
|
মারকাযুল হিদায়া সিলেট”র বার্ষিক ইলমি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন
প্রকাশ:
২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মারকাযুল হিদায়া সিলেট”–এর বার্ষিক ইলমী প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এক মনোজ্ঞ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালিবুল ইলমদের স্বপ্নিল ঠিকানা ও মেধা বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি সূচনালগ্ন থেকেই শিক্ষামূলক ও মননশীল আয়োজনের মাধ্যমে সিলেটবাসীকে মুগ্ধ করে আসছে। এবারের অনুষ্ঠানটি গুণগত মান ও অংশগ্রহণের ব্যাপকতায় অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদরা। এবারের প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মননশীল, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের প্রায় সকল শাখায় বিচরণের সুযোগ করে দিয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অভূতপূর্ব প্রতিভা প্রদর্শন করে শ্রোতাদেরকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে পুরো সময়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আয়োজনের মূল আকর্ষণীয় বিভাগগুলো হল— ১. কিরাত, ২. হিফজুল কুরআন, ৩. হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতা, ৪. বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও উর্দু ভাষায় বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, ৫. হামদ-নাত, ৬. কবিতা আবৃত্তি ৭. আরবি ও বাংলা ভাষায় সংবাদপাঠ প্রতিযোগিতা, ৮. মেধা যাচাই: ঝটপট প্রশ্নোত্তর এবং আরবি ও উর্দু ভাষায় কথোপকথন (ডায়ালগ) প্রতিযোগিতা। যা শ্রোতাদেরকে মাতিয়ে রেখেছিল। অনুষ্ঠানের আয়োজক, আল-হিদায়া ছাত্র কাফেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, মেধা ও মননের এই মহোৎসব একদিনে আয়োজিত হয়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই তারা সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফসল হলো আজকের সফল আয়োজন। অন্যদিকে, মারকাযের পরিচালনা কমিটি— হিফযুল হাদীস, হিফযুল মুতূন এবং হিফযুল আদইয়াহসহ আরও বিশেষ বিষয়ে প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করে আসছিলেন। সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সকল সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ এবার সফলভাবে পরিসমাপ্তি পেল। দেশবরেণ্য আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি আলেম মাওলানা সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. র সুযোগ্য সন্তান মাওলানা হোসাইন আহমদ পালনপুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, সিলেট ও লন্ডনের প্রশিদ্ধ শায়খুল হাদীস মাওলানা মাহমুদ হোসাইন সিলেটী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মাও. শাহ নজরুল ইসলাম, জামেয়া রেঙ্গার মুহাদ্দিস জাফলংগী প্রমুখ উলামায়ে কেরাম। এছাড়াও মারকাযুল হিদায়া সিলেটের আবনা ও ফুজালাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে মারকাযুল হিদায়া সিলেট কর্তৃপক্ষ আগামী দিনের জন্য তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন— “”আমরা কামনা করি, এভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হোক আমাদের লালিত রত্নগুলো; গড়ে উঠুক তারা উম্মাহর ভবিষ্যত হাদী (পথপ্রদর্শক) ও যোগ্য রাহবার হিসেবে।” অনুষ্ঠানে মারকাযুল হিদায়া সিলেট কর্তৃপক্ষ তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন— এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতি এবং সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরামের (শিক্ষকমণ্ডলী) নিরলস প্রচেষ্টা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা ছিল সত্যি প্রশংসনীয়। তাঁদেরই ঐকান্তিক চেষ্টায় আজকের এই বহুমুখী ও মনোজ্ঞ আয়োজন সফলভাবে বিমোহিত হল এবং কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করল। মারকাযুল হিদায়া সিলেটের এই সফল আয়োজন প্রতিষ্ঠানটিকে দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে আবারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এনএইচ/ |