শিরোনাম :
কুরআনের জ্ঞান ছাড়া ইসলামি বক্তা হওয়ার বিষয়ে কী বলছেন বিজ্ঞ দুই আলেম?
ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ৭:১৭ অপরাহ্ণ

মোস্তফা ওয়াদুদ::
নিউজরুম এডিটর

ইসলামে ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিমের প্রতি ইসলামের প্রথম বার্তাই- اِقْرَاْ- পড়, ইলম অর্জন কর। ইসলাম থেকে ইলমকে আলাদা করা অসম্ভব। ইসলামের প্রতিটি অংশের মধ্যেই ইলম বিরাজমান। ইলম ছাড়া যথাযথভাবে ইসলাম পালন সম্ভব নয়। ইলম ছাড়া ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন- কোনো ক্ষেত্রেই সত্যিকার অর্থে ইসলাম পালন সম্ভব নয়।

বিখ্যাত তাবেঈ হজরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. তারীখে তাবারীতে বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া আমল করবে সে সঠিকভাবে যতটুকু করবে না করবে, বরবাদ করবে তার চেয়ে বেশি।’

সম্প্রতি দেশের ওয়াজ-মাহফিলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক নতুন নতুন বক্তার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। যারা সুমধুর কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষদের কুরআনের বাণী শুনিয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু সময় দেখা যায়, পর্যাপ্ত কুরআনের জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও অহরহ মাহফিলে বয়ান করে চলেছেন তারা। ইসলামী বক্তা হয়ে নিয়মিত লেকচার দিয়ে যাচ্ছেন।

এতে করে নানান সময় ঘটছে কুরআনের বিকৃতি। কখনো বা বেরশিক ও অশালীন কথাবার্তা বলে বসছেন কোনো বক্তা। যা সময়ে নানা সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দীন না বুঝা সাধারণ মানুষদের কাছে ভুল ম্যাসেজ যাচ্ছে। ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি। দেশের উলামায়ে কেরাম বলছেন, আলোচনা যে কেউ করতে পারেন। তবে কুরআনের আলোকে আলোচনা করতে হলে কুরআনের ইলম দরকার। কুরআনের জ্ঞান দরকার। কোনো কিছু না শিখে শুধু সুন্দর কণ্ঠ দিয়ে ভুলভাল ওয়াজ করার কোনো মানে নেই। এর থেকে বেরিয়ে একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম দেশের বিজ্ঞ দুই আলেমের সঙ্গে।

‘প্রফেশনাল বক্তা’-এ বিষয়টাই ইসলাম সমর্থন করে না: মুফতি রুহুল আমিন, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা

‘কুরআনের জ্ঞান ছাড়া কুরআনের কথা বলা এটা একটি অপরাধ বলেই মনে করি। আমার কাছে এটা অপরাধ মনে হয়। তাছাড়া ‘প্রফেশনাল বক্তা’-এ বিষয়টাইতো ইসলাম সমর্থন করে না। বর্তমানে দেশের মাহফিলগুলো কেমন যেনো ‘বক্তা শিল্পকলা একাডেমী’-র মতো হয়ে গেছে। এতে করে মাহফিলের আসল কথাগুলো হারিয়ে গেছে। যার কারণে সমাজে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাহফিল প্রকৃতপক্ষে একটা দরস। কুরআনের জ্ঞান আছে এমন মানুষই এসব দরস দিবেন। তা না করে যে কেউ কুরআনের দরস দিতে পারেন না। আগে যখন প্রকৃত দরস ছিলো। তখন মাহফিলে আসল ওয়াজ হতো। তাতে মানুষের উপকার হতো। আর এখন এসব প্রফেশনাল একাডেমী আছে। প্রকৃত ওয়াজ নেই। এজন্য সাধারণ মানুষ বলাবলি করে, তাদের এসব কথা কী শুনবো? তাদের কাছে গেলেই শুধু ৩০ হাজার, ৫০ হাজার টাকার চুক্তির কথা শোনা যায়।’

আর জনগণ তাদের এত ফেভারে, যে তাদের কিছু বলারও সুযোগ নেই। আর তাদের বলবো কী? কাউকে ‍কিছু বললেতো শুনতে হবে। তারা তো শুনে না। বরং মনগড়া ভাবে বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছে।’

কুরআনের জ্ঞান ছাড়া বক্তব্য দেওয়াকে আমি সমীচীন মনে করি না: মাওলানা মুহীউদ্দীন রাব্বানী, সভাপতি, বাংলাদেশ আইম্মাহ পরিষদ

‘ওয়াজ-মাহফিল হলো বিশাল দাওয়াতের ময়দান। ইলম না থাকলে কিভাবে দাওয়াত দিবে? দাওয়াতের জন্য ইলম শর্ত। ইলম না থাকার পরেও যদি কেউ দাওয়াত দেয়, সেটা হোক মাহফিলে, কিংবা সাধারণ কোনো মজলিসে, তাহলে সে নিজেও গোমরাহ হবে। অন্যকেও গোমরাহ করবে।’

তিনি বলেন, ‘কুরআনের জ্ঞান হলো দাওয়াতের জন্য প্রথম শর্ত। তাই কুরআনের জ্ঞান ছাড়া দাওয়াত দেওয়া বা বক্তা হওয়াকে আমি সমীচীন মনে করি না। আজকে দেখুন, ‘কুরআনের জ্ঞান ছাড়া দাওয়াতের কারণেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই যারা দায়ী হবেন, তাদের জন্য কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সামনে যদি কখনো কোনো বক্তা বিভ্রান্তিকর কোনো বক্তব্য দিয়েছে, আর আমি শুনেছি, তাহলে যখন যেভাবে সম্ভব হয়েছে তাকে বলে দিয়েছি। কখনো সরাসরি বলেছি। আর সেখানে সরাসরি বলার পরিবেশ না থাকলে ইনডাউরেক্ট তাকে শুধরানোর চেষ্টা করেছি।’

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ