fbpx
           
       
           
       
পড়ালেখার ডিগ্রি চাকরি দেবে না, চাকরি দেবে দক্ষতা
মে ২০, ২০২২ ১১:১৫ অপরাহ্ণ

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।।

লোকজন চাকরি চায়, উপার্জনের মতো একটা কাজ চায়। বিশেষত তরুণরা—যারা সদ্য কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়/মাদরাসা থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছে, কিংবা যারা গ্র্যাজুয়েশনের পথে; কিন্তু পরিবারের দুরবস্থার জন্য ইমিডিয়েট একটা কাজ চাই। এমন একজন তরুণের জন্য আমি কী কাজ অফার করতে পারি?

যার কাজ করার কোনো ধরনের পূর্বঅভিজ্ঞতা নেই, নির্দিষ্ট কোনো কাজে যার কোনো প্রকার দক্ষতা/স্কিল নেই, এই সময়ে কাজ পাওয়ার আবশ্যিক যোগ্যতা হিসেবে কম্পিউটার বেজড কোনো প্রশিক্ষণ/দক্ষতা নেই; এমন একজন তরুণকে কীভাবে কোনো কাজের জন্য রিকমেন্ডেশন দেয়া যায়? তার একমাত্র অভিজ্ঞতা বলতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে মোবাইল টিপতে পারে। অবশ্য মোবাইল টেপা-টেপি কেউ যদি পেশাদারী দক্ষতা অনুযায়ী করতে পারে, তবে সেখানেও কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। কেননা এখন ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি কোম্পানি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের সোস্যাল মার্কেটিংয়ের জন্য প্রচুর দক্ষ-উদ্যমী তরুণ খোঁজে। সামান্য একটু প্রফেশনাল ইংরেজি বুঝলে এসব কাজে মাসে ১০-২০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব শুরুতেই।

কিন্তু আমরা করছিটা কী? আমরা বেকার বসে বসে দেশ, শিক্ষাব্যবস্থা, দারিদ্র, ভাগ্য, বেকারত্ব, পরিবারসহ নানা দিকে অভিশাপ ছুড়ে মারি।

দেখুন, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়/মাদরাসা আপনাকে ১০-১৫ বছর নানা বিদ্যা শিখিয়েছে, নানা তত্ত্ব দিয়ে আপনাকে জ্ঞানী করেছে। এই প্রতিষ্ঠান কিন্তু আপনাকে কোনো কাজ শেখায়নি। বরং আপনাকে কাজ শেখার জন্য স্রেফ প্রস্তুত করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাজ শেখানোর জায়গা নয়, এগুলো মানুষ গড়ার কারখানা। এখান থেকে পাশ করে এবার আপনার কাজ শেখার পালা। যে কোনো একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান সময় এবং আপনার আগ্রহ অনুযায়ী যে কোনো একটা কাজ শিখুন। এক বছর সময় লাগিয়ে ইন্টার্নি করুন। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলুন। দেখবেন, কাজ আপনাকে ‘আয় আয়’ বলে ডাকছে।

মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী যখন তার এমবিবিএস কোর্স শেষ করে, তখনই কিন্তু সে ডাক্তার হয়ে যায় না। তাকে আবশ্যিকভাবে কোনো হাসপাতালে এক থেকে দুই বছর ইন্টার্নি করতে হয়। মানে, কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে তাকে হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে হয়। এমবিবিএস-এর চার-পাঁচ বছর সে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো শেখে। ইন্টার্নির দুই বছর তাকে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয় কোন রোগীর কীভাবে সেবা দিতে হবে এবং কী রোগ হলে কী চিকিৎসা করতে হবে। এমবিবিএস মানেই ডাক্তার নয়।

আমি অনেক আগে থেকেই এসব কথা বলে আসছি। আপনাকে যে কোনো একটা বিষয়ে দক্ষ/স্কিলড হতে হবে। অনার্স-মাস্টার্স বা দাওরা-ইফতা পাশ করেই আপনি যদি মনে করেন, এবার চাকরি পাওয়াটা আপনার নাগরিক অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে আপনি ভুলের মধ্যে বসবাস করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি কখনোই আপনার ভালো কোনো চাকরি বা টাকা ইনকামের গ্যারান্টি হতে পারে না।

আমি তরুণদের সবসময় প্রযুক্তিগত কোনো কাজে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছি। কেননা সামনের প্রতিটা দিন পৃথিবী ডিজিটাল হচ্ছে, দেশ প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। খেয়াল করলে দেখবেন, আপনার আশপাশের কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠান আজ ডিজিটাল হয়ে গেছে, অনলাইননির্ভর হয়ে গেছে, তাদের সেবা দোকান/অফিস থেকে কম্পিউটার/মোবাইলে চলে গেছে। এটাই বাস্তবতা এবং আপনাকে এই বাস্তবতার অংশ হতে হবে। আপনি এটা কোনোভাবেই এভয়েড করতে পারবেন না।

সুতরাং, বড় প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে অহমবোধের কারণে চাকরির আশায় ঘরে বসে থাকবেন না। পড়াকালীন অথবা পড়াশোনা শেষ করে প্রযুক্তিগত কোনো কাজ শেখার উদ্যোগে লেগে যান। মাদরাসা থেকে পাশ করলে আবার আপনাকে মাদরাসায়ই পড়াতে হবে, এই ট্যান্ডেন্সি বাদ দেন। এটা আমাদের নিজেদের বানানো একটা মানসিক ট্যাবু। যাদের মাদরাসায় পড়াতে ভালো লাগে তারা পড়াবে। কিন্তু আপনার যদি মাদরাসায় পড়াতে ভালো না লাগে তাহলে পরিবার আর সমাজ কী বলবে, এমন দ্বিধা নিয়ে কেন মাদরাসায় পড়াতে যাবেন? যে কাজ করলে আপনি ও আপনার পরিবার ভালো থাকবে, সেটাই তো উত্তম রিজিকের মাধ্যম।

আল্লাহ আমাদের উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন!

এনটি