
|
ঢাকা-১৪ আসনে চমক দেখাতে চান রিকশার প্রার্থী মাওলানা নূর মোহাম্মাদ
প্রকাশ:
৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:৫৯ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৪। গাবতলী, মিরপুর, দারুস সালাম, শাহ আলী থানা এবং সাভারের কাউন্দিয়া-বনগাঁও নিয়ে গঠিত আসনটি এবার আলোচনায় এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কারণে। এর বাইরে আসনটিতে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নূর মোহাম্মাদ। ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই আসনটিতে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সানজিদা ইসলাম তুলিকে আর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। তারা দুজনই গুমের ঘটনায় ভিকটিম। একজন নিজেই গুমের শিকার হয়েছিলেন, আরেকজনের ভাই গুমের শিকার হন এবং তিনি গুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলে আলোচনায় আসেন। ইতোমধ্যে এই দুই প্রার্থীর কারণে ঢাকা-১৪ আসনটি আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে রিকশা প্রতীকের প্রার্থীও রয়েছেন আলোচনায়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা নূর মোহাম্মদকে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটির আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক ব্যাপক চমক সৃষ্টি করেছেন। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে রিকশা প্রতীকে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন হাফেজ নূর মোহাম্মাদ। হুড খোলা গাড়িতে চড়ে বাজার-মসজিদ-অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় উঠান বৈঠক, শোডাউন, ছোট ছোট সভা, র্যালি ও লিফলেট বিতরণ করছেন। স্বনির্ভর ঢাকা-১৪ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে করা তার গণসংযোগের বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দেখা মিলছে। অন্যদিকে ব্যারিস্টার আরমানকে ঢাকার মধ্যে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী মনে করা হচ্ছে। গুমের শিকার ব্যারিস্টার আরমান জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছে একটা আবেগের নাম। কিন্তু আট দল যেহেতু নির্বাচনভিত্তিক সমঝোতায় যাচ্ছে, সে হিসেবে কার ভাগ্যে এ আসন জুটবে তা বলার সময় এখনো আসেনি। আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে যে দলের প্রার্থী এগিয়ে, যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি- এসব বিবেচনা করা হবে। এ বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমান কিংবা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাফেজ নূর মোহাম্মদ একজন মাঠে থাকবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কর্মী আবুল বাশার বলেন, যে দলের প্রার্থী যে এলাকায় বেশি জনপ্রিয়, তাকেই সমমনা জোটের প্রার্থী করা হবে। সে হিসেবে আমরা আশাবাদী ঢাকা-১৪ আসনে রিকশা প্রতীক এগিয়ে আছে। ঢাকা-১৪ আসনে যেমন রয়েছে রাজধানীর সর্ববৃহৎ পশুর হাট গাবতলী। তেমনি মিরপুর এলাকায় রাজধানীর বড় কয়েকটি মাদরাসা অবস্থিত। যে কারণে এ আসনের দিকে আলাদা নজর রয়েছে সব দলেরই। হাফেজ মাওলানা নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সহ-সভাপতি ও সাভার থানা শাখার সভাপতি। হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সহ-সভাপতি হাফেজ নূর মোহাম্মদ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়ী হিসেবেও তার বেশ সুনাম রয়েছে। গণসংযোগকালে তিনি শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জননিরাপত্তা, মাদক সমস্যা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, নিরীহ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের নির্যাতন, দুর্নীতি, অনাচারসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। হাফেজ নুর মোহাম্মদ বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে সরিয়ে এ দেশের জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আগামীতেও ইনশাআল্লাহ দেশ ও জনগণের পক্ষে থাকব। নির্বাচিত হলে ঢাকা-১৪ আসনের প্রতিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বনির্ভর ঢাকা-১৪ গড়ব- ইনশাআল্লাহ। রিকশা প্রতীকের প্রার্থী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তি এই এলাকা থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা দেখে বুঝা যাচ্ছে- এই এলাকার মানুষ কতটা কষ্টে আছেন। আমরা নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করব। তাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে তিনি রিকশা মার্কায় ভোট চান। এলএইস/ |