বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
সাপের কামড়ে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু চিকিৎসকদের বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর সুপারিশ তেল, গ্যাস, সার, বিদ্যুতে অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রয়োজন ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে চীন সফরে যাচ্ছেন ৪ এমপি সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করুন: পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামী ব্যাংক, জামায়াতে ইসলামী কোনোটাই ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ইমামদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা জেনারেল শিক্ষার্থীদের জন্য আস-সুন্নাহর ৬ মাসের ইসলামিক স্টাডিজ কোর্স সীমান্তের ৮ পয়েন্ট দিয়ে শতাধিক নাগরিককে পুশইনের অপচেষ্টা বিএসএফের আমরা কেন মওদুদি সাহেবের বিরোধিতা করি-১

বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বিশ্বের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক শিল্পনির্ভর অর্থনীতির বাইরে এসে দেশটি এখন মধ্যম আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানিতে একটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখীকরণের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

বর্তমানে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প মূলত পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বড় বড় শিপইয়ার্ডগুলো এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৃহৎ কনটেইনার জাহাজ, এলএনজি ক্যারিয়ার ও উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত জাহাজ নির্মাণে ব্যস্ত। ফলে তুলনামূলক ছোট ও মধ্যম আকারের জাহাজের বাজারে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানান্দা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে বহুমুখী কার্গো জাহাজ রপ্তানি করেছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫ হাজার ৫০০ ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার ‘ওয়েস ওয়্যার’ নামের একটি জাহাজ সরবরাহ করে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামভিত্তিক ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য কার্গো ল্যান্ডিং ক্রাফট নির্মাণ করেছে। আটটি জাহাজ সরবরাহের ওই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট রপ্তানি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬টি জাহাজে। বিশ্বের ১১টি দেশে এসব জাহাজ রপ্তানি করে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এসব চুক্তি তুলনামূলক ছোট হলেও এগুলো বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অন্যতম শক্তি হলো দেশের বৃহৎ জাহাজ পুনর্ব্যবহার (শিপ রিসাইক্লিং) খাত। ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট জাহাজ পুনর্ব্যবহারের ৪৩ দশমিক ২ শতাংশই হয়েছে বাংলাদেশে। এই খাত দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বড় অংশ সরবরাহ করছে।

২০২৫ সালের জুনে আন্তর্জাতিক ‘হংকং কনভেনশন’ কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন শিপইয়ার্ড’ গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করেছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব সক্রিয় জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সনদপ্রাপ্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের স্টিল রি-রোলিং মিল ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে পুনর্ব্যবহার করা জাহাজ থেকে। প্রায় ৯৮ শতাংশ পুনর্ব্যবহার হার বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশ একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) ‘গ্রিনভয়েজ ২০৫০’ কর্মসূচির সহায়তায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে জাহাজের কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর আওতায় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে খাতটির সামনে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চমূল্যের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি আমদানিনির্ভর, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে ৪০০ কোটি ডলারের জাহাজ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বিশ্লেষকদের মতে, তা অর্জন করা কঠিন হবে। তবে অনুকূল নীতি সহায়তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে ২০২৬ সালে প্রায় ৬৫ কোটি ডলার এবং দীর্ঘমেয়াদে ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ কনটেইনার জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা করা কঠিন হলেও মধ্যম আকারের এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণে বিশেষায়িত সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প উৎস হিসেবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছে বলেও তারা মনে করছেন। সূত্র: ইস্ট এশিয়া ফোরাম

প্রতিনিধি/আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ