করোনা পরবর্তী রাজনীতি: কতটা মাঠে গড়াবে ইসলামী দলগুলো?
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

করোনাসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের কার্যক্রমে দেখা যায়নি রাজনৈতিক দলগুলোকে। বর্তমানে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমছে। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হবে? কিভাবে পরিচালিত হতে পারে সামনের দিনের কার্যক্রম, এ বিষয়ে কী ভাবছেন ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলরা। এ নিয়ে বাংলাদেশের ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে কথা বলে আজকের প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক নুরুদ্দীন তাসলিম


পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিবন্ধকতাকে সাথে নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হবে: 

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান: যুগ্ম-মহাসচিব; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আওয়ার ইসলামকে বলেছেন, করোনা কিংবা স্বাভাবিক; কোন পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীন ও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিকূলতা আরো বেশি।

তবে তার মতে, ‘বর্তমানে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা। জনগণকে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সাথে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করা’।

’আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মাধ্যমে ইসলামী দলগুলো সংগঠিত করার এক ধরণের প্রবণতা রয়েছে, আমাদেরকে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, এই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে দলীয় কার্যক্রম-এর সাথে জড়ানো না গেলে ইসলামী সংগঠনগুলো বারবার হোঁচট খাবে’ -বলছিলেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম কতটা মাঠে গড়াবে এ বিষয়ে তিনি বলছেন, প্রত্যেকটি দল তাদের পলিসি অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবে, মাঠ পর্যায়ে কে কতটা সক্রিয় থাকবেন, তা সামনের দিনগুলোতে সবার কার্যক্রম দেখে বোঝা যাবে।

‘করোনার সময়ে যখন সবকিছু এক রকম স্থবির ছিল; তখনও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাধারণ, অসহায় ও দুস্থ-গরিব মানুষের পাশে ত্রাণ বিতরণ করেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের লাশ দাফন-কাফনসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সেবার কাজ চালিয়ে গেছে।  বর্তমানেও তারা মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় নির্বাচনসহ সব ধরনের কাজে সক্রিয় আছে’ বলছেন তিনি।

মাঝখানে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার-ধরপাকড়ের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে, এর কারণে বর্তমানে দলগুলোর কার্যক্রম কিছুটা ধীর গতিতে চলতে পারে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিপক্ষকে দমন করতে জেল-জুলুম, গ্রেফতার, অন্যায়ভাবে হয়রানি বাংলাদেশের রাজনীতির নোংরা অধ্যায় হিসেবে গণ্য হতে শুরু করেছে।

তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় নতুনভাবে ঘুরে না যাওয়া পর্যন্ত এসব চলতেই থাকবে, বন্ধ হওয়ার কোনো আভাস আছে বলে আপাতত মনে হয় না। তাই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে এসব প্রতিবন্ধকতাকে সাথে নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং বর্তমানে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো তাই করছে, ভবিষ্যতেও করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হবে তা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার: 

মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া: ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেছেন, করোনার কারণে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এক ধরনের ধীরগতি এসেছিল, সর্বশেষ অন্য সবকিছুর মতো খুলে দেওয়া হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে করোনার কারণে দেশে যে ইমারজেন্সি অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো যায়নি। তাই মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হবে তা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার- বলেছেন তিনি।

তার মতে, মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা ছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন ক্যাটাগরির কাজ থাকে, যেমন জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ করা, যারা সমস্যায় জর্জরিত,  তাদের খোঁজ খবর নেওয়া, গ্রেফতারকৃতদের মুক্ত করা-এই কাজগুলো চালিয়ে নিচ্ছে সংগঠনগুলো। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রমের পরিধি বাড়বে বলে মতামত দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

 সবার কার্যক্রম কিছু গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ:

মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী: নায়েবে আমির, খেলাফত মজলিস

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীও বলেছেন কিছুটা একই রকম কথা।

তার মতে,‘ বাংলাদেশে কোন দলই সঠিকভাবে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, চাই তা ইসলামিক হোক কিংবা অন্য কোন ঘরানার। সবার কার্যক্রম কিছু গন্ডির মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে’।

তিনি বলছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাই বলা সঙ্গত যে, ক্ষমতাসীনরা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে যতটুকু কাজ করতে দিবেন, তারা ততটুকুই করতে পারবেন, এর বাইরে কাজ করার খুব একটা সুযোগ তাদের নেই‘।

তিনি আরো যুক্ত করেন, আমাদের দেশে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে অনেকদিন ধরে, তবে দলের বাইরে ইসলামিক শক্তি বিভিন্ন ইস্যুতে একত্র হয়ে কাজ করতো; কিন্তু বর্তমানে ইসলামিক শক্তিই কোণঠাসা হয়ে আছে, তাই এই সময়ে ইসলামিক দলগুলোর মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম কতটা দেখা যাবে তা সময়ই বলে দিবে- বলছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ