fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
দেশে প্রচলিত ফ্ল্যাট বন্ধক: ইসলাম কী বলে?
জুন ১০, ২০২১ ৯:৪০ অপরাহ্ণ

মুফতি কাওসার আইয়ুব ।।

ফ্ল্যাট বন্ধক দিয়ে বন্ধক গ্রহীতার উপকার গ্রহণ করা শরীয়তে নিষিদ্ধ। কেননা এটা ঋণ দিয়ে উপকার গ্রহণ করার মত, যা শরীয়তে সুদের অনুরূপ বলে বিবেচনা করে। তাই টাকা ঋণ দিয়ে ফ্ল্যাট ভোগ করা এবং সময় শেষে ঋণ উসুল করার সময় কিছু কম উসুল করার এ প্রচলিত রীতি ভুল এবং এ চুক্তি অবৈধ। তবে ওলামায়ে কেরাম বন্ধকী ফ্লাট থেকে উপকার লাভের কিছু বৈধ পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।

১. চুক্তিকারীদয় বন্ধকী চুক্তি না করে “বাইবিলওফ” করতে পারে এর বিবরণ হচ্ছে, প্রথমে ফ্লাটের মালিক টাকার মালিকের কাছে মৌখিক ফ্ল্যাট বিক্রি করবে। পরবর্তীতে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করবে যে, নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে যাবার পর ফ্লাটের মালিক টাকা ফেরত দিলে বন্ধক গ্রহীতা ফ্লাট ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হচ্ছে, ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার আলাদা চুক্তি হতে হবে। প্রথম চুক্তির সাথে শর্তযুক্ত হলে বৈধ হবে না।

২. মুজারাআ এর চুক্তি করবে। এর পদ্ধতি হচ্ছে, বন্ধকী চুক্তি করার পর পরবর্তী মজলিসে বন্ধক গ্রহীতা বলবে, তুমি জমিটা আবাদ করার জন্য আমাকে দাও এতে যা শস্য আসবে তার অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ আপনাকে দিব বাকিটা আমার। এক্ষেত্রেও শর্ত হচ্ছে মুজারাবার চুক্তিটা আলাদা চুক্তি হতে হবে এবং পূর্বের চুক্তির সাথে শর্তযুক্ত না হতে হবে।

৩. উত্তম এবং পছন্দনীয় পদ্ধতি হচ্ছে, বন্ধকী চুক্তি না করে ইজারা বা লিজ চুক্তি করবে এর বিবরণ হচ্ছে, প্রথমে ফ্ল্যাট মালিকের কত টাকা প্রয়োজন সেটা নির্ধারণ করবে। উদাহরণস্বরূপ এক লক্ষ টাকার প্রয়োজন তারপর প্রতিবছরে ফ্ল্যাটের ভাড়া নির্ধারণ করবে। উদাহরণস্বরূপ ৫০০০ টাকা এখন হিসাব করবে প্রতি বছর পাঁচ হাজার টাকা করে একলাখে কতো বছরের ভাড়া দেয়া যায়। এ হিসেবে ২০ বছরের জন্য ভাড়া দেয়া যায়। ২০ বছরের জন্য ভাড়া দিয়ে দিবে।

এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষণীয় প্রথম, ২০ বছরের পূর্বে যদি ফ্ল্যাটের মালিক টাকা ফেরত দেয় তাহলে বিগত বছরগুলোর টাকা ভাড়া হিসেবে রেখে বাকি টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। দ্বিতীয়, ফ্ল্যাটের প্রচলিত ভাড়া থেকে কম করা যাবে। তবে নামিক মূল্যে ভাড়া নিলে হবে না। একটা সুলুভ মূল্য নির্ধারণ করবে।

আর পূর্বে থেকে প্রচলিত বন্ধকি চুক্তি থাকলে পূর্বের চুক্তি বাতিল করে নতুন করে ইজারা বা লিজ চুক্তি করবে।

প্রমাণ- ১. আহকামুল কুরআন লিল জাসাস খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৫৩১। ২. রদ্দুল মুহতার , খন্ড১০ পৃষ্ঠা ৮২। ৩. সরহুল মাজাল্লাহ খন্ড ২ পৃষ্ঠা ১৮২। ৪. ফতোয়ায়ে উসমানী খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ৪২২।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ