শিরোনাম :
পরকীয়া: সমাজের ভয়ঙ্কর এক ব্যাধি
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

মুশতারী তাসনীম মুননী।। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় পরকীয়া বলতে বুঝায় বিবাহ বহির্ভূত একজন বিবাহিত ব্যক্তি আরেক জন বিবাহিত ব্যক্তির সাথে শারীরিক কিংবা মানসিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া।

আর দ্বীনি ভাষায় যার অর্থ হারাম সম্পর্ক। যেখানে শরিয়ত কঠোর বিচার রেখেছেন এসব সম্পর্কধারীর জন্য। একটা গল্প বলি শুরুতেই। এক লোক একজন বুযুর্গ ব্যক্তির নিকটে এসে আর্জি পেশ করলো। বলল হুজুর আমি বিয়ের আগে আমার স্ত্রীকে এতো অপরুপ দেখেছিলাম, যেখানে উপস্থিত আশেপাশের কাউকেই রুপবতী মনে হয়নি।

এরপর বিয়েতেও আমার স্ত্রীকেই সুন্দরী মনে হয়েছে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর আশেপাশের কিংবা প্রতিবেশী নারীদের বেশী সুন্দর লাগে।

আজকাল আমার স্ত্রী সন্তানের মা হয়েছেন মনে হলো আমার স্ত্রীর চেয়ে বন্ধুদের স্ত্রীগুলো খুবই মায়াময় সুন্দরী। আর পথে ঘাটে যাকে দেখি তাকেই ভালো লাগে।

আমার করণীয় কি?

হুজুর বলল! এরপর তোমার একটা বৃক্ষকেও তোমার বেশী সুন্দর মনে হবে। কেননা তোমার চোখ পরস্ত্রী রুপে আটকে গেছে আর নিজ স্ত্রী হতে দূরে সরে গেছে। এর একমাত্র উত্তরণের পথ তাকওয়া ও তাওবাহ।

এরকম শুধু ব্যক্তি যে পুরুষই হবে তা নয় মহিলাদের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। যার ভবিষ্যত পরকীয়ার বীজ প্রস্ফুটিত হয়। পরকীয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

সমাজ ব্যবস্হা:
যেমন ধরুন বেপর্দা সমাজ যেখানে নারী পুরুষের মেলামেশা সহজেই সম্ভব হয়।

পারিবারিক কারন:
পারিবারিক অশান্তি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ায় আসক্ত করে।

এক ঘেয়ে সম্পর্ক:
দৈনন্দিন একইভাবে সম্পর্ক কাটানো,  একই স্হান কিংবা একই অভ্যেস অপর ব্যক্তিকে পরকীয়ায় উদ্ভূত করে। স্বামী- স্ত্রী কে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, শরিয়ত সম্মত বিনোদনে যাওয়া, দুষ্টুমি করা, প্রয়োজনে খেলা, এক ঘেয়ে থেকে বের করে আনতে পারে। পরকিয়ায় জড়ানো থেকে বাঁচাতে পারে।

পুরনো অভ্যেস:
বিয়ের আগের চরিত্রহীনতা অনেক সময় আবারও মোচড় দিয়ে ওঠে। বিভিন্ন জনের সাথে সময় কাটানোর জন্য আবারও ব্যক্তি পরকীয়ায় ঝাপিয়ে পড়ে।

মনোদৈহিক:
ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা অপূর্ণতা থাকায় মানসিক চাপ সামলাতে পরকীয়ায় আসক্ত হয়।

সঙ্গীর উদাসীনতা:
সঙ্গীর উদাসীনতা ব্যক্তিকে পরকীয়ায় উদ্ভূত করে। দীর্ঘদিন উদাসীনতা আর অবহেলার দায়ভার তখন দাম্পত্যের উপরেই ফাটল ধরায়। এছাড়াও পশ্চিমা সংস্কৃতি, সন্তান জন্মের পর, কিংবা বহুদিনের দূরত্ব পরকীয়ার অন্যতম কারণ।

তবে সবার উর্ধ্বে ব্যক্তির তাক্বওয়া ও সবর কম থাকা। ব্যক্তির দ্বীনি ভয় না থাকা বিশেষ কারন হয়ে থাকে। চরিত্রের সাথে সম্পর্কিত এসব সম্পর্ক।

যেসব কারণেই পরকীয়া হোকনা কেন, ইহাকে এগিয়ে নিতে শয়তান বেশ মনোযোগ দিয়ে উৎসাহিত করে। যার ফলে সংসারের অশান্তি তখন নিত্যকার নতুন ডিজাইনে এপ্রিশিয়েট হয়।

কখনও কখনও সামাজিকতা, সন্তান কিংবা আত্মমর্যাদার ভয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় কেউ কেউ। আবার সমাজ, সন্তানের জন্য সবর করে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয় এই দহনে। কেউবা নতুনভাবে জীবনকে সাজিয়ে নিতে সমাপ্তি টানে সংসারের। সেখানে সন্তান হয় উপেক্ষিত। সন্তানের ভবিষ্যত দোটানায় সন্তানরা হয় পথভ্রষ্ট কিংবা অবহেলিত

বর্তমান সমাজে বহু ভদ্রলোকের সংসারও পরকীয়ার আগুন দ্বারা বেষ্টিত। চাপা আর্তনাদ সেখানে প্রতিদিনের রুটিন।
এখনকার অনলাইন দুনিয়া হাতের মুঠোয় এনেছে পরকীয়া। ইচ্ছে হলেই আপনি শখের বশত পরকীয়া স্টার্ট করতে পারেন। আর তাকে এগিয়ে নেবার দায়িত্ব সরাসরি ইবলিশের এজেন্টগনের।

এক কথায় পারিবারিক ভাঙন পরবর্তীতে সমাজে ভাঙ্গন ধরায়। আর পরকীয়ার ভাঙ্গন সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংস করে।

এসব অশান্তির একটা আইন দরকার। এটা বহু জীবনকে অনিশ্চয়তা আর ধবংস করে থাকে। এদেশে সরকার ব্যবস্থা পশ্চিমা নীতির নয়। ধর্মীয় নীতিতে আমরা একটা সুস্থ আইনের প্রত্যাশা করছি।

ইসলাম কখনও নোংরামি সাপোর্ট দেয়নি। ধর্মীয় আইন এ ব্যপারে কঠিন শাস্তি রেখেছে।

দুনিয়াবি এসব রঙ্গিন খেলায় আমরা যেন আখিরাত কে না ভুলি। যারা পরকীয়ার মতো নোংরা ব্যধিতে আছেন, তারা এই মুহুর্ত হতেই তাওবাহ করুন। আল্লাহর সান্নিধ্যে সময় কাটান। আল্লাহর কাছেই ফেরার রাস্তা চেয়ে নিন। নিশ্চয়ই তিনি ফিরিয়ে দিবেন না।

লেখিকা: আলেমা ও লেখিকা

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ