fbpx
           
       
           
       
হাইয়াতুল উলইয়ার ১৬ বছরের সিলেবাস: মানোন্নয়ন কিভাবে হবে?
জুলাই ০২, ২০২২ ৭:২৬ অপরাহ্ণ

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর অধীন ৬ বোর্ড প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠকে কওমি মাদরাসার সিলেবাসে নতুন বিন্যাস হয়েছে। অথরিটির চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে মে মাসের ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নেসাব উপকমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধন্ত গৃহীত হয়। ১৪৪৪-১৪৪৫ হিজরি শিক্ষাবর্ষ থেকে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর অধীন ৬ বোর্ডকে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধও করেছে সংস্থাটি। বছর বাড়লেও এ সনদের কার্যকারিতা কবে বা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন কতৃপক্ষ। এসব বিষয়ে আল হাইয়াতুল উলিয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আলী সঙ্গে কথা বলেছেন নির্বাহী সম্পাদক আবদুল্লাহ তামিম।



৯ বছরের বদলে ১৬ বছরের সিলেবাস বিন্যাসে কার্যকারিতার পদ্ধতি বিষয়ে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম আফতাব নগর মাদরাসার মুহতামিম ও আল হাইয়াতুল উলিয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা আসলে নতুন করে কোনো সিলেবাস করিনি। ৯ বছর কোনো কিছু ছিলো না। ছিলো ১৪ বছর। দুই বছর কমানো হয়েছিলো। এখন আবার ১৬ বছর করা হয়েছে। ১৬ বছরের শিক্ষাবর্ষ আসলে নতুন কিছু নয়। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য। আমরা যেটা নয় বছর ধরি এটা ইবতেদায়ী থেকে নয় বছর ধরি। এর আগে ছয় বছর পড়াশোনা আছে। এর আগে আছে রওজাতুল আতফাল। প্রাক প্রাথমিকের আরেকটা ক্লাস আছে। ঐটাসহ মোট ১৬ বছর হয়।

মূলত এ শিক্ষাবর্ষ আমাদের আগের থেকেই ছিলো। পরবর্তিতে কোথাও কোথাও হেদায়া বাদ দেয়া হয়েছে। কোথাও কাফিয়া বাদ দেয়া হয়েছে। এভাবে শিক্ষাবর্ষ কমে এসেছিলো। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম যে এ দুইটা জামাত না থাকায় ছাত্রদের যোগ্যতা কম হচ্ছে। তাই আমরা এটা এড করে দিয়েছি।

এখানে নতুন কিছু হয়নি। মাঝে শর্ট করা হয়েছিলো। এখন কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি হাইয়াতুল উলয়ার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে দেখেছে। ছাত্রদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই দুই বছর না ছেড়ে পূর্ণ সিলেবাস তৈরি করেছে। এটাই বাধ্যতামূলক সিলেবাস। ইনশাআল্লাহ পর্যাক্রমে এটা যথাযথ কার্যকর হবে। নতুন কিছু করা হয়নি। বরং আমরা আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছি।

কোন প্রয়োজনীয়তার জন্যে হাইয়াতুল উলইয়া আবারো ১৬ বছরের সিলেবাসে ফিরে গিয়েছে বলে মনে করেন?

আমাদের সিলেবাসে কিছু ফুনুনে আসলিয়া আছে। হেদায়া কিতাব আছে। এগুলো অল্প সময়ে পড়িয়ে পরিপূর্ণতা সম্ভব নয়। তাই আমরা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু ফিকহের একটা কিতাব পরিপূর্ণ পড়ানো আবশ্যক। তাই আমরা হেদায়াকে খুব যত্ন করে পরিপূর্ণ পড়ে যোগ্য আলেম হিসেবে পড়ে ওঠতে পারবে।

আমাদের সিলেবাসে দুইটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আরবি ভাষা আর আরবি ব্যকরণ। এ দুইটা বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা একজন ছাত্রের জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ। ভাসা ভাসা আরবি শিখে কুরআন হাদিসের গভীর জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়, আরবি পত্র পত্রিকা পড়া যায়। তাই কুরআন হাদিস বুঝতে হলে নাহু সরফ বালাগাতের পাণ্ডিত্ব অর্জন করতে হয়। আমাদের দেশে এখন বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে, কিছু লোক আরবি একটু বলতে পারলেই মনে করে ওরা আরবি ভালো পারে। এটা ভুল। কুরআন হাদিস বুঝার জন্য এ আরবি জানা যতেষ্ট না। আরব দেশে গিয়ে আরবি বলতে পারলেই সে আলেম না। কুরআন হাদিস বুঝতে হলে অবশ্যই তাকে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

আরবি সাহিত্যের কিতাব পড়ার সাথে সাথে যুুগের চাহিদা অনুযায়ী বাংলা ইংরেজি আমাদের সিলেবাসে রাখতে হবে। এসব কিছু চিন্তা করে আমাদের শিক্ষাবর্ষ বৃদ্ধি করা ছাড়া আমাদের আর বিকল্প কিছু নেই। তাই ১৬ বছরের সিলেবাস পুন;বিন্যাস করা হয়েছে।

জেনারেল শিক্ষার মত করে আমাদের সিলেবাস যেভাবে সাজানো হয়েছে, প্রাথমিক স্তর থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত এটা কি কওমি সার্টিফিকেটের দ্রুত কার্যকারিতার সহায়ক হবে?

না এটা এমন কিছু না। আমরা আমাদের শিক্ষাবর্ষকে জেনারেলের সাথে মিলাচ্ছি না। তাদের শিক্ষাবর্ষ তো ১৭ বছর। আমাদের হলো ১৬ বছর। জেনারেলের সঙ্গে মিলুক বা না মিলুক এতে আমাদের কিছু আসে যায় না। আমাদের শিক্ষাবর্ষ যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে এটাই থাকবে। জেনারেল যদি কমা বা বাড়িয়ে বিশ বছরও করে আমাদের শিক্ষাবর্ষ এখন যা আছে তাই থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের একজন শিক্ষার্থী যেনো আলেমে হক্কানি রব্বানি হয়ে গড়ে ওঠে। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আমাদের যেহেতু সার্টিফিকেট উদ্দেশ্য না। তাই এর সাথে সিলেবাসের বৃদ্ধি করা ছোট করা এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

-এটি