fbpx
           
       
           
       
স্বপ্নের নানা রঙ
আগস্ট ০৪, ২০২২ ২:২৮ অপরাহ্ণ

||উবায়দুল হক খান||

স্বপ্ন। ছোট্ট একটা শব্দ। মজার একটা উপকরণ। কম বেশ সবাই দেখে। দেখতে ভালোবাসে। স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। স্বপ্ন মানুষকে বড় হওয়ার প্রেরণা যোগায়। এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

স্বপ্নের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা আছে বলে মনে হয় না। স্বপ্নকে কোনো সংজ্ঞায় সজ্ঞায়িত করা উচিতও নয়। কারণ, স্বপ্নের নির্দিষ্ট কোনো প্রকার নেই। নেই কোনো সীমা-পরিসীমা।

স্বপ্নের রঙ কেমন? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারবে না। দিতে সক্ষমও না। কারণ, স্বপ্নের রঙের শেষ নেই। লাল স্বপ্ন, নীল স্বপ্ন, সাদা স্বপ্ন, কালো স্বপ্ন, ছোট স্বপ্ন, বড় স্বপ্ন, বাস্তব স্বপ্ন, কাল্পনিক স্বপ্ন। আরও যে কতো রকমের স্বপ্ন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। স্বপ্নের রঙের শেষ নেই।

জীবনের এ রঙমঞ্চে তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে। দেখতে পছন্দ করে। স্বপ্ন মানুষকে হাতছানি দেয়। মানুষ স্বপ্নের পেছনে দৌঁড়ায়। কোনো কোনো স্বপ্ন পূরন হয়। আবার অনেক স্বপ্নই অধরায় থেকে যায়।

জীবনযুদ্ধে সফল হতে আমরা স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নকে লালন করি। স্বপ্নের চাষ করি। কারণ, স্বপ্ন দেখতে তো আর বাঁধা নেই। কোথাও পড়েছিলাম- স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখেছো; বরং স্বপ্ন তো সেটাই যে স্বপ্ন তোমাকে ঘুমাতে দেয় না। কারণ, ঘুমের স্বপ্ন তো অলস স্বপ্ন। সেটা মানুষকে আরও অলস করে তোলে। আর জাগ্রত থেকে যে স্বপ্ন দেখা হয় সেটাই প্রকৃত স্বপ্ন। কেননা সে স্বপ্নই মূলত সফলতার সোপান।

প্রতিযোগিতার এ যুগে আমরা সবাই বড় হতে চাই। চাই সফল হতে। কেউ-ই চাই না ছোট থাকতে, ব্যর্থ হতে। তাই আমাদেরকে স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নের পরিচর্যা করতে হবে। কারণ, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।

ছেলেবেলা স্বপ্ন দেখতাম- আকাশটাকে ছুঁয়ে দেখার, অনেক বড় হবার, বদলে যাবার। এখনও স্বপ্ন দেখি। তবে সে স্বপ্ন বড় হবার নয়, মানুষ হবার। বদলে যাবার নয়, বদলে দেবার। আকাশটাকে ছুঁয়ে দেখার নয়, আকাশের মতো উদার হবার, জমিনের মতো স্থির হবার, সাগরের মতো বিশাল হবার। আমি আজ শুধু নিজের জন্য নয়, জাতির জন্য স্বপ্ন দেখি। আমার আজকের স্বপ্ন শুধু তখনকার মতো ইচ্ছার নয়; বরং একটি লক্ষ্য। তা অপরিবর্তিত। যা আমাকে বাস্তবায়ন করতেই হবে।

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, পৃথিবী শুধু যোগ্যদেরই খোঁজে এবং যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই মূল্যায়ন করে। ইমাম শাবী রহ.-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কিভাবে এতো জ্ঞানার্জন করেছেন? কিভাবে জীবনযুদ্ধে এতটা সফল হয়েছেন?

তিনি উত্তরে বললেন- এক. কখনো আমি পরের উপর নির্ভর করে থাকিনি। দুই. জ্ঞানার্জনের জন্য দেশ-দেশান্তরে ঘুরেছি। তিন. জড় পদার্থের মতো ধৈর্য ধারণ করেছি। চার. কাক-পক্ষীদের মতো খুব ভোরে বিছানা ত্যাগ করেছি।

তাই আমাদেরও বড় হতে হলে ইমাম শাবীর মতো করেই বড় হতে হবে। তার মতো করেই সফল স্বপ্নের পেছনে চাষ করতে হবে। আমাদের স্বপ্নরা বেঁচে থাকুক। স্মৃতির অ্যালবামে বন্দী থাকুক। সফলতার স্বর্ণশিখড়ে পৌঁছুক।

লেখক : মুহাদ্দিস ও ভাইস প্রিন্সিপাল, জামিআতুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া হামিউস সুন্নাহ গাজীপুর

কেএল/