সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়তে সুদ উচ্ছেদের বিকল্প নেই!
আগস্ট ০৫, ২০২১ ৪:২৭ অপরাহ্ণ

আ. স.ম আল আমীন ।।

সমাজ থেকে সর্বপ্রকার দুর্নীতির অবসান ও জুলুমতন্ত্রের বিলোপ সাধনের উদ্দেশ্যে সর্বাগ্রে ও সর্বপ্রধান যে মোক্ষম আঘাতটি হানা হয়েছে তা হচ্ছে সুদের উচ্ছেদ। তাই রাসুল সঃ মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর বিশ্ববাসীর কল্যাণ চিন্তা করে মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ সা. অর্থনীতিতে এক দিগন্তকারী নতুন কর্মসূচির সূচনা করেন।

সে কর্মসূচির আলোকে মদিনা শহর অর্থনীতিতে উন্নতি করেছে। তখনকার সময়ে নবীজির কর্মসূচির আদলে মদিনা সভ্যতায়-সৃজনে নির্মাণে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। তার কর্মনীতি অনুসরণ করে সুদূর স্পেন থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত-বিশাল মুসলিম বিশ্বে শোষণমুক্ত ও কল্যাণধর্মী নতুন এক অর্থনীতি গড়ে ওঠেছিল।

সেই অর্থনীতি ছিল সুদ মুক্ত, তাছাড়া ইসলামে সুদ ও সুদভিত্তিক সমস্ত কারবার ও লেনদেন চিরকালের জন্যে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আল কুরআনে এ প্রসঙ্গে এর ইরশাদ হয়েছে

আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। (সূরা আল বাকারাহ : ২৭৫ আয়াত) রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- তোমাদের মধ্যে যারা সুদ খায়, সুদ দেয়, সুদের হিসাব লেখে এবং সুদের সাক্ষ্য দেয় তারা সবাই সমান পাপী।
(তিরমিযী, মুসলিম)

ইসলামী অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় যাবতীয় অসৎ কাজের মধ্যে সুদকে সবচেয়ে পাপের জিনিস বলে গণ্য করা হয়েছে। বস্তুত: সুদের মতো সমাজবিধ্বংসী অর্থনৈতিক হাতিয়ার আর দুটি নেই। সুদের কুফলগুলির প্রতি একটু লক্ষ করলেই বোঝা যাবে কেন সুদ চিরতরে হারাম ঘোষিত হয়েছে।

সমাজ শোষণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম: একদল লোক বিনাশ্রমে অন্যের উপার্জনে ভাগ বসায় সুদের সাহায্যেই। ঋণগ্রহীতা যে কারণে টাকা ঋণ নেয় সে কাজে তার লাভ হোক বা না হোক সুদের অর্থ তাকে শোধ করতেই হবে। এর ফলে বহু সময়ে ঋণগ্রহীতাকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে হলেও সুদসহ আসল টাকা পরিশোধ করতে হয়। সুদ গ্রহীতারা হচ্ছে সমাজের পরগাছা।

এরা অন্যের উপার্জন ও সম্পদে ভাগ বসিয়ে জীবন যাপন করে। সমাজের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে এদের কোন অবদান থাকে না। এ খন সকলের প্রশ্ন উঠতে পরে সুদ এত মারাত্মক খারাপ, সুদ টা কি? সুদের সংজ্ঞা সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো- আর রিবা। আভিধানিক অর্থ- বৃদ্ধি, অতিরিক্ত, প্রবৃদ্ধি, বিকাশ ইত্যাদি। বাংলা পরিভাষায় ব্যবহৃত সুদ শব্দটি মূলতঃ ফার্সি ও উর্দু ভাষা থেকে আগত।

ইসলামি শরিয়তে রিবা বলতে বুঝায়, যা ঋণের শর্ত হিসেবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে ঋণগ্রহীতা মূল অর্থসহ অতিরিক্ত অর্থ ঋণদাতাকে পরিশোধ করতে বাধ্য হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ঋণ কোনো মুনাফা টানে তাই সুদ। সুদ ২ প্রকার

.১-রিবা আন নাসিয়াহ ও
২- রিবা আল ফজল।

রিবা আন নাসিয়া বা মেয়াদি সুদ এটা হলো- প্রকৃত সুদ বা প্রাথমিক সুদ। কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে এ ধরনের সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিবা আন নাসিয়ার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যে ঋণ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ দেওয়া থাকে এবং মূলধনের অতিরিক্ত প্রদানের শর্ত থাকে, সেটাই রিবা আন নাসিয়াহ।

রিবা আল ফজল
রিবা আল ফজল। এ প্রকারের সুদ হারাম হওয়ার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। পণ্য সামগ্রী হাতে হাতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে রিবা আল ফজলের উদ্ভব। এক জাতীয় পণ্যের কম পরিমাণের সঙ্গে বেশি পরিমাণ পণ্য হাতে হাতে বিনিময় করা হলে পণ্যটির অতিরিক্ত পরিমাণকে বলা হয় রিবা আল ফজল।

সাহাবি হজরত আবু সাঈদ খুদরি হতে বর্ণিত, একদা হজরত বিলাল (রা.) হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট কিছু উন্নতমানের খেজুর নিয়ে হাজির হলো। হজরত রাসূলুল্লা (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথা থেকে এ খেজুর পেলে? হজরত বিলাল (রা.) বললেন, আমাদের খেজুর নিকৃষ্টমানের ছিলো। আমি তা দু’সা এর বিনিময়ে এক ‘সা’ বারমি খেজুর বদলিয়ে নিয়েছি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওহ! এতো নির্ভেজাল সুদ, এতো নির্ভেজাল সুদ, এতো নির্ভেজাল সুদ। কখনও এরূপ করো না। তোমরা যদি উত্তম খেজুর পেতে চাও নিজেরগুলো বাজারে বিক্রি করবে তারপর উন্নতমানের খেজুর কিনবে।

অনেক ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র হাদিসে বর্ণিত ৬টি পণ্যের ব্যাপারে রিবা আল ফজলের সীমা নির্ধারিত। কিন্তু অধিকাংশ ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, হাদিসে উল্লেখিত পণ্য ব্যতিত অন্য যেকোনো পণ্য বদলের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য।

এখন আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে সুদ আর মুনাফার মধ্যে পার্থক্য কি? অধিকাংশ মানুষেই বলেন, সুদ ও মুনাফা একই জিনিস। কিন্তু আসলে তা নয়। সুদ ও মুনাফার পার্থক্যগুলো হলো-

১- লেনদেনের ক্ষেত্রে ঋণের অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা সুদ। অপরদিকে ব্যবসায় মূলধন খাটানোর মাধ্যমে মূলধনের অতিরিক্ত আয় হলো- মুনাফা

২. সুদের উৎপত্তি ঋণ থেকে। মুনাফার উৎপত্তি ব্যবসার মূলধন বিনিয়োগ থেকে।

৩. সুদে ঋণদাতা ঝুঁকি বহন করে না। কিন্তু মুনাফায় ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

৪-সুদের ফলাফল ঋণদাতা একা ভোগ করে। অপরদিকে মুনাফা যোগানদার ও ব্যবহারকারী উভয়ই ব্যবহার করে।
৫ -সুদ পূর্ব নির্ধারিত। অপরদিকে মুনাফা অর্জিত হয় পরে।
সমাজে সুদের ক্ষতি –

১- দিন দিন সমাজে দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হচ্ছে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে –

দরিদ্র অভাবগ্রস্থ মানুষ সাহায্যের কোন পথ খোলা না পেয়ে, উপায়ন্তর না দেখে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। সেই ঋণ অনুৎপাদনী দুরকম কাজেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে অনুৎপাদনী কাজে ঋণের অর্থ ব্যবহারের ফলে তার ঋণ পরিশোধের ক্ষমতাই লোপ পায়।

কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজে করযে হাসানার কোন সুযোগ না থাকায় অনুৎপাদনী খাতে তো দূরের কথা, উৎপাদনী খাতেও সুদবিহীন ঋণ মেলে না। বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো তাকে সুদ শোধ করতে হয়। ফলে সে তার শেষ সম্বল যা থাকে তাই বিক্রি করে উত্তমর্ণের ঋণ পরিশোধ করে থাকে। এই বাড়তি অর্থ পেয়ে উত্তমর্ণ আরও ধনী হয়। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে থাকে সামাজিক শ্রেণী বৈষম্য।

২- দিন দিন সমাজে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়: কৃষকেরা ফসল ফলাবার তাগিদে নিজেরা খেতে না পেলেও ঋণ করে জমি চাষ করে থাকে। এই ঋণ শুধু যে গ্রামের মহাজনের কাছে থেকেই নেয় তা নয়, বিভিন্ন এনজিও ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকেও নেয়। যথোপযুক্ত বা আশানুরূপ ফসল হওয়া সব সময়েই অনিশ্চিত।

তাছাড়া, প্রাকৃতিক দুর্বিপাক তো রয়েছেই। যদি ফসল আশানুরূপ না হয় বা প্রাকৃতিক দুর্বিপাকের ফলে ফসল খুবই কম হয় বা মোটেই না হয় তবু কিন্তু কৃষককে নির্দিষ্ট সময়ে সুদসহ ঋণ শোধ করতে হবে। তা না পারলে কি মাহাজন, কি ব্যাংকে-সকলেই আদালতে নালিশ ঠুকে কৃষকের সহায়-সম্পত্তি গ্রাস করিয়ে নেবে। নীলামে চড়াবে দেনার দায়ে। এভাবেই বিশ্বের সমস্ত পুঁজিপতি দেশে ক্ষুদ্র চাষীরা ক্রমেই ভূমিহীন চাষী হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশ তার ব্যতিক্রম নয়।

৩- দিন দিন দ্রব্যমূল্য ক্রমেই বৃদ্ধি পায়: সুদবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী উৎপাদন খরচের উপর পরিবহন খরচ, শুল্ক (যদি থাকে) এবং স্বাভাবিক মুনাফা যোগ করে পণ্যসামগ্রীর বিক্রি মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

কিন্তু সুদভিত্তিক অর্থনীতিতে দ্রব্যের এই স্বাভাবিক মূল্যের উপর উপর্যুপুরি সুদ যোগ করে দেওয়া হয়। দ্রব্য বিশেষের উপর তিন থেকে চার বার পর্যন্ত ক্ষেত্র বিশেষে তারও বেশী সুদ যোগ হয়। উদাহরণ স্বরূপ, আমাদের দেশের বস্ত শিল্পের কথাই ধরা যেতে হয়। এই শিল্পের তুলা আমদানীর জন্য আমদানীকারকের কাছ হতে ব্যাংকে দেয় ঋণের জন্যে যে সুদ নেয় তা যুক্ত হয় তুলার উপর।

ঐ তুলা থেকে সূতা তৈরীর সময়ে বস্ত্রকল যে ঋণ নেয় তার সুদও যুক্ত হয় কাপড়ের উপর। এরপর কাপড়ের পাইকারী বিক্রেতা তার ব্যবসার উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেয় তার সুদও যোগ করে ঔ কাপড় যখন খুচরা দোকানে আসে, বা প্রকৃত ভোক্তা ক্রয় করে তখন সে আসল মূল্যের চেয়ে বহু গুণ বেশী করে দিয়ে থাকে।

এমনি ভাবে সমাজে দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির প্রত্যেকটিতেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুদ জড়িয়ে আছে। নিরুপায় ভোক্তাকে বাধ্য হয়েই সুদের জন্যে সৃষ্ট এই চড়া মূল্য দিতে হয়। কারণ, সুদনির্ভর অর্থনীতিতে এছাড়া তার গত্যন্তর নেই। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে ব্যক্তি, সমাজ ও অর্থনীতির জন্যে সুদ কত মারাত্মক।

এরই বিপরীতে ইসলামী অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা হলে বিনিয়োগের জন্যে যেমন অর্থের অব্যাহত চাহিদা থাকবে তেমনি সঞ্চয়ের সদ্ব্যবহার হবে। ফলে নতুন নতুন কল-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অধিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সম্পদের পূর্ণবন্টন ঘটবে। তা ছাড়া প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

একচেটিয়া কারবার হ্রাস পাবে। অতি মুনাফার সুযোগ ও অস্বাভাবিক বিনিয়োগ প্রবণতা দূর হবে। এই সমস্ত উদ্দেশ্য সাধন ও সব ধরনের শোষণের পথ বন্ধ করে দেবার উদ্দেশ্যেই ইসলামে সুদকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সমাজ থেকে সুদ নির্মুলের উপায়- প্রশ্ন উঠতে পারে, বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সুদভিত্তিক অর্থনীতি চালু রয়েছে সেদেশে কিভাবে সুদ উচ্ছেদ করা সম্ভব? সুদের অভিশাপ মু্ত হয়ে কিভাবে ইসলামের অর্থনৈতিক সুবিচারের ছায়াতলে আশ্রয় পাওয়া যেতে পারে? এজন্যে নীচে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যায়। আমাদের বিশ্বাস যদি প্রচেষ্টায় আমরা আন্তরিক ও যত্নবান হই তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর অসীম রহমতের ছায়াতলে আমাদের ঠাঁই দেবেন।

১. ইসলামী পদ্ধতিতে ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা: আজ সকলেরই চোখের দেখা বর্তমান প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতি শুধু সফলই প্রমাণিত হয়েছে তাই নয়, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলোর চাইদে অধিকতর যোগ্যতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এজন্যে আজ অমুসলিম দেশে, এমনকি অমুসলিম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ইসলামী ব্যাংক ও ফাইন্যান্সিং সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর বড় উদাহরণ লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক, ইংল্যাণ্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে প্রথম ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুই দশকেরও বেশী আগে এবং সাফল্যেল সাথে ব্যাংকটি পরিচালিত হয়ে আসছে । আরও দুটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৫ সালে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এদেশের জনগণের মন মানসিককাত প্রবলভাবে ইসলামমুখী অথচ বিদ্যমান আইন কাঠামো, সমাজব্যবস্থা এমনকি ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই মন-মানসিকতা ইসলামবিরোধী। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা ও রোমান-বৃটিশ আইন দ্বারা আজও এদেশের ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই কঠিন অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখেই বলা যায়, বাংলাদেশে আরও ইসলামী পদ্ধতির ব্যাংক ও ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন এবং সেসবের সেবা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া জরুরী ।

২- সমাজে কর্জে হাসানা ও মুদারিবা সিষ্টেম প্রতিষ্ঠা করা দরকার

সমাজে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি এবং বিত্তহীন দক্ষ ও যোগ্য লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারে করযে হাসানা ও মুদারিবাত পদ্ধতি। ইসলামী সমাজের এই অপরিহার্য বিধানটি এদেশে নাই বললে চলে । অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, এমনকি সংখ্যালঘু মুসলমানের দেশ শ্রীলংকাতেও মসজিদভিত্তিক করযে হাসানা প্রদান ও সোসাইটিভিত্তিক মুদারিবাত ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ দেশেও এই ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সমাজের বিত্তশালী লোকদের করযে হাসানা দেওয়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এই উদ্যোগ যদি মসজিদকেন্দ্রিক হয় তাহলে সত্যিকার যোগ্য লোককে যেমন সুযোগ দেওয়া যাবে তেমনি এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি সমাজ সচেতনতা ও সমাজকল্যাণ নিশ্চিত হবে।

মুদারাবা পদ্ধতি এদেশে চালু করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজন হবে আইন কাঠামো বদলানোর সাথে সাথে উত্তম চরিত্রের লোক সৃষ্টির।

উত্তম ও যোগ্য লোকেরা মুদারাবার মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি উভয়বিধ উপায়েই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করতে পারে। উপরন্তু সমাজের বিত্তশালী লোকদের মনোভাব পরিবর্তনের জন্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্যে প্রয়োজন তাদের ইসলামী অনুশাসন জানতে ও অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করা। করযে হাসানা দিলে সেই অর্থের জন্যে আয়কর দিতে হবে না এবং মুদারাবার ক্ষেত্রে সাহিবে -মালকে মুনাফার নির্দিষ্ট পরিমাণ উর্ধের জন্যে আয়কর দিতে হবে এমন আইন করে বিত্তশালী মুসলিমদের মনোযোগ আকর্ষণ করা সম্ভব।

৩- সুদ উচ্ছেদে রাষ্ট্রের প্রদক্ষেপ অতি জরুরি- ইসলামের সু- মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের প্রদক্ষেপ অতি জরুরী, যেমন ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানী হাফিঃ সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে একটি রায় প্রদান করেন, তেমনি বাংলাদেশে যদি প্রধান বিচারপতি সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার রায় প্রদান করতেন। তাহলে এদেশে সুদ মুক্ত সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়তে রাষ্ট্রের জন্য খুব সহায়ক ভূমিকা হতো আমি মনে করি। আলোর বাতাস পেতেন এদেশের গরীব- কৃষক নিম্ন শ্রেণির হাজারো মানুষ।

লেখক: শিক্ষার্থী, মা’হাদুল ইকতিসাদ ওয়াল ফিকহীল ইসলামী, ঢাকা

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ