
|
তিনি কাঁদলেন, কারণ তিনি চেয়েছিলেন ঐক্য
প্রকাশ:
১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৫৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে শুরা মিটিংয়ে মুহতারাম আমির পীর সাহেব চরমোনাই লম্বা আলোচনা করলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি ইসলাম, দেশ ও মানবতার স্বার্থে তাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম! এরপরই তিনি চুপ হয়ে যান। তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। মুহতারাম আমিরের কান্না বাকিদেরকেও কাঁদায়। ইতিহাস বড় নির্মম। যারা বীজ বোনে—ফসল কাটে অন্যরা। আর যারা নিঃস্বার্থভাবে উম্মাহর ঐক্যের স্বপ্ন দেখে—তাদের চোখে শেষ পর্যন্ত নেমে আসে অশ্রু। পীর সাহেব চরমোনাই কোনো সাধারণ রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি ছিলেন ৮ দলীয় ইসলামী জোটের রূপকার, ঐক্যের স্থপতি, বিশ্বাসের সেতুবন্ধন। যে মানুষটি নিজের দল নয়—পুরো ইসলামী রাজনীতিকে সামনে রেখে এগিয়েছিলেন, আজ তাকেই পরিকল্পিতভাবে গুরুত্বহীন করে তোলা হলো। গত কয়েক মাসে কী হয়নি? ▪ বৈঠকের সময় নিয়ে টালবাহানা ▪ সিদ্ধান্তের টেবিলে উপেক্ষা ▪ নামমাত্র কয়েকটি আসন—তাও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো ▪ মিডিয়ায় পরিকল্পিত অপপ্রচার ▪ এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সাথে গোপন আঁতাত ▪ বিএনপির সাথে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা ▪ এমনকি ভারতের সাথে গোপন বৈঠকের খবরও প্রকাশ পেল সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় কী জানেন? একটি ইসলামী দলের হাতেই বারবার ইসলামবিরোধী কার্যক্রমের দাগ জমতে থাকল। ক্ষমতার লোভ যখন নীতি গ্রাস করে। একচ্ছত্র আধিপত্য যখন শুরার জায়গা দখল করে। তখন ইসলামের নাম ব্যবহার করেও ইসলামকে আঘাত করা হয়। পীর সাহেব এসব সহ্য করেছেন। চুপ থেকেছেন। ঐক্যের স্বার্থে নিজের অপমান গিলে খেয়েছেন। কিন্তু একটা সময় আসে— যখন একজন আলেম, একজন দরদি নেতা, একজন অভিভাবক আর শক্ত থাকতে পারেন না। তিনি কাঁদলেন। সে কান্না দুর্বলতার নয়, সে কান্না ছিল বিশ্বাসভঙ্গের। সে কান্না ছিল ইসলামী রাজনীতির নৈতিক পতনের। সে কান্না ছিল একজন অভিভাবকের, যিনি দেখছেন—তার সন্তানদেরই কেউ কেউ ক্ষমতার মোহে পথ হারাচ্ছে। আজ অনেকেই চুপ। কিন্তু ইতিহাস চুপ থাকবে না। ইতিহাস মনে রাখবে, যখন একচ্ছত্র আধিপত্য ইসলামী ঐক্য ভেঙে দিচ্ছিল, তখন পীর সাহেব চরমোনাই ক্ষমতার নয়—নীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। লেখক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ও হাতপাখার প্রার্থী আরএইচ/ |