শিরোনাম :
‘বিশ্বায়নের চ্যালেন্জ মোকাবেলায় আলেমদের দীনি জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানও অর্জন করতে হবে’
জানুয়ারি ১৫, ২০২২ ৯:০০ অপরাহ্ণ

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার উত্তরায় দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসায় ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমীর, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের লেকচারার, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ শায়খ ড. শহীদুল ইসলাম ফারুকী বলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেন্জ মোকাবেলায় আলেম সমাজকে দীনি জ্ঞানের সাথে সাথে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও বুৎপত্তি অর্জন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘দীনি ও জাগতিক দুই ধরনের জ্ঞান জীবন নামক গাড়ীর দু’টি চাকার ন্যায়। যে কোনো একটি চাকা বিকল হয়ে গেলে গাড়ীটি আর সামনে অগ্রসর হতে পারে না। তদ্রুপ মানুষ যদি দীনি জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়ে যায় তাহলে মানুষ ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতে বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হবে, আর যদি জাগতিক জ্ঞান থেকে দূরে সরে যায় তাহলে পৃথিবীর নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।

নবুওতের যুগ থেকে নিয়ে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে সার্বজনীন ও সমন্বিত ইসলামী একক শিক্ষাব্যবস্থা চালু ছিলো। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যেমনিভাবে হাফেজ, আলেম, মুফতী, ইমাম ও খতীব বের হয়েছেন তেমনিভাবে ইতিহাসবিদ, ভূগোলবিদ, রসায়নবিদ, গণিতবিদ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী, শাসক ও সেনাবাহিনীও বের হয়েছেন। অতএব মুসলিম উম্মাহকে তার হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে হলে আবার তাকে সার্বজনীন ও সমন্বিত ইসলামী একক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরে আসতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বায়ন গোটা পৃথিবীকে একটি গ্রামে রূপান্তরিত করেছে এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, সভ্যতা-সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাহিত্য সব দিক দিয়ে মুসলিম উম্মাহর সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বিশ্বায়নের প্রভাবে আমাদের নতুন প্রজন্ম পশ্চিমা সভ্যতা-সংস্কৃতি, চিন্তা-দর্শন ও ধ্যান-ধারণার সামনে পরাজয় বরণ করেছে। এজন্য আধুনিক চিন্তা-দর্শন ও ইসলামের আধুনিক দাওয়াতপদ্ধতিতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে না পারলে আমাদের প্রতিটি কদমই পরাজয়ের দিকে ধাবিত হবে।

তিনি আরো বলেন, এখন সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। যুগ বহুদূর অগ্রসর হয়ে গেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ মানুষের চিন্তাশক্তিকেও নিতান্ত অসহায় করে দিয়েছে। পাশ্চাত্য এই বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সাহায্যে মুসলিম বিশ্বের উপর রক্তাক্ত থাবা বিস্তার করেছে। কিন্তু আমাদের আলেম সমাজের ঘুম ভাঙেনি। মনে রাখতে হবে, বর্তমান যুগে ইসলামী রেনেসাঁ ও পুনর্জাগরণ এবং আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দীনি শিক্ষার পাশাপাশি সমকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞান, পশ্চিমা বিভিন্ন মতবাদ ও চিন্তা-দর্শন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’

দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া, উত্তরা, ঢাকা’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল শায়খ সানাউল্লাহ আযহারীর সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন লন্ডন প্রবাসী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, দাঈ, গবেষক ও আলোচক ড. মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ