রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪ ।। ৯ আষাঢ় ১৪৩১ ।। ১৭ জিলহজ ১৪৪৫


বেফাক পরীক্ষা দেওয়া হলো না হাফেজ সফিউল্লাহর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| কাউসার লাবীব ||

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের ৪৭তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন হাফেজ আবীদ হাসান সফিউল্লাহ (২৫)। কিন্তু পরীক্ষার দুইদিন আগে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে তাকে পাড়ি জমাতে হয়েছে পরপারে।

জানা যায়, হাফেজ সফিউল্লাহ’র মা জাহানারা বেগম (৬৫) বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাই গতকাল রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সিএনজি যোগে মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লার গৌরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিল সে। কিন্তু পথিমধ্যে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি অটোরিকশা সংঘর্ষে মা-ছেলে দুজনেই নিতহ হয়।

দাউদকান্দি জামিয়া ইসলামিয়া আতিকিয়া বায় নগর মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা হুমায়ুন কবীর আওয়ার ইসলামকে জানান, হাফেজ সফিউল্লাহর গ্রামের বাড়ি উপজেলার মালিগাওয়ের আনুয়াখোলা গ্রামে। সে অনেক আগেই বাবা মাওলানা শরাফত করীমকে হারিয়েছে। এতিম সফিউল্লাহ মিজান জামাত থেকে এ পর্যন্ত ৫/৬ বছর যাবত আমাদের এখানে অধ্যায়নরত ছিল।

তিনি জানান, সফিউল্লাহ মেশকাত (ফজিলত) পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষার জন্য তার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরীক্ষার দুইদিন আগে তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাকে হারিয়ে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক সবাই বাকরুদ্ধ।

মাওলানা হুমায়ুন কবীর বলেন, ৫ ভাই ২ বোনের মাঝে সফিউল্লাহ ছিল সবার ছোট। চলাফেরায় ছিল অত্যন্ত বিনয়ী। আমার সঙ্গে সে অনেক সফরও করেছে। সুন্দর আখলাকের কারণে সবার কাছে সে অতুলনীয় ছিল। তিলাওয়াত ছিল চমৎকার। পাশের গ্রাম তালের চরের একটি মসজিদে রমজানে তারবি পড়াতো। আমরা তাকে এভাবে হারাবো কল্পনাও করিনি।

দুর্ঘটনা বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক জানান, একটি কাভার্ডভ্যান (চট্ট মেট্রো-ট-১১-৪৯২৪) কচুয়া যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমিরাবাদের দিকে যাচ্ছিল। উপজেলার উপজেলার মহানন্দ পৌঁছালে কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশা চালক ও যাত্রীসহ পাঁচজন নিহত হন। যাদের মধ্যে সফিউল্লাহ ও তার মা ছিল। এছাড়া আহত দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে মাওলানা হুমায়ুন কবীর আরো জানান, হাফেজ সফিউল্লাহ ও তার মায়ের লাশ স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের পর মা ও ছেলের জানা পড়ান দাউদকান্দি জামিয়া ইসলামিয়া আতিকিয়া বায় নগর মাদরাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মাওলানা আনোয়ার উল্লাহ কাসেমী। এরপর বাবার পাশে মাকে নিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয় হাফেজ সফিউল্লাহ।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ