‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৫ রাত
নিউজ ডেস্ক

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডে তিন সহোদরের সংশ্লিষ্টতা সামনে আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আদালত।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মামলার তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড শুনানিকালে এ বিস্ময় প্রকাশ করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

আসামিদের এজলাসে হাজির করা হলে বিচারক সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘তিন ভাই মিলে হত্যা করলেন কেন?’—এ সময় আদালত কক্ষে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শুনানিকালে আসামি মো. রিয়াজ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বিচারক অপর এক ভাই রহিমের অবস্থান জানতে চাইলে রিয়াজ বলেন, ‘বলতে পারি না।’

রিয়াজ ও মো. আব্দুল কাদির দুজনেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এই ঘটনার আমরা কিছুই জানি না, স্যার।’

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন ভাইয়ের একজন হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী, একজন এলাকায় রেকি করেন এবং অপরজন খুনিদের পালাতে সহায়তা করেন।

শুনানি শেষে আদালত মামলার আসামি মো. বিল্লাল, মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি শুটার জিন্নাত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিল্লাল ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী, জিন্নাত শুটার, রিয়াজ এলাকায় রেকি করেন এবং আব্দুল কাদির পালাতে সহায়তা করেন।

ডিবি প্রধান আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে সংঘটিত বলে ধারণা করা হলেও কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের স্টার গলিতে দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্থপথের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরএইচ/