
|
মুমিন যেসব কথা পরিহার করবে
প্রকাশ:
৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মুমিন দৈনন্দিন জীবনে সব মন্দ ও অসার কথা পরিহার করবে। এখানে মুমিনের জন্য পরিহারযোগ্য এমন কিছু কথার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো- আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা নিষিদ্ধ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কাফেলার সঙ্গে হজরত ওমর (রা.)-কে এরূপ অবস্থায় পেলেন যে সে সময় তিনি তার বাবার নামে শপথ করছিলেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাবার নামে শপথ করতে নিষেধ করছেন। হয় শপথকারী আল্লাহর নামে শপথ করবে, না হয় নীরব থাকবে। -জামে তিরমিজি: ১৫৩৪ দ্বিধা রেখে কল্যাণ চাওয়া: মহান আল্লাহর কাছে সুনিশ্চিত কল্যাণ চাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা রাখা আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা পোষণের নামান্তর। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ এভাবে দোয়া করো না, হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি চাইলে আমার প্রতি রহম করো। তুমি চাইলে আমাকে রিজিক দাও, বরং দোয়াপ্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে দোয়া করবে। কেননা তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার কেউ নেই। -সহিহ বোখারি: ৭৪৭৭ মুখমণ্ডল বিকৃতির দোয়া: কারও মুখমণ্ডল বিকৃতির দোয়া করা নিষিদ্ধ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা বলো না, আল্লাহ তার মুখমণ্ডল বিকৃত করুন। -আদাবুল মুফরাদ: ১৭১ অপরাধ ঢাকতে আল্লাহর নাম: অনেকে কোনো কিছু না করেও বলে, আল্লাহ জানেন আমি এটা করেছি। মূলত নিজের অপরাধ ঢাকতেই মানুষ এমনটি করে। এটা নিষিদ্ধ। কেননা এই ব্যক্তি হয়তো আল্লাহকে অজ্ঞ মনে করে অথবা তার ভেতর আল্লাহর ভয় নেই। কারও অবয়বের নিন্দা: চেহারা ও অবয়ব আল্লাহর দান। আল্লাহর সৃষ্টি প্রতিটি মানুষই সুন্দর। তাই কারও চেহারা বা অবয়বের নিন্দা করা অনুচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি।’ -সুরা ত্বিন: ৪ মানুষকে বরকতের উৎস বলা: বরকতের মালিক কেবল আল্লাহ। তাই কোনো মানুষকে বরকতের উৎস বলা নিষিদ্ধ। যেমন তিনি আমাদের বরকতময় করেছেন বলা। ইরশাদ হয়েছে, ‘বরকতময় তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যার করায়ত্ত; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ -সুরা মুলক: ১ আল্লাহও জুলুম করুক বলা: কারও জুলুম ও অবিচারের শিকার হয়ে এমন বলা নিষেধ যে, ‘তুমি যেমন আমার প্রতি জুলুম করেছ, আল্লাহও তোমার প্রতি জুলুম করুক।’ কেননা আল্লাহ ইনসাফ করেন, কারও প্রতি জুলুম করেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না।’ -সুরা নিসা: ৪০ এমন হওয়া উচিত হয়নি বলা: কেউ কোনো বিপদে পড়লে অনেকে বলে, আল্লাহ এমন কেন করলেন? তার ক্ষেত্রে এমন হওয়া উচিত হয়নি। এভাবে বলা নিষিদ্ধ। কেননা এতে তাকদির তথা আল্লাহর নির্ধারণের ব্যাপারে আপত্তি করা হয়। আর আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।’ -সুরা আম্বিয়া: ২৩ সময়কে দোষারোপ: সময় বা যুগকে গালি দেওয়া বা দোষারোপ করা নিষিদ্ধ। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ বলেন, মানুষ কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই কাল (এর নিয়ন্ত্রক)। একমাত্র আমারই হাতে রাত ও দিনের পরিবর্তন ঘটে। -সহিহ বোখারি: ৬১৮১ শিল্পকর্মকে সৃষ্টিকর্ম বলা: শিল্পীর শিল্পকে সৃষ্টিকর্ম এবং তার প্রতিভাকে সৃজনশীলতা বলার সাধারণ প্রবণতা রয়েছে। তবে মুমিনের উচিত তা পরিহার করা। কেননা মহাজগতে একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহ। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, আল্লাহ সব বস্তুর স্রষ্টা। তিনি এক ও পরাক্রমশালী।’ -সূরা রাদ: ১২ দ্বিনি প্রতীকের নাম বিকৃত করা: দ্বিন ও শরিয়তের প্রতীকগুলোর নাম বিকৃত করা নিষিদ্ধ। কেননা তা ইসলামের প্রতীকের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। আর আল্লাহর নির্দেশ হলো, ‘এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া সঞ্জাত।’ -সূরা হজ: ৩২ আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না বলা: হজরত জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে মাফ করবেন না। আর আল্লাহতায়ালা বলেন, সে ব্যক্তি কে? যে শপথ খেয়ে বলে যে আমি অমুককে মাফ করব না? আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার আমল (শপথ)-কে নষ্ট করে দিলাম। -সহিহ মুসলিম: ৬৫৭৫ এনএইচ/ |