fbpx
           
       
           
       
ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব
আগস্ট ০৩, ২০২২ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

সাঈয়েদা হাবিবা: বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চানালোর পর পশ্চিমারা একেরপর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে দেশটির উপর। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত রাশিয়া বিনিয়োগ টানতে ইসলামি ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ নতুন নন-ক্রেডিট আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামি ব্যাংকিংয়ে বিশেষায়িত হবে। আর এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক হবে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক।

ইসলামি ব্যাংক ধর্মীয় এবং নৈতিক নির্দেশিকাগুলির অধীনে কাজ করে। ইসলাম সুদকে হারাম করেছে। তাই ইসলামি ব্যাংকে সুদ নিষিদ্ধ। বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিং খাত প্রতিবছর ১৪ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূলধন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এ অর্থ অ-ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ছয় ভাগের প্রায় দুই ভাগ। আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার অর্থ মূলধন দাঁড়াবে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।

বিশ্বের ৮০ টি দেশে বিস্তৃতি আছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ইউনিয়ন অফ আরব ব্যাংকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ২.৫ ট্রিলিয়ন সম্পদের ৯৫ ভাগই রয়েছে দশটি মুসলিম দেশে। ইরানের দখলে রয়েছে সবচেয়ে বেশি। দেশটির দখলে রয়েছে ২৯ শতাংশ। সৌদি আরবের দখলে ২৫ শতাংশ। মালয়েশিয়ার দখলে রয়েছে ১১ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দখলে রয়েছে ৮ শতাংশ। কুয়েত ও কাতারের দখলে ৬ শতাংশ করে। তুরস্কের দখলে ২.৬ শতাংশ। বাংলাদেশের দখলে ২.১ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার দখলে ২.১ শতাংশ আর বহরাইনের দখলে ১.৮ শতাংশ।

বিশ্ব ইসলামি ব্যাংকের ১শ টির মধ্যের সবার প্রথম তালিকায় আছে সৌদি আরবের আল রাজী ব্যাংক। এ ব্যাংকটির বার্ষিক নিট মুনাফা ১২.৯৪৩ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দুবাই ইসলামি ব্যাংক। ব্যাংকটির বার্ষিক নিট মুনাফা হচ্ছে ৮.৫৬৬ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে আছে কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস। ব্যাংকটির বার্ষিক মুনাফা হচ্ছে ৬.২৩৬ মিলিয় ডলার। এ তালিকায় বাংলাদেরশের ইসলাম ব্যাংক বাংলাদেশ লি. এর অবস্থান ৩২ তম। ব্যাংকাটির বার্ষিক মুনাফা ৬৬৫ মিলিয়ন ডলার।

১৯৭৫ সালে ইসলামি রাষ্ট্রগুলো ইসলামিক কাঠামোর মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করতে একটি বহুজাতিক কর্পোরেশন হিসাবে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। অবশ্য ১৯৫০ সালের শেষের দিকে পাকিস্তানের গ্রামীণ এলাকায় কিছু ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো।

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ