কোরআনের খেদমতকে জীবনের লক্ষ্য বানাতে চান মাওলানা উমায়ের
অক্টোবর ০৫, ২০২১ ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

মাহদী হাসান চৌধুরী ।।

ঢাকার মতিঝিল ওয়াপদা মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর ২০১৭ সনে খিলগাঁও-তে একটি প্রাইভেট মাদরাসায় কোরআন পড়াতে শুরু করেন মাওলানা উমায়ের আহমদ। এটি তার একাডেমিক ভাবে কোরআন শিক্ষাদানের সূচনা।

২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ড. দীপু মনির উদ্বোধনের মাধ্যমে ইউনেসকোর কোরআন শিক্ষা দানের কোর্স চালু হয়। ইউনেসকো এই আয়োজন করেছিল। সেখানের শিক্ষক নিযুক্ত হন উমায়ের। সেগুনবাগিচার একটি ভবনে সচিব, উপসচিবসহ সরকারি কর্মকর্তারা কোরআন শিখতেন। উমায়ের বলেন, ‘সেখানে সবাই ছিল সরকারি বড় বড় আমলা। কোরআনের প্রতি তাদের দরদ দেখে আমার যারপরনাই ভালো লেগেছিল। আমি সাধ্যমতো তাদের শিখিয়েছি। কোরআনের কাজে এটা বোধহয় ইউনেসকোর প্রথম কাজ।’

বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হলে তার একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি ঢাকা ছেড়ে বাড়ি ফিরেন। এর মধ্যে এলো রমজান। ভাবলেন— অনলাইনে কোরআন পড়াবেন। ‘সহজে কোরআন শিক্ষা’ শিরোনামে শুরু করলেন অনলাইনে ক্লাস। ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে লিখে পড়াতেন। এখন অনলাইনে তার হাজারো শিক্ষার্থী। মোট ২৮ দিনের কোর্স। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে পড়ান। এতেই মানুষের কোরআন পড়া শেখা হয়ে যায়।

মাওলানা উমায়েত ব্যক্তিগত পেইজ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ বিনা মূল্যে কোরআন পড়াচ্ছেন। এভারগ্রিন বাংলাদেশ, ইসলামিক জীবন, ইসলাম প্রতিদিন, দ্য লাইট অব ইসলাম, উস্তাদ.কম সহ বিভিন্ন ফেসুবক পেজ, গ্রুপ এবং ইউটিউব চ্যানেলে কোরআনের দরস দিচ্ছেন তিনি।

দেশ-বিদেশে সব মিলিয়ে তার ছাত্র সংখ্যা কয়েক হাজার। তার কোরআনের শিক্ষার ভিডিও গুলোর ভিউ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ। মাওলানা উমায়েরের জন্ম নরসিংদী জেলায়। পড়ালেখার হাতেখড়ি নরসিংদী সাহেপ্রতাপ মাদরাসায়। দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেছেন মতিঝিল ওয়াবদা মাদরাসা থেকে।

অভাবের সংসার ছিল উমায়েরের। কষ্টে পড়ালেখা করেছেন। ছাত্রজীবনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি বাসায় টিউশনি শুরু করলেন। এর মধ্যে একদিন প্রতিজ্ঞা করলেন— সাধারণ মানুষের কাছে কোরআন শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবেন। মানুষকে কোরআনের কাছে নিয়ে আসবেন। অতঃপর ২০১৭ সালে যখন খিলগাঁওয়ে একটি মাদরাসায় বাচ্চাদের পড়াতেন, বিকেলে পথে পথে দেখা মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। অনেকেই কোরআন পড়তে জানে না—শুনে কষ্ট পেতেন। ঠিক করলেন, ফ্রি কোরআন পড়াবেন।

পকেট তখন ফাঁকা। একজনের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ধার নেন। এক স্কুলের একটি রুম বিকেলের জন্য ভাড়া নেন। মানুষকে বোঝাতে থাকেন। লিফলেট বিতরণ করেন। মসজিদে মসজিদে নামাজ শেষে কোরআন শিক্ষার কথা বলেন। শুরুতে কেউ আসেনি। একদিন এক ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণকে বুঝিয়ে নিয়ে আসেন। অন্যদিন হোটেলের দুই কর্মচারী। তাঁদের হাতখরচও দেন। কোরআনের পাখি মাওলানা উমায়েরের গল্প এভাবেই শুরু হয়েছিল।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ