শীর্ষ কমান্ডার হত্যার জবাব দেবে হিজবুল্লাহ, হুঁশিয়ারি নাঈম কাসেমের
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাইয়ের হত্যা উপলক্ষে গোষ্ঠীটির মহাসচিব নাঈম কাসেম প্রতিশোধ নেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে হিজবুল্লাহর নেতা জানান, তাবতাবাইকে হত্যা একটি ‘স্পষ্ট আগ্রাসন ও নৃশংস অপরাধ’। এ হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার গোষ্ঠীটির রয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর ইসরাইলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফ হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত হন, এবং এ বিষয়ে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয়পক্ষই নিশ্চিত করেছে।

হিজবুল্লাহপ্রধান যোগ করেন, ‘আমরা এই হত্যার প্রতিশোধ নেব, কখন প্রতিশোধ নেয়া হবে, এই সময় আমরা নির্ধারণ করব। ভবিষ্যতে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে—এটি একটি সম্ভাবনা, আবার নাও থাকতে পারে।’

নাঈম কাসেম নতুন যুদ্ধে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য ভূমিকাকে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি, তবে লেবাননকে তাদের ‘নিজের সেনাবাহিনী ও জনগণের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেয়ার’ জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ভিন্ন একটি কথা উল্লেখ করে জানান, পোপ লিওর আসন্ন সফর শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী।

হিজবুল্লাহ নেতা দাবি করেছেন যে, তারা ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে, কিন্তু ইসরাইলের পক্ষ থেকে লেবাননে আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, তাবতাবাই চার সহযোগীর সাহায্যে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিচ্ছিলেন—এসময় তাদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করা হয়।

এদিকে নাঈম কাসেমের ভাষণে প্রতিক্রিয়া জানানোর পর ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আড্রেয়ি মন্তব্য করেছেন যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র জব্দের চেষ্টা ‘অপর্যাপ্ত’। তিনি দাবি করেন, ‘হিজবুল্লাহ গোপনে অস্ত্র মজুদ রাখছে এবং সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করছে।’

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, ইসরাইলের আক্রমণ এবং দক্ষিণে পাঁচটি স্থানে সেনা মোতায়েনের কারণে তারা কোনোভাবেই নিরস্ত্র হতে রাজি নয়।

ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈরুতেও আঘাত হেনেছে। তবে তাবতাবাইকে হত্যার পূর্বে রাজধানীতে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের হামলা হয়নি।

এছাড়া, গত সপ্তাহে ইসরাইলের এক বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এনএইচ/