পাঠকদের চোখে ইসলামি বইমেলা
অক্টোবর ২৮, ২০২১ ৩:০২ অপরাহ্ণ

আবদুল্লাহ আফফান ও নুরুদ্দীন তাসলিম
বই মেলা থেকে ঘুরে এসে>

প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে কিছুটা জমে উঠতে শুরু করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলা। বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটের এই মেলায় গতকাল পাঠক-লেখকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কেউ স্টলে দাঁড়িয়ে নেড়েচেড়ে বই দেখছিলেন, কেউবা বই নিয়ে কথা বলছিলেন, অনেকেই আবার লেখকের পিছু পিছু ছুটছিলেন অটোগ্রাফ নিতে।

গতকালের বইমেলায় হঠাৎ করে লেখককে দেখতে পেয়ে যেন আপ্লুত হয়ে পড়েন পাঠকরা। অটোগ্রাফ সেলফি তুলতে ব্যস্ত সবাই।

জনপ্রিয় লেখক শায়খ আহমদ উল্লাহ প্রায় প্রতিটি স্টলে স্টলে গিয়ে প্রকাশকদের সাথে কথা বলেছেন। সবাইকে বই কিনতে উৎসাহিত করেছেন জনপ্রিয় এই লেখক। মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহও অটোগ্রাফ দিয়েছেন পাঠকদের।

মাওলানা আতাউল করিম মাকসুদ, মুফতি ইউসুফ সুলতান, মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকীসহ অন্য লেখকরাও জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে সবাইকে বই কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

বইমেলায় বই কেনার পাশাপাশি অনেকেই মাঠে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিয়েছেন। বইমেলার এমন দৃশ্যকে উপভোগ করেছেন সবাই। কেউ কেউ বলেছেন, ‘বই না কিনলেও বই মেলায় এসে আড্ডা দিতে পারার মজাই অন্যরকম। এখানে হঠাৎ করে এমন বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে যায় সচরাচর যাদের সাথে দেখা হয়না। আবার এমন লেখকদেরও সঙ্গ পাওয়া যায় যাদের সাথে দেখা করার কথা কল্পনাও করতে পারি না’।

ইসলামি বই মেলায় তরুণদের আড্ডা।

যাদের বই পড়ে আসছি হঠাৎ সামনে থেকে তাদের দেখার অনুভূতি অন্যরকম জানিয়েছেন ফরিদাবাদ মাদ্রাসা থেকে আসা মুহিব্বুল্লাহ কাফি নামে এক শিক্ষার্থী।

‘তরুণ লেখকদের সাথে পাঠকরা কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে মিশতে পারেন বলে জানাচ্ছিলেন রাহাত নামের একজন পাঠক।

তিনি এসেছেন রাজধানীর মিরপুর থেকে। বলেছিলেন, ‘লেখকরা বরাবরই আন্তরিক। চাই প্রবীণ হন কিংবা তরুণ। তবে মেলায় হঠাৎ করে অনেকদিন পর প্রবীণ লেখকদের সাথে দেখা হলে তাদের আশপাশে অনেক ভিড় জমে। চাইলেও সহজে দেখা করা, অটোগ্রাফ নেওয়ার সম্ভব হয় না। তবে তরুণ লেখকরা এদিকটায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থানে।তাদের সঙ্গ পাওয়া অনেকাংশেই সহজ। এছাড়া তরুণ লেখকদের সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে আড্ডাও জমে ভালো’।

ইসলামী বই মেলায় যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বশির উল্লাহ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি: আওয়ার ইসলাম।

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা থেকে বই মেলায় এসেছেন মোহাম্মদ বশির উল্লাহ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। বশির উল্লাহ যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থী। আব্দুল্লাহ আল মামুন একই মাদ্রাসায় জালালাইন জামাতে পড়েন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন এর আগেও বইমেলায় আসলেও বশির উল্লাহর বইমেলায় আজকেই প্রথম দিন। এর আগে কেন আসেননি জানতে চাইলে বশির উল্লাহ বলেন কিছুদিন আগ পর্যন্তও জানতাম না এখানে ইসলামী বইমেলা চলছে।

বইমেলা কেমন উপভোগ করছেন জানতে চাইলে বশির উল্লাহ বলেন অনেক ভালো লাগছে। আজকে অনেক লেখক এসেছেন, অনেক ভিড় এতদিন শুনে এসেছি মানুষজনের সমাগম কম, কিন্তু আজ ভিন্ন চিত্র দেখছি। বইয়ের তালিকা করে নিয়ে এসেছি। দেখেশুনে সব কিনব।

এদিকে এর আগেও বই মেলায় আসা আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের কন্ঠে ছিল কিছুটা আক্ষেপ। তিনি বলেছেন, ইসলামিক বই মেলা তবে এখানে সব ইসলামী প্রকাশনীগুলোর বই পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি নাম উল্লেখ করে বলেন, রাহনুমা আল-আজহার, মাকতাবাতুল আশরাফসহ যেসব প্রকাশনীতে সময়ের আলোচিত লেখক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, যাইনুল আবেদিন, শরীফ মুহাম্মদের বই পাওয়া যায়, এমন প্রকাশনীগুলোর উপস্থিতি নেই বইমেলাতে। এর আগে এসে বেশ কয়েকটি ইসলামী প্রকাশনির বই খুঁজেও তিনি পাননি। বাহির থেকে কিনতে হয়েছে।

তার ভাষায়, ‘বইমেলা আরো সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন’।

কালান্তর প্রকাশনীর বইও খুঁজে পাননি এমনটা জানালেন একজন ।

তবে সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে ইসলামী বইমেলা এমন প্রত্যাশা করেছেন বই মেলায় আসা পাঠক-লেখকদের সবাই।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাইরে কলেজ পড়ুয়া ও চাকুরিজীবীদের উপস্থিতিও ছিল ইসলামি বইমেলায়। ছবি: আওয়ার ইসলাম।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাইরে কলেজ পড়ুয়া ও চাকুরিজীবীদের উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে গতকাল। ঢাকা কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এসেছেন বইমেলায়।

তিনি জানান, ‘ইসলামি বইমেলা অনেক ভালো লাগে। অনেক বই, পাঠক, লেখককে একসাথে পাওয়া যায়। এবারের মেলায় আজ প্রথম এসেছি। এর আগেও একবার এসেছি। আজ মেলা ঘুরে বইগুলো দেখব, তালিকা তৈরি করব। আরেকদিন এসে কিনব। ইনশাআল্লাহ’।

জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফ মাহমুদ বলেন, বইমেলা খুব ভালো লাগে। এতো বই, প্রকাশনী একসাথে পাওয়া যায় না। এর আগেও ইসলামি বইমেলায় এসছি। খুব ভালো লেগেছে। তাই এবার বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বই দেখছি। পছন্দ হলে কিনব।

এএ/এনটি

সর্বশেষ সব সংবাদ