ইয়াউমে আশুরা: করণীয় ও বর্জনীয়
প্রকাশ:
০৫ জুলাই, ২০২৫, ০৬:১২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
![]()
মুফতি মুহাম্মাদ জাকারিয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পর ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালায় হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটে। ইসলামের ইতিহাসে ফজিলতময় আশুরা বিভিন্ন ঘটনাপুঞ্জে সমৃদ্ধ থাকলেও সর্বশেষ সংঘটিত কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতই এ দিবসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে ওঠে। আশুরা দিবসে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালায় শহীদ হওয়ার ঘটনায় আমাদের জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষা। কারবালার শিক্ষা: ১.ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা: ২.ন্যায় ও সত্যের জন্য সংগ্রাম: ৩.ত্যাগের শিক্ষা: ৪.অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: ৫.সংগ্রামী চেতনা: বর্জনীয়: ১. তা’যিয়া বানানো অর্থাৎ,তাযিয়া বলতে মূলত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সমাধির একটি প্রতিকৃতি বা প্রতীককে বোঝায়, যা মিছিলে বহন করা হয়। এবং এতে নানা রকমের পতাকা ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে মিছিল করে, যা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। এছাড়াও আরো বহুবিধ কুপ্রথা ও গর্হিত কাজের সমষ্টি হচ্ছে এ তা’যিয়া। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৫/২৯৪,৩৩৫, কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৩২, ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়াঃ ২/৩৪৩) ২. ‘হায় হুসেন’, ‘হায় আলী’ ইত্যাদি বলে বলে বিলাপ ও মাতম করা এবং ছুরি মেরে নিজের বুক ও পিঠ থেকে রক্ত বের করা। এগুলো করনেওয়ালা, দর্শক ও শ্রোতা উভয়ের প্রতি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। (আবূ দাউদ, হাঃ নং ৩১২, ইবনে মাজাহঃ হাঃ নং ১৫৮৪) ৩. হযরত হুসাইন রাযি. ও তাঁর স্বজনদের উদ্দেশ্যে ঈছালে সাওয়াবের জন্য বিশেষ করে এই দিনে খিচুড়ি পাকিয়ে তা আত্মীয়-স্বজন ও গরীব মিসকীনকে খাওয়ানো ও বিলানো। একে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ যেহেতু নানাবিধ কু-প্রথায় জড়িয়ে পড়েছে তাই তাও নিষিদ্ধ ও না-জায়িয। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৪০) ৪. আশুরার দিনে শোক পালন করা, চাই তা যে কোন সূরতেই হোক। কারণ শরীয়ত শুধুমাত্র স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীর জন্য ৪ মাস ১০ দিন আর বিধবা গর্ভবতীর জন্য সন্তান প্রসব পর্যন্ত এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ৩ দিন শোক পালনের অনুমতি দিয়েছে। এই সময়ের পর শোক পালন করা জায়িয নেই। আর উল্লেখিত শোক পালন এগুলোর কোনটার মধ্যে পড়ে না। (বুখারীঃ হাঃ নং ৫৩৩৪ ৫. শোক প্রকাশ করার জন্য কালো ও সবুজ রঙের বিশেষ পোশাক পরিধান করা। (ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়াঃ ২/৩৪৪) কারবালার ঘটনা থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ ও বর্জনীয় বিষয়গুলোকে পরিহার করার তৌফিক দান করুন। লেখক: শিক্ষা-সচিব ও উস্তাজুল হাদিস জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসা বরিশাল এমএইচ/ |