ভারতের তীব্র শীতের মধ্যে ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল মোদী সরকার
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ভারতের আসামের সোনিতপুর জেলার বুড়াচাপড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে মুসলিম-বিরোধী বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

গত ৫ ও ৬ জানুয়ারি পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১,২০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  তীব্র শীতের তোয়াক্কা না করেই সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর চালানো হয় এ বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান।

এই উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমি থেকে কথিত দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি-নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তারা কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন।

পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, তেজপুর সদর ও ঢেকিয়াজুলি রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন জামুকতল, আরিমারি, শিয়ালচর, বাঘেটাপু, গলাতিডুবি, লাঠিমারি, কুণ্ডুলিচর, পূর্ব দুবরামারি এবং বাতুলিচর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, কথিত দখলদাররা অভয়ারণ্যের ভেতরে ঘরবাড়ি তৈরি করে চাষাবাদ করছিল। অভিযানের আগে অনেক বাসিন্দা নিজেরাই ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে তীব্র শীতের কারণে অনেক পরিবার সেখানেই থেকে গিয়েছিল এবং ফসল কাটার জন্য প্রশাসনের কাছে সময় চেয়েছিল।

আবেদন সত্ত্বেও প্রশাসন উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যায়। সোনিতপুরের জেলা প্রশাসক আনন্দ কুমার দাস জানান, দখলদাররা অবৈধভাবে বনভূমিতে অবস্থান করছিল এবং শীতের দোহাই দিয়ে তাদের এই অভিযান থেকে রেহাই দেওয়া হবে না।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে, এই অভয়ারণ্য ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আসামের অন্যতম বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযানে ২,০৯৯ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছিল।

২০১৬ সালে আসামে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যজুড়ে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যার বড় অংশই বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়। ‘নর্থইস্ট নাও’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শর্মা সোমবার দাবি করেছেন যে, এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সরকার এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করেছে।

উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার দাবি করেছে যে, তারা কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল। নদী ভাঙনের ফলে তাদের পূর্বপুরুষরা ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে জমি হারানোর পর এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন।
 
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে গোয়ালপাড়া জেলার বেটবাড়ি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শর্মা আরও জানান, হোজাই জেলার যমুনা মৌদাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫,০০০ বিঘারও বেশি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বনভূমি বা সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারিত্ব সহ্য করা হবে না।
 
সরকারের তথ্যমতে, যমুনা মৌদাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৮,০০০ বিঘারও বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে ৫,২৫০ বিঘা জমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১,৫০০-এরও বেশি পরিবার অবৈধভাবে দখল করে ছিল।

এক্স-এ এক পোস্টে শর্মা লিখেছেন, শান্তি ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের মিশন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হবে না।
 
হোজাইর জেলা প্রশাসক বিদ্যুৎ বিকাশ ভগবতী বলেন, কিছু বাসিন্দা ৩০ বছর ধরে সেখানে থাকার দাবি করলেও অন্যরা ২০ বছর ধরে থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, এই পরিবারগুলোর বনভূমির বাইরে হোজাই ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে নিজস্ব জমি রয়েছে এবং তারা মূলত চাষাবাদের জন্য বনের জমি দখল করেছিল।

২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করেছে, যা পরিসংখ্যানগতভাবে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বেশি প্রভাবিত করেছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, গত পাঁচ বছরে ১ দশমিক ৪৫ লাখ বিঘা বনভূমি ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

এনএইচ/