসেন। এরপর তিনি চৌধুরী পাড়া মাদসায় মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ হন এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর্যন্ত সেখানে সুনামের সহিত দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেন এবং তিনি ওই মাদরাসার দারুল একামার দায়িত্বে ছিলেন এবং মাদসার পাশে মসজিদে নুরের ইমাম ছিলেন। 

২০০৮ সালে তাঁর সম্মানিত পিতার ইনতিকালের পর মুন্সীর হাট এলাকাবাসীর সীমাহীন অনুরোধ ও আগ্রহের কারণে স্বীয় পিতার স্থান মুন্সীর হাট জামে মসজিদে নিয়োগ হন, এবং তৎকালীন হাফেজ সুজাআ'ত আলী নূরপুরী হুজুর রহ পূর্ব প্রতিষ্ঠিত  মুন্সীর হাট হাফেজিয়া মাদরাসাকে প্রতিস্থাপন করেন। ২০০৮ সালে স্বীয় শায়েখ ও মুর্শিদ আল্লামা আহমদ শফী রহ এর মাধ্যমে জামাতে ইয়াজদাহম মাধ্যমে কিতাব বিভাগ চালু করেন। ও সাবেক হাফেজিয়া মাদরাসাকে মুন্সীর হাট দারুল উলূম মাদরাসা নামে নামকরণ করেন। অতঃপর বুজুর্গ এ মহান মনীষী দারুল উলূম কে প্রতি বছর একেক জামাত খোলার মাধ্যমে দীর্ঘ দশ বছরে উক্ত প্রতিষ্ঠান কে মেশকাত জামাত পর্যন্ত মাদরাসায় রূপান্তর করেন।  

খেলাফতপ্রাপ্তি:
তাঁর মুখের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শাফি রহিমাহুল্লাহ এর কাছ থেকে দুইবার খেলাফত লাভ করেন একবার স্বপ্নযোগে (এ বিষয়ে তিনি হুজুরকে ও জানান) দ্বিতীয়বার সরাসরি। এক বছর রমজানে যখন তিনি মাদরাসার কাজে হাটহাজারীতে গমন করেন তখন হুজুরের সাথে যখন সাক্ষাৎ করতে যান হুজুর তখন হাটহাজারীর মসজিদে এতেকাফরত ছিলেন। হুজুরের  সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর ওই মুহূর্তে হুজুর খাদিমকে ডাক দিয়ে বলেন যে, আমার খাতার মধ্যে মাওলানা রিদওয়ান হাবিবের নাম লিখ এবং এর পরেই হুজুর তাকে খেলাফত দিয়ে ধন্য করেন। 

হজ্ব ওমরাহর সফর: তিনি জীবনে দুইবার হজ করেন এবং তিনবার ওমরা করেন। 
রোগাক্রান্ত হওয়া : তিনি সর্বশেষ যখন ২০১৯ সালে পবিত্র হজ পালন করতে যান তখন সেখানে হজের কার্যক্রম পরিপূর্ণ শেষ হওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, হজের কিছু কার্যক্রমের মধ্যে ব্যাঘাত  সৃষ্টি হওয়ার দরুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে খুব বেশি বমি  ছিল, এবং হেঁচকি ছিল। দীর্ঘদিন ইমারজেন্সি ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কোনভাবে কোন কিছু ঠিক হচ্ছিল না। পরবর্তীতে ইমারজেন্সি ফ্লাইট করে বাংলাদেশে পাঠানো হয় আসার পর পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে দেখা যায় উনার হযরতের কিডনিতে পাথর হয়েছিল এবং খাদ্যনালীতে গোস্ত বেড়ে গিয়েছিল। এ কারণে ইমারজেন্সি ভাবে প্রাথমিক দুটি অপারেশন করানো হয় এরপর কিছুটা  সুস্থ হওয়ার পর যখন তিনি বাড়িতে আসেন। ওই বছরই তিনি আবার করোনা নামক ভাইরাসে  আক্রান্ত হন।

সেখান থেকে সুস্থ  হওয়ার  কিছুদিন পর  তার কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয় এবং  টিভিতে আক্রান্ত হন। (মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয়) ফলে তিনি দীর্ঘ এক বছরের অধিক বিছানায় শোয়া ছিলেন নামাজ ইত্যাদি সবকিছু ইবাদত সবকিছুই বিছানায় করতে হতো  দীর্ঘ দেড় বছর চিকিৎসা নেয়ার পর আল্লাহর রহমতে ২০২২ সালের দিকে অনেক টা সুস্থ হন ও হাঁটাচলা করতে সক্ষম হন। এবং মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর অনেকটা আগের মতোই সুস্থ জীবন যাপন করছিলেন।

সুন্নতে নববীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত : হযরত রহ তাকওয়া-পরহেজগারি, দুনিয়া বিমুখতা ও বহু গুণের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন সুন্নতে নববীর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সুন্নত সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত উক্তি : 
‘সুন্নত ওয়ালা জীবন চাই, গুনাহমুক্ত জীবন চাই।’ এর পূর্ণ প্রতিচ্ছবি তিনি নিজেই।তাঁর বিখ্যাত আরেকটি উক্তি :  ‘কওমী মাদরাসা বর্তমান যুগে দীন-ইসলামের সর্বশেষ সুদৃঢ় দুর্গ’

হযরতের সন্তানাদি : 
হযরত রহঃ এর দুই ছেলে সালমান হাবীব ও সফওয়ান হাবীব (সাফওয়ান দুই বছর বয়সে মারা যায়) এবং চার মেয়ে।  সকলেই দীনি শিক্ষায় শিক্ষিত।

ইন্তেকাল :  যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী মাও. রিদওয়ান হাবীব কাসেমী রহ তাঁর জীবদ্দশায় বহু খেদমত আঞ্জামদানের পর তাঁর অসংখ্য ছাত্র ও মুহিব্বীনকে রেখে ০৬/১২/১৪৪৪ হিজরী, ২৫ জুন ২০২৩ ইং মোতাবেক রবিবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে আপন মাওলায়ে পাকের সান্নিধ্যে পাড়ি জমান। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 
সাকাল্লাহু সারাহ, নাওয়ারাল্লাহু মারক্বাদাহু ওয়া জাআ'লাল জান্নাতা মাসওয়াহ। আমীন। 

সংকলনে - 
মুফতি আব্দুল গণী হাফি. 
মুহাম্মদ কাওসার মাহমূদী 
মুহাম্মদ সালমান হাবীব

এমএন/