শিরোনাম :
আবারও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় আল্লামা তাকি উসমানি
জানুয়ারি ০৪, ২০২২ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

কাউসার লাবীব
বার্তা সম্পাদক

গত বছরের মতো এবারও মুসলিম বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন প্রথিতযশা আলেমেদ্বীন শায়খ মুহাম্মদ তাকি উসমানি।

দ্যা রয়েল ইসলামিক ষ্ট্র্যাটেজিক ষ্টাডিজ সেন্টারের ২০২১ সালের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বিশ্বের এই প্রভাবশালী আলেম। তবে ২০২০ সালে প্রকাশিত তালিকায় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন।

আম্মানে অবস্থিত ‘দ্য রয়েল ইসলামিক ষ্ট্র্যাটেজিক ষ্টাডিজ সেন্টার’ নামক প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর এ তালিকা তৈরী করে। মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার ফর মুসলিম- ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারষ্ট্যান্ডিং নামক প্রতিষ্টানের সহযোগিতায় তালিকাটি প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, শায়খ মুহাম্মদ তাকি উসমানি মুহাম্মাদ তাকি উসমানি (জন্ম: ১৯৪৩) পাকিস্তানের একজন প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি ইসলামী ফিকহ্, হাদিস, অর্থনীতি ও তাসাউফ বিশেষজ্ঞ। তিনি বর্তমানে ইসলামী অর্থনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের অন্যতম।

তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন। বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “মাআরিফুল কোরআন”এর রচয়িতা মুফতি শফী উসমানির সন্তান এবং বিখ্যাত দুই ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা রফী উসমানি ও মাওলানা ওয়ালী রাজীর ভাই তিনি।

দেশ ভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানের করাচিতে হিজরত করার পর শিক্ষালাভের জন্য বাড়ির কাছে কোনো মাদ্রাসা না থাকায় পরিবারেই তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল। উর্দু ভাষার প্রথম কিতাব হিসেবে মায়ের কাছে তিনি বেহেশতী জেওর ও সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া পড়েছেন। পিতার কাছে ফার্সি ভাষার জ্ঞান লাভ করেন।

পরবর্তীতে তার পিতা দারুল উলুম করাচি প্রতিষ্ঠা করলে সেখানেই ভর্তি হন। কিছুদিন উর্দু ও ফার্সি অধ্যয়নের পর ১৩৭২ হিজরির ৫ শাওয়াল তিনি তিনি দরসে নেজামি বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল আট বছর। ১৯৫৯ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভ করে তিনি দরসে নেজামির সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। এরপর তিনি তার পিতার তত্ত্বাবধানে ফিকহশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন।

১৯৬১ সালে তিনি দারুল উলুম করাচি থেকে ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতি ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ১৯৬৭ সালে আইন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া ইংরেজি সাহিত্যেও তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।

তার শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হলেন তার পিতা মুফতি মুহাম্মদ শফি উসমানি, যিনি পাকিস্তানের প্রধান মুফতি ছিলেন। তার সহিহ বুখারীর শিক্ষক হলেন মুফতি রশিদ আহমদ। তার অন্যান্য শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন: মাওলানা ওয়ালি হাসান টঙ্কি, মাওলানা সলিমুল্লাহ খান, মাওলানা আকবর আলী, মাওলানা মুহাম্মদ রেযআয়তুল্লাহ, মাওলানা সাহবান মাহমুদ, মাওলানা শামসুল হক প্রমুখ।

এছাড়াও তিনি মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিস কান্ধলভি, মাওলানা রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি ও মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভির কাছ থেকে হাদিস বর্ণনার অনুমতি পেয়েছেন।

আত্মশুদ্ধি অর্জনে তিনি আশরাফ আলী থানভীর খলিফা আব্দুল হাই আরেফীর সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। মৃত্যুর দশদিন আগে আরেফী তাকে খেলাফত প্রদান করেন। তার মৃত্যুর পর তিনি থানভীর আরেক খলিফা মাসীহুল্লাহ খানের শরণাপন্ন হন।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে দাওরা হাদিস সমাপনের পর থেকেই তিনি দারুল উলুম করাচিতে অধ্যাপনা করে আসছেন। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের মে মাস পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরিয়া এ্যাপ্লাইট বেঞ্চের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

“মিজান ব্যাংক” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে সর্বপ্রথম তিনিই ইসলামী ব্যাংকিং চালু করেন। তাকি উসমানি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি (ওআইসির একটি শাখা সংস্থা) এর একজন স্থায়ী সদস্য। ৯ বছর তিনি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০০৪ সালের মার্চ মাসে তাকে দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থনীতি সংস্থার বার্ষিক অনূষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ইসলামী অর্থনীতিতে তার অবদান ও অর্জনের কারণে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

প্রতি সপ্তাহের রবিবার তিনি করাচির দারুল উলুম মাদরাসায় তাযকিয়াহ তথা আত্মশুদ্ধি সম্পর্কে বয়ান করেন। বর্তমানে তিনি দারুল উলুম করাচিতে সহীহ বুখারী,ফিকহ এবং ইসলামী অর্থনীতির দরস দেন।

১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো আমলে পাকিস্তান ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি কর্তৃক কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করার ব্যাপারে আলিমদের মধ্য হতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে হদ্দ, ক্বিসাস এবং দিয়ত সম্পর্কিত আইন প্রণয়নে তিনি অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৬৭ সাল থেকে তিনি উর্দু মাসিক পত্রিকা আল-বালাগ এবং ১৯৯০ সাল থেকে ইংরেজি মাসিক পত্রিকা আল-বালাগ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান সম্পাদক পদে আছেন।ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে বহু প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি আরবি,উর্দু এবং ইংরেজি ভাষায় ষাটের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা।[৯] তার রচিত অধিকাংশ বই বাংলায় অনূদিত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি দারুল উলূম করাচির শায়খুল হাদিস ও নায়েবে মুহতামিম। আন্তর্জাতিক স্ট্যার্ন্ডাড শরীয়াহ কাউন্সিল, ইসলামিক অর্থনৈতিক একাউন্টিং ও পরিদর্শন সংস্থা, বাহরাইন-এর চেয়্যারম্যন। আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি , জেদ্দা ( ও আই সির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান)- এর স্থায়ী সদস্য ও সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনোমিকস, পাকিস্তান (1991 থেকে)- এর চেয়্যারম্যন।

তার আরবি রচনাবলির মধ্যে রয়েছে-
تكملة فتح الملهم (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ)
فى قضايا فقهية معاصرة [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
ما هى النصرانية
بحوث فى قاعدة الفقهية المعاصرة
هندو

ইংরেজি রচনাবলির মধ্যে রয়েছে-
1. The Authority of Sunnah

2. The Rules of I’tikaf
3. What is Christianity?
4. Easy Good Deeds
5. Perform Salaah Correctly
6. The Language of the Friday Khutba
7. Discourse on the Islamic Way of Life
8. Sayings of Prophet Muhammad
9. The Legal Status of Following a Madhhab
10. Spiritual Discourses
11. Islamic Months
12. Radiant Prayers
13. Qur’anic Sciences
14. Islam and Modernism
15. Contemporary Fatawa

উর্দু রচনাবলির মধ্য রয়েছে-
তাওযীহুল কুরআন
ইসলাম আউর সিয়াসী নাযরিয়্যাহ (ইসলাম ও রাজনৈতিক মতবাদসমূহ)
তাবসেরে (গ্রন্থ সমালোচনা)
জাহানে দীদাহ
দুনিয়া মেরে আগে
সফর দর সফর
আসান নেকিয়া
ইনআমুল বারি
ইসলাম আওর জিদাদ পসন্দি
ইসলাহি খুতুবাত
ইসলাহি মাজালিস
ইসলাম আওর সিয়াসাতে হাযেরা
আহকামে ই’তিকাফ
ইসলাম আওর জাদিদ মুআশারাত ওয়া তিজারাত
আকারিরে দেওবন্দ কিয়া হ্যায়, ইত্যাদি।

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ