শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ।। ৬ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ১০ শাওয়াল ১৪৪৫


‘মসজিদের টয়লেট ব্যবহারে সতর্কতা কাম্য প্রতিটি ব্যবহারকারীর’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।। আবু সাঈদ।।

দেশের শহরে নগরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিপুল সংখ্যক মসজিদ। এসব মসজিদে সালাত আদায় করেন স্থানীয় মুসলিমগণ। সালাত আদায়ের জন্য পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। সেজন্য প্রত্যেক মসজিদে রয়েছে অজুর স্থান। প্রাকৃতিক প্রয়োজনও দেখা দেয় কখনো কারো। সেদিকে লক্ষ্য রেখে নির্মাণ করা হয় গণসৌচাগার। নামাজ পড়তে এসে অনেকেই এসব সৌচাগার ব্যবহার করেন।

কিন্তু লক্ষ্য রাখেন না তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক। ফলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সামান্য বাতাস প্রবাহিত হলেই তা পৌঁছে যায় মসজিদের অভ্যন্তরে। দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে মসজিদের পবিত্র আবহ ধরে রাখা। মুসল্লিগণ তখন বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বিঘ্নতা ঘটে শান্ত সমাহিত চিত্তে মুসল্লিদের সালাত আদায়।

এ ব্যাপারে রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ডালিম হোসেনের সাথে কথা হয়। তিনি আওয়ার ইসলামকে অভিযোগ করে বলেন, ‘শহরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। সেজন্য মসজিদের পবিত্রতার প্রতি যত্নশীল নয় এমন অনেকেই মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করের। তারা এমনভাবে টয়লেট ব্যবহার করেন, পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারো জন্য ব্যবহারের উপযোগী থাকে না।’

মুহসিন মাশকুর নামে আরেকজন মুসল্লি বলেন, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ আমরা সবাই জানি। কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করি না। সেজন্যই আমাদের মসজিদগুলোর এমন দুরাবস্থা।’

সমস্যার মূল কারণ হিসেবে অনিয়মিত নামাজি জিজাইনার দ্বারা ডিজাইন করানো বা নামাজের প্রতি যত্নশীল নয় এমন রাজমিস্ত্রি দ্বারা মসজিদ নির্মাণকে দায়ী করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার আখম ইবরাহীম বলেন, মসজিদ ডিজাইন করাতে হয় দ্বীনদার নামাজী আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা।

কিন্তু অধিকাংশ মসজিদের নির্মাণ কার্য সমাধা হয় সাধারণ রাজমিস্ত্রী দ্বারা। যাদের অনেকেই নামাজ-কালামে অতটা যত্নশীল নন। কোথাও দক্ষ আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ডিজাইন করানো হলেও তিনি নিয়মিত নামাজি না হওয়ায় মসজিদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নন। ফলে তাদের ডিজাইনে দুর্বলতা থেকেই যায়।

মসজিদ অনেক উন্নত কিংবা দৃষ্টিনন্দন হলেও টয়লেট বা এ জাতীয় সমস্যাগুলো থেকেই যায়। এজন্য আমাদেরকে নিয়মিত নামাজি, দক্ষ আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ডিজাইন করাতে হবে। তবে এ সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করা সম্ভব।

ডিজাইন দুর্বলতা বা নির্মাণ সমস্যার কারণে যেসব মসজিদের টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, সেসব মসজিদে এখন করণীয় কি জানতে চাইলে রাজধানীর মালিবাগ এলাকার প্রসিদ্ধ মাদ্রাসা মারকাযুল উলুম ওয়াল ফুনুনের সিনিয়র শিক্ষক মুফতি মিজানুর রহমান আওয়ার ইসলামকে বলেন, ‘প্রথমত আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।

আমরা যখন টয়লেট ব্যবহার করবো, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ব্যবহার করবো। কখনো যদি মনে হয়, টয়লেটটা পরিষ্কার করা দরকার। দায়িত্বশীলের অপেক্ষা না নিজেরাই তা পরিষ্কার করে দিবো। এভাবে প্রত্যেকে নিজ স্থান থেকে যত্নশীল হলে সমস্যা নিরসন সহজ।’

‘মসজিদের সম্পদ সংরক্ষণ আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। এসব সুরক্ষার জন্য কাজ করা সাওয়াবের কাজও বটে।’ এরূপ মন্তব্যও করেন বিজ্ঞ এ আলিম।

মুফতি মিজানুর রহমান মসজিদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘মসজিদে পবিত্র আবহ বজায় রাখার জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষকেও আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে এসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আলাদা লোক নিয়োগ দিতে হবে। মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে আমরা অনেক খরচই তো করি। পবিত্রতার আবহ বজায় রাখার জন্যও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ।’

এ বিষয়ে কথা হয় শরীয়তপুরের বিখ্যাত মাদ্রাসা ‘জামিয়া ইসলামিয়া ফোরকানিয়া জাজিরা’ এর সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি আতাউল্লাহ মাদানির সাথে। তিনি আওয়ার ইসলামকে বলেন, ‘মুসল্লিদের টয়লেট ব্যবহারে সচেতন থাকা চাই। সিঙ্গার করার পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ব্যবহার করতে হবে। যেন দুর্গন্ধ না থাকে। আর মসজিদ কর্তৃপক্ষের জন্য উচিৎ টয়লেটে অরজিন বা দুর্গন্ধ প্রতিরোধক অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করা। তবে মসজিদের পবিত্র আবহ বজায় রাখা সম্ভব।’

আইএফএ কনসালটেন্সি লি. এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি ইউসুফ সুলতান সাহেব বলেন, ‘মসজিদে থাকার কথা নানা সুগন্ধি আতরের ঘ্রাণ।

কিন্তু অনেক মসজিদেই ঢুকতে, বের হতে এমনকি নামাজের সময়ও পাওয়া যায় টয়লেটের উৎকট দুর্গন্ধ। এই সমস্যা নিরসনের জন্য মসজিদ নির্মাণের সময়ই খেয়াল করা উচিৎ। টয়লেটের প্রবেশ পথ এবং ভেন্টিলেশন অন্য দিকে রাখা উচিৎ। দুর্গন্ধ দূর করার জন্য টয়লেটে ব্লিচিং পাউডার বা দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণকারী অন্য কিছুও ব্যবহার করা যায়। এতে মসজিদের পবিত্র আবহ বজায় থাকবে।’

মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের বিশেষ স্থান। এর পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষা করা সকলেরই দায়িত্ব। এজন্য মসজিদের পবিত্র আবহ ক্ষুণ্ন হয় অথবা ইবাদতে বিঘ্নতা ঘটে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে। কর্তৃপক্ষকে সচেতন হতে হবে। দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে মুসল্লিদের।

তবেই এসব সমস্যা দূরীকরণ সহজ হবে। যেসব এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ হবে, কর্তৃপক্ষ অবশ্যই নিয়মিত নামাজি, দক্ষ আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ডিজাইন করিয়ে নিতে হবে। রাজমিস্ত্রি দিয়ে করালেও নামাজি রাজমিস্ত্রি নির্বাচনের চেষ্টা করতে হবে। তবে সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

-এটি


সম্পর্কিত খবর