fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
কওমি মাদরাসা খোলার প্রস্তুতি: যা ভাবছেন বোর্ডের দায়িত্বশীলগণ
মে ২৮, ২০২১ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

।।মোস্তফা ওয়াদুদ।।
নিউজরুম এডিটর।।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্বের ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ জুন ২০২১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ বর্ধিতকরণ এবং ১৩ জন ২০২১ তারিখ হতে খোলা রাখা প্রসঙ্গে’ এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে দেশের সকল স্কুল কলেজ ভার্সিটি খোলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সারাদেশের কওমি মাদরাসার ছাত্ররা উদগ্রীব হয়ে জানতে চাচ্ছে, ‘কওমি মাদরাসা খোলার প্রস্তুতি নিয়ে কী ভাবছে বোর্ডের দায়িত্বশীলরা?’

এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক বোর্ডগুলোর দায়িত্বশীলদের কাছে। আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অন্যতম সদস্য ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠিত ‘আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আব্দুল হালিম বোখারী বলেন, ‘সরকার যখন অনুমতি দিবে তখনই মাদ্রাসাগুলো খুলবে। এর বাইরে আমি আর কোনো কথা বা কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইয়াতুল উলিয়ার সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানসহ আমাদের শীর্ষ মুরুব্বিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা খোলার ব্যাপারে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আশা করছি, আগামী মাসের ১৩ তারিখ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের কওমি মাদরাসাও তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

এদিকে তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রাহমানী বলেন, ‘যেহেতু আমাদের মাদরাসাগুলোর একটি সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইয়াতুল উলিয়া আছে এবং এর চেয়ারম্যান মহোদয় এখনো আমাদের কিছু জানাননি। হাইয়াতুল উলিয়া বা এর চেয়ারম্যান মহোদয় যখন আমাদের মাদরাসা খোলার প্রস্তুতি নিতে বলবেন আমরা তখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করবো।’

সিলেটের আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ এর মহাসচিব মাওলানা আব্দুল বছির বলেন, ‘মাদ্রাসাগুলো খোলার জন্য এর আগেও কয়েকবার মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন আমাদের মুরুব্বিগণ। কিন্তু সরকার তাদের কথায় কোন ধরনের কর্ণপাত করেনি। তবে শত কিছুর পরেও আগামী ১৩ জন যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার মাঝে মাদ্রাসাও শামিল বলে আমি মনে করি। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত। সে হিসাবে আমাদের বোর্ডের আন্ডারে যে সকল মাদরাসাগুলো রয়েছে, সেগুলোর ছাত্র-শিক্ষকদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য শীঘ্রই আমরা আহ্বান জানাব।

সদ্য প্রতিষ্ঠিত তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ এর সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম মাদ্রাসা খোলার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে। তিনি জানান, আমরা যখন কার্যক্রম শুরু করি তখন বড়রা আমাদের বলেছেন যে, মাদ্রাসার খোলার বিষয়টা তারা দেখছেন। তারা যেহেতু আমাদের বড়, তাই তাদের কথা মেনে আমরা আর এই বিষয়ে কোনো কাজ করিনি। সুতরাং আমাদের কাজে কোনো অগ্রগতি নেই। আপাতত আমরা চুপ আছি। তবে সরকার থেকে যখন স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা আসবে, তখনই মাদরাসা খোলার প্রক্রিয়া চালু করা হলে ভালো হবে বলে আমি মনে করি।

এদিকে জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের মহাসচিব ও আলহাইয়াতুল উলিয়ার অন্যতম সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আলী বলেন, যখন স্কুল-কলেজগুলো খোলার প্রস্তুতির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে আমাদের হাইয়াতুল উলিয়ার নেতৃবৃন্দও দৌড়ঝাঁপ করে মাদ্রাসাগুলো খোলার প্রস্তুতি নেয়ার কাজ চালু রাখা উচিত। মাদরাসা খোলার ক্ষেত্রে যত ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেগুলো নেয়া উচিত বলেই আমি মনে করছি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেফাকের একজন সিনিয়র দায়িত্বশীলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমরা মাদ্রাসাগুলো খোলার বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত আছি। সরকারের পক্ষ থেকে যখন ঘোষণা আসবে এবং আমাদের ৬ বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইয়াতুল উলিয়ার পক্ষ থেকে যখন নির্দেশনা আসবে, আমরা তখনই মাদ্রাসাগুলো খুলে দিব এবং খোলার জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা নিচ্ছি। আমাদের প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে কোন রকমের ঘাটতি নেই।’

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ