শিরোনাম :
‘সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস’ কতটা জরুরি!
নভেম্বর ০৮, ২০২১ ৪:১২ অপরাহ্ণ

এম এস জালাল।।

ইসলামী শিক্ষা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি বিষয়ে যৌক্তিক ও কার্যকরী উপায় বাতলে দিতে পারে ইসলামী শিক্ষা। বর্তমান বিশ্বে মানব ও সামগ্রিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হচ্ছে তা হলো -জাতিসংঘের “সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য)। বিশ্বের সর্বাধিক পরিস্থিতি উন্নয়নে এ লক্ষ্যমাত্রাকে একটি বিশেষ উপায়ে বিবেচনা করে প্রতিটি দেশ, জাতি ও সমাজ একাত্মার সাথে বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে গুলোর চতুর্থতম হলো কোয়ালিটি এডুকেশন।

কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও দেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও পদ্ধতির প্রকাশ আমরা লক্ষ্য করি। মূলত শিক্ষার উদ্দেশ্যেই মানব উন্নয়ন। আর উন্নত মানুষই টেকসই অন্যান্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা একজন ব্যক্তিকে সত্তিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তার সেই যোগ্যতা নিজেরও অন্যের সমানভাবে উপযোগী হবে। যদি তা না হয়, তাহলে বুঝতে হবে; শিক্ষার গলথ আছে।

উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থাও উন্নত। কিন্তু সমস্যা হলো- সেখানের শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও অভাব দেখা দিয়েছে তাদের দায়িত্বই হলো অন্য কোনো কিছুকে কিংবা ক্ষতি না করে প্রকৃতিকে যথাযথভাবে এভাবে কাজে লাগাবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হুমকির মধ্যে না পড়ে। কোনো কারণ বা প্রয়োজন ছাড়া তাই একটি গাছের পাতা ছিঁড়তে ও নিষেধ করা হয়েছে। (যেমনটি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম একটি নারীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, তোমরা গাছের পাতা প্রয়োজন ছাড়া ছিঁড়বে না।)

নিষেধ করা হয়েছে সমুদ্রের মাঝে অবস্থানকারীকেও পানির অপচয় করতে। এভাবে প্রকৃতিকে শুধু রক্ষা করা হয়নি, বরং অন্যের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে তার অধিকার।এটি ইসলামী শিক্ষার অন্যতম একটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় যে বিষয়গুলো কে সামনে রেখে গুণগত শিক্ষার কথা বলা হয়েছে, তা মানব চিন্তা প্রসূত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেয়া সম্ভব নয়। মানব চিন্তার প্রকৃতি হলো তা তার নিজের, দল বা গোষ্ঠীর, সমাজ ও পরিবেশের ঊর্ধ্বে নয়।

সেই চিন্তা তাই পৃথিবীর বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর হয় না এবং হতে পারো না। অথচ সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক দেয়া বিধান গত শিক্ষাব্যবস্থার অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রেখেই যুগোপযোগী করে দেওয়া হয়।সেখানে সমাজ-রাষ্ট্র ভেদে লক্ষ্যে পৌঁছতে কার্যকারী হবে এটি খুবই স্বাভাবিক। পবিত্র কুরআনে তাই আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন ‘আমি এ কিতাবে (কোরআন) কোনো কিছুই ছেড়ে দেয়নি ( কোনো কিছুরই আলোচনা বাদ রাখেনি)।

কুরআন তথা তাঁর বিশ্লেষণ হাদিস। যার একত্রে সুন্নাহ। যার প্রবর্তক খোদা স্বয়ং- বিশ্লেষক মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুন্নাহে পৃথিবীর এমন কোন জিনিস নেই, যার আলোচনা তাতে নেই । বরং কিয়ামত পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ। আল্লাহু কাফি।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ