শিরোনাম :
সংগ্রামের সফল কারিগর মুফতী আমিনী রাহি.
ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

আ.স.ম আল- আমিন

দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সংগ্রামের জন্য ছিল সমাদৃত। সংগ্রাম ছিল আকাবিরদের ইলমে দ্বীন ও ইসলাম ও মুসলমানদের ঈমান- আকিদা সংরক্ষনের বাহন।

সংগ্রামে তারা ফুটিয়ে তুলতেন ইসলামের প্রতি প্রেম, অনুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা, ইসলামী সমাজের, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গৌরবগাঁথা। তাদের বক্তৃতায় ছিল সত্যের আওয়াজ, কেঁপে উঠতো বাতিলের মসনদ। ভারত বর্ষে আলেমদের আন্দোলন সংগ্রামের অবদান অতুলনীয়, যা পৃথিবীজুড়ে সাক্ষ্য। বাংলাদেশেও দেওবন্দের একজন সন্তান ছিল, যিনাকে সংগ্রামের সফল কারিগর ও বলা হয়। যার নাম ছিল মুফতী ফজলুল হক আমিনী রাহ. তিনি সবুজ ভূখন্ডে অনেক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালে কুখ্যাত নাস্তিক তসলিমা নাসরিন কর্তৃক পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে তিনি সারাদেশে একযোগে হরতালসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচী পালন করেছিলেন, শেষপর্যায়ে তাসলিমা নাসরিন এই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলে এই দেশে লংমার্চের ডাক দেয়া হয় তিনি তার নেতৃত্ব দেন।

এরপর তিনি ২০০১ সালে হাইকোর্ট থেকে ‘সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ’-সংক্রান্ত বিতর্কিত রায় ঘোষিত হলে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাশাপাশি হাইকোর্টে আইনি লড়াইও অব্যাহত রাখেন।

আন্দোলন চাঙ্গা হয়ে উঠলে তিনি তৎকালীন সরকারের কোপানলে পড়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। দীর্ঘ চার মাস তিনি কারা বরন করেন,২০১১ সালের ৪ এপ্রিল তিনি এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে বহু প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক প্রতিরোধের মুখে দেশব্যাপি সফল হরতাল পালন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম তিনি কুরআনের দ্বারা বাতিলের বিরুদ্ধে কুরআন হাতে রাজপথে মিছিলে নেমেছিলেন। এই মহান সংগ্রামী যোদ্ধা ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর ৬৭ বছর বয়সে সবাইকে কাঁদিয়ে হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, মাহাদূুল ইকতিসাদ ওয়াল ফিকহীল ইসলামী ঢাকা

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ