দেশের ৩ কোটি মানুষ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছে
নভেম্বর ২৭, ২০২২ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগে ভুগছেন। এ রোগে আক্রান্তদের ঘুমের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। এশিয়া মহাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ইউরোপ-আমেরিকার ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ এই স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগে আক্রান্ত।

আজ রোববার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে স্লিপ অ্যাপনিয়া বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান।

আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের সমস্যাজনিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে স্লিপ অ্যাপনিয়া অন্যতম। দীর্ঘ মেয়াদি স্লিপ অ্যাপনিয়া একজন মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এই রোগে আক্রান্ত বেশিভাগ মানুষই জানেন না যে, তারা এই রোগে আক্রান্ত। অনেকে এটাকে বয়সজনিত স্বাভাবিক রোগ মনে করেন। এ অবস্থায় সচেতনতা তৈরি জরুরি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে এখন স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগের সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। বিএসএমএমইউতে ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে স্লিপ অ্যাপনিয়া শনাক্ত ও অবস্থা নির্ণয় করা হয়।

এটির ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে চিকিৎসক সমাজ ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, মানুষ তার জীবনের এক তৃতীয়াংশ ঘুমিয়ে কাটায়। ঘুম মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। ঘুমের অভাবে মানুষের জটিল রোগ হয়। পৃথিবীতে করোনার আগে ৫৫ শতাংশ এবং করোনার পরে ৭৭ শতাংশ মানুষ পর্যাপ্ত ঘুমের জটিলতায় ভুগছেন। তার মধ্যে ২৪ থেকে ২৯ শতাংশ মানুষ নাক ডাকা ও স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগে ভুগছেন।

মানুষের ঘুমিয়ে প্রয়োজনীয় সময় বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শ অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। অনেকেই এর চেয়ে কম ঘুমিয়েও সুস্থ থাকত পারেন। তবে এর নানাবিধ ক্ষতিকর দিকও রয়েছে।

-এসআর