fbpx
           
       
           
       
চরমোনাই পীরকে বাহাসের চ্যালেঞ্জ!
সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২২ ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

|| আদিয়াত হাসান ||

সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘গণতন্ত্র ও ভোট পদ্ধতি: ইসলামের দৃষ্টিকোণ’ বিষয়টি। আরো আলোচনায় এসেছে ‘প্রচলিত রাজনীতির ভোট পদ্ধতিকে জিহাদ বলা যাবে কি না?’ এ বিষয়ে কয়েক দিন ধরে ইসলামিক স্কলার ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর একটি ভিডিও অনেকের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই দু পক্ষের মাঝে বাহাস অনুষ্ঠিতের কথা বলেন।

এরই মাঝে ইসলামি গবেষণা পরিষদ নামে কথিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পেজ থেকে বাহাসের আহ্বান জানানো হয় চরমোনাই পীরকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ভাষা ও শব্দ চয়ন যদিও বাহাসের নিয়মের পরিপন্থি ছিল; তবুও আওয়ার ইসলাম পাঠকের সামনে তাদের পোস্টটি হুবহু উল্লেখ করছি।

আরো পড়ুন: আব্বাসি সাহেব বৃহত্তর স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, তবে ‘মাসলাক’র প্রশ্নে প্রত্যাখ্যাত

পোস্টে বলা হয়, ‘আল্লামা আব্বাসী হুজুরের নির্দেশে ইসলামি গবেষণা পরিষদের পক্ষ থেকে চরমোনাই পীরকে বাহাসের চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি আল্লামা আব্বাসী হুজুর গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনকে কুফর ও এর সমর্থনকারীদেরকে অর্থাৎ যারা এটাকে জায়েজ মনে করে তাদেরকে কাফের ফাতাওয়া দেন। এ নিয়ে নদীর পাড়ের এক পীরের গাঁ জ্বালা শুরু হয়েছে। তার ফলে সে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনকে জায়েজ করার উদ্দেশ্যে কিছু ঠুনকো যুক্তি উথাপন করেছে, যেগুলো শরীয়তে বিন্দু পরিমানও ভিত্তি নেই।

পোস্টে আরো বলা হয়, ‘এ ব্যাপারে আল্লামা আব্বাসী হুজুরের নির্দেশে আমরা ইসলামি গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশ তাদের সকল কুযুক্তিকে বুমেরাং করতে এবং গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন একটি কুফরি মতবাদ কুরআন সুন্নাহের আলোকে তা প্রমান করতে প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ। আমরা নদীর পাড়ের পীর ও তার ভাইদের সাথে সরাসরি কিংবা ভার্চুয়ালি লাইভ ডিবেটের চ্যালেঞ্জ করছি। যদি সৎ সাহস থাকে তবে আমাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করুন।’

পোস্টটির পরপরই গবেষক আলেম মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এক লেখায় জানান, চলমান ইস্যুটা পুরনো ও মীমাংসিত। সুতরাং এনিয়ে বাক্যালাপ, তর্ক-বিতর্ক প্রয়োজন নেই। কারো মনে চাইলে প্রচলিত ইসলামি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হতে না চাইলে দরকার নেই। আপনার মত করে আপনি দ্বীন কায়েমের মেহনত চালিয়ে যান।

তিনি লিখেন, কেউ কেউ ইসলামী আন্দোলন ও আমাদেরকে বাহাসের যুক্ত করে পোস্ট দিচ্ছেন? এ দায়িত্ব এককভাবে ইসলামী আন্দোলন বা আমরা নিব কেন? যেহেতু ফাতওয়াদাতা তার ফাতওয়ায় কারো নাম নেননি ঢালাওভাবেই বলেছেন তাই প্রচলিত গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলামী রাজনীতির সাথে যুক্ত সবাই এ ব্যাপারে দায়িত্ব নেয়া জরুরি।

আরো পড়ুন: গণতন্ত্র, ভোট, আগের বুজুর্গদের ‘পাপ’ এবং কিছু বিনীত কথা

তিনি আরো লিখেন, ‘তাছাড়া অগ্রহণযোগ্য সোর্স থেকে সভ্যতা, শালীনতা ও ভদ্রতা বিবর্জিত ভাষায় ঘোষিত কোন বাহাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার প্রশ্নই উঠেনা। যারা এটা প্রচার করছেন এবং যে ভাষায় প্রকাশ করছেন এখান থেকে পরিস্কার যে আপনাদের উদ্দেশ্য কী? এটা সচেতন কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়।’

এদিকে চলমান ইস্যুতে লেখক, গবেষক আলী হাসান তৈয়ব লিখেন, গণতন্ত্র ও ইসলামী রাজনীতি নিয়ে দুই পীর সাহেবের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং তাদের পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র ফেসবুকীয় বাহাসে চোখ রাখছি। ফালতু আস্ফালন ও আক্রমণ না করে যারা শরিয়তের দলিল ও সময়ের প্রেক্ষাপট সামনে রেখে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করছেন সেগুলো ভালো লাগছে। একে অপরের জ্ঞান থেকে উপকৃত হবার জন্য এসব নিয়ে বিতর্ক ও বিশ্লেষণ দরকার আছে। খোলা মনের জ্ঞানপিপাসুরা এসব থেকে উপকৃত হতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে অনুরোধ, উভয় তরফে আপনারা ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করুন।

তিনি লিখেন, মাহফিলে হাদিয়া গ্রহণের ভিডিওসহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সামনে এনে প্রতিপক্ষকে হারানোর চেষ্টা করবেন না। এর মাধ্যমে আসলে শুধু প্রতিপক্ষ না, আপনি নিজেও হারবেন। আপনার ও প্রতিপক্ষের কমন শত্রু যারা আছে, তারা বড় অস্ত্র হাতে পেয়ে যাচ্ছে। সময়মতো সেগুলোর প্রয়োগ সবাইকেই বিব্রত করবে। আকলমান্দ কে লিয়ে ইশারাই কাফি। ফা‘তাবিরু ইয়া উলিল-আবসার।

আরো পড়ুন: গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক: চলমান ইস্যুতে কয়েকটি কথা

এদিকে লেখক, গবেষক মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান লিখেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চরমোনই যে পরিমাণ বক্তব্য দিয়েছে আমার জনা মতে অন্য কেউ তেমন বলেনি। ইসলামী শাসনতন্ত্র নামকরণ হয়েছিলই গণতান্ত্রিক আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে। মাওলানা মওদুদিও একসময় গণতন্ত্রের চরম বিরোধিতা করেছেন। পরিস্থিতির কারণে তারা গণতন্ত্রের শরণাপন্ন হয়েছেন। আব্বাসী বা চরমোনাই বা অন্য কোনো ইসলামী চিন্তকের এ বিষয়ে মূলত তেমন কোনো ইখতিলাফ নেই। কাজেই আমরা একে অপরকে গালমন্দ করে দুশমনদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া কোনো ভালো কাজ হবে না।

তিনি লিখেন, যারা গণতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করতে চান আর যারা গণতন্ত্র বাদ দিয়ে কাজ করতে চান উভয়কে বলব, মেহেরবানি করে শান্ত হোন। এসব বিষয়ে বিতর্ক না ডেকে যার যার মত দ্বীন ইসলামের খেদমত করতে থাকুন। তাতেই উম্মতের কল্যাণ রয়েছে। কথায় কথায় বাহাস ডাকা কোনো ভালো লক্ষণ নয়। বাগদাদ ধ্বংস হবার আগ মুহূর্তে সেখানের আলেমদের অবস্থা আর আমাদের আলেমদের অবস্থা হুবহু এক। এখান থেকে আমাদের বেরিয় আসা উচিত। হে আল্লাহ, তুমি রহম করো।

কেএল/

সর্বশেষ সব সংবাদ