fbpx
           
       
           
       
সবার জন্য কুরবানীর উদ্যোগ নিলো মানবতার সঙ্গী ‘আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’
জুলাই ২০, ২০২১ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

মোস্তফা ওয়াদুদ
নিউজরুম এডিটর

মানুষ সেবা পরম ধর্ম। যারা পরের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন তারা মহান। মানুষের মাঝে তারা বেঁচে থাকেন আজীবন। প্রিয় নবি সা. বলেছেন, ‘তোমরা মানুষের সেবা করো।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে নিজে পেট ভরে খায়, কিন্তু তার প্রতিবেশি উপোস থাকে সে পূর্ণ মোমিন নয়।’

মানুষের সেবার জন্য এর চেয়ে অন্যন্য কথা আর কী হতে পারে? প্রিয় নবি সা. সব সময় প্রতিবেশির খবর নিতেন। নিজে যা পছন্দ করতেন, নিজের প্রতিবেশি ভাইর জন্যও তা পছন্দ করতেন।

বাংলা ভাষার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘সবার জন্য কাঁদবো আমি, হাসবো সবার সুখে/ নিজের খাবার বিলিয়ে দিবো অনাহারির মুখে।’

প্রতিবেশি মুসলিমের জন্য প্রিয় নবির সা. আদর্শ যারা অনুসরণ করে তারা সমাজের শ্রেষ্ট ব্যক্তি। আর কবি কাজী নজরুলের এ ছন্দমাখা দুটি লাইন যারা ধারণ করতে পারেন তারা মহামানব।

হ্যাঁ! আজ আপনাদের শোনাবো তেমনি মানবতার সঙ্গী এক সংস্থার কথা। যারা সব সময় পরের জন্য কাজ করেন। নিজের উদয় ভরেই ক্ষান্ত হোন না। প্রতিবেশি ভাইয়ের মুখেও তুলে দেন ভালবাসা। বিলিয়ে দেন নিজের সাধ্যমতো অন্ন। এগিয়ে আসেন পরের সহযোগিতায়। মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এ সংস্থার নাম ‘আস-সুন্নাহ ফাউণ্ডেশন’। সংস্থাটির চেয়ারম্যান বিখ্যাত দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ।

তার নিজস্ব উদ্যোগে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার মতো উদার হৃদয়ের মানুষেরা সমাজের জন্য বড়ই প্রয়োজন।

সংস্থাটি মানুষের সুখে-দুখে পাশে থেকে সব সময় নিজেদের উজার করে দিয়েছেন। উপাধি লাভ করেছেন ‘মানবতার সঙ্গী’ হিসেবে। গত বছরের মতো এবছরও তারা উদ্যোগ নিয়েছেন ‘সবার জন্য কুরবানী’ প্রজেক্টের। এছাড়া আরও একাধিক কাজ করেছেন তারা। মানবতার সঙ্গী ‘আস-সুন্নাহ ফাউণ্ডেশন’ এর পরিচয় ও কার্যক্রম নিম্মে তুলে ধরা হলো।

শিক্ষা:
বিদগ্ধ ইসলামিক স্কলার ও যুগোপযোগী দাঈ তৈরির লক্ষ্যে সাধারণ ও দীনি শিক্ষার সমন্বিত সিলেবাসের মাদরাসা শুরু করছে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। এই মাদরাসার কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে এভাবে, যাতে নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছার পর প্রয়োজনীয় দীনি জ্ঞান অর্জিত হয়ে যাবে। এরপর শিক্ষার্থী পুরোপুরি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হতে পারবে, চাইলে মাদরাসায় উচ্চতর পড়াশোনাও অব্যাহত রাখতে পারবে। এরপর ফাউন্ডেশন পর্যায়ক্রমে ইসলামিক স্কুল ও কলেজ স্থাপনের কাজও করবে বলে জানা গেছে।

অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অংশ হিসেবে ২০২০ সালের শেষের দিকে সর্বসাধারণের জন্য ‘সীরাতপাঠ ও প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করেছে ফাউন্ডেশন। এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ৪০ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন। বিজয়ীদের মাঝে উমরাহসহ ১৮লক্ষ টাকার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিযোগীদের মাঝে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ৫০ হাজার দীনি বই বিতরণ করা হয়েছে।

দাওয়াহ:
মহান আল্লাহর অনুগ্রহে মাত্র দুই বছরে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বাংলাভাষীদের মাঝে অনলাইন ও অফলাইন দাওয়াহ ও বিশুদ্ধ দীন প্রচারে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ফাউন্ডেশনের ভেরিফাইড ইউটিউব চ্যানেল ও ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বিভিন্ন দীনী বিষয়ে সহস্রাধিক এইচডি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। যা থেকে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের দীনি জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে ‘শরয়ী সমাধান’ শিরোনামে ধারাবাহিক সাপ্তাহিক লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ঘণ্টাব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটির এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ পর্ব সম্প্রচারিত হয়েছে।

‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সকাল সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর’ নামে একটি বই ও ‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পরবর্তী মাসনূন দু’আ ও যিকর’ নামে একটি পকেট কার্ড দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক কপি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২৮ হাজার কপি ‘রামাদ্বান প্ল্যানার’ বিতরণ করা হয়েছে।

সেবা: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ফাউন্ডেশন যেসব সেবামূলক কাজ করেছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

করোনাকালীন সময়ে: ১০০৩ জন উবার রাইডার এবং ৩০০ সিএনজি চালককে ১ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা করা হয়েছে। কোভিড-১৯ এ পুঁজি হারানো ৫০জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ১টি করে ভ্যান ও নগদ ৫ হাজার টাকা পুঁজি প্রদান করা হয়েছে ও ১০০জন নারীকে ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪ হাজার পরিবারের মধ্যে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ত্রাণ বিতরণ: উত্তরবঙ্গের বন্যা-কবলিত বিভিন্ন জেলার ১৫০০-এরও বেশি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ এবং ১৫০ পরিবার ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন মসজিদ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় অনাহারে-অর্ধাহারে কাটানো গবাদি পশুর মালিকদের মাঝে খৈল ও ভূসি বিতরণ করা হয়েছে। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার সুজনের পাড়া চরে বন্যায় ভিটেহারাদের ৩০টি ঘর, ১৬টি টয়লেট ও ১৬টি টিউবওয়েল স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।

সবার জন্য কুরবানী: ৪০টি জেলায় স্বচ্ছলদের ৬৮টি গরু ও ২০৯টি কুরবানীর ছাগলের গোশত ৮১৯৩টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়।
ইফতার বিতরণ: দেশব্যাপী ১০৫,৫৮৫ জন রোযাদারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণ: দেশব্যাপী ২২,৩৩৫ জন শীতার্তের মঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ: দারিদ্র্য পীড়িত কয়েকটি জেলায় ১০৫০ টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০৫০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে।
নলকূপ স্থাপন: এ পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রত্যন্ত এলাকায় ১১২টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
ইয়াতীম ও বিধবা স্পন্সর: বিভিন্ন স্পন্সরগণের মাধ্যমে ২১জন ইয়াতীমের ভরণ-পোষণ এবং পড়াশোনাসহ যাবতীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ